আয়োডিনের অভাবে কি কি সমস্যা হয়

 আয়োডিনের অভাবে কি কি সমস্যা হয়

আয়োডিনের অভাব শরীরে বিভিন্ন রোগ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোনগুলো বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, 

আয়োডিনের-অভাবে-কি-কি-সমস্যা-হয়

এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়তা করে। আয়োডিনের অভাব শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নিচে আয়োডিনের অভাবে সৃষ্ট ১০টি প্রধান সমস্যার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

সূচিপত্র ঃআয়োডিনের অভাবে কি কি সমস্যা হয়

গলগণ্ড রোগ (গলার স্ফীতি)

আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদন করতে পারে না, ফলে মস্তিষ্ক থেকে থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোন (TSH) এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত TSH থাইরয়েড গ্রন্থিকে বাড়িয়ে দেয়, যা গলগণ্ড রোগের কারণ হয়। গলগণ্ডের প্রাথমিক লক্ষণ হলো গলার সামনে থাইরয়েড গ্রন্থির স্ফীতি, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়।  

হাইপোথায়রয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের অভাব)

আয়োডিনের ঘাটতির কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করতে পারে না, যা হাইপোথায়রয়েডিজমের কারণ হয়। এই অবস্থায় শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়, ফলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, ত্বক শুষ্কতা, ঠান্ডা সহ্য করতে অক্ষমতা, এবং মেজাজের পরিবর্তন দেখা দেয়।  

প্রজনন সমস্যা

গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যা বুদ্ধির বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া, গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, এবং অপরিণত শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুর জন্মের পর আয়োডিনের অভাব তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।  

বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা

আয়োডিনের অভাবে শিশুদের বুদ্ধির বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বা মূর্খতা (ক্রিটিনিজম) এর কারণ হতে পারে। 

আয়োডিনের-অভাবে-কি-কি-সমস্যা-হয়

এই অবস্থায় শিশুর বুদ্ধিমত্তা কমে যায়, যা তাদের শিক্ষাগত ও সামাজিক জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে।  

শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত

আয়োডিনের অভাবে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, যা তাদের উচ্চতা ও ওজনের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। এছাড়া, হাড়ের গঠন ও শক্তি কমে যায়, যা হাড় ভঙ্গুরতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।  

হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি

আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই অবস্থায় হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়, রক্তচাপ কমে যায়, এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হয়।  

কোষ্ঠকাঠিন্য

আয়োডিনের অভাবে অন্ত্রের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। এই অবস্থায় মলত্যাগে সমস্যা হয়, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি অনুভূত হয়।  

ত্বক ও চুলের সমস্যা

আয়োডিনের অভাবে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়, এবং চুল পাতলা হয়ে যায় বা পড়ে যায়। এছাড়া, ত্বকে র্যাশ বা চুলকানি দেখা দিতে পারে।  

মেজাজের পরিবর্তন

আয়োডিনের অভাবে মেজাজের পরিবর্তন দেখা দেয়, যেমন বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, এবং মানসিক অবসাদ।

আয়োডিনের-অভাবে-কি-কি-সমস্যা-হয়

এই অবস্থায় ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, যা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে।  

গর্ভাবস্থায় সমস্যা

গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, এবং ভ্রূণের বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, শিশুর জন্মের পর তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।  

শেষকথা ঃ আয়োডিনের অভাবে কি কি সমস্যা হয়

আয়োডিনের অভাব শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, যা স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সঠিক পরিমাণে আয়োডিন গ্রহণের মাধ্যমে এসব সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম, এবং অন্যান্য আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। 

আয়োডিনের অভাবের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উপরের কনটেন্টটি পুরোপুরি করলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন আয়নের অভাবে কি কি সমস্যা হয়। প্রতিদিন নতুন নতুন পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url