খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

খেজুর অনেক সুস্বাদু একটি খাবার। ছোট বড় ছেলে বড় সবারই পছন্দের তালিকায় রয়েছে  এই খাবারটি। সাধারণত মরুভূমির দেশে খেজুরের গাছ বেশি দেখা যায়। 

খেজুর-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-নিয়ম

সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান ইত্যাদি অনেক দেশে বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের চাষ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে খেজুরের চাষ এখনো বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়নি তবে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাই সেটা সম্ভব হতে পারে। খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে পোস্টটি পুরোপুরি পড়ুন আশা করি সকল ধারনা পেয়ে যাবেন খেজুর সম্পর্কে। 

সূচি পত্র ঃ  খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

 খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

অতি প্রাচীন কাল থেকে খেজুর একটি জনপ্রিয় খাবার। অন্য ফলের চেয়ে খেজুরের উপকারিতা রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ। খেজুরের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, ওজন বাড়াতে সাহায্য করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। 

আমরা এসব কার্যকারি উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকি কারণ  নিয়মিত খেজুর না খাওয়া আর খেজুর কখন কিভাবে কতটা পরিমাণে খেতে হবে তা না জানার কারণে।খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু ও রুচিশীল একটি ফল যা ফ্রুকটুস ও ব্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। খেজুরে রয়েছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

আরও পরুনঃ  টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

খেজুর রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াই। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। এতে  রয়েছে উপকারি তেল,ক্যালসিয়াম, সালফার,আইরন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, কপার এবং আরো নানাবিধ খনির। রয়েছে উপকারি ভিটামিনও আনান খনিজ সমৃদ্ধ এই খেজুর বিশেষ করে পুরুষ দেহে নানান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

এনটিঅক্সিডেন্ট গুলির কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে মুক্তি পেতে উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, আল-জাইমার এবং হৃদরোগ। খেজুরগুলির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অবশিষ্টের কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার উন্নতির জন্য ভালো বলে বিবেচিত হয়।

খেজুর শরীরে শক্তি যোগায়

নিয়মিত  চার থেকে পাঁচটি খেজুর খেতে পারলে শরীরের শক্তি দ্রুত বাড়তে শুরু করবে। এবং আপনার শারীরিক দুর্বলতা রুমে যেতে শুরু করবে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকি যার ফলে অনেক শক্তি ব্যয় হয়ে থাকে। তাই শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য সব ধরনের খাবারের মধ্যে খেজুর অন্যতম। 

কারণ খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, সরকরা,ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম,আয়রন,ফসফরাস, পটাশিয়াম সহ আরও অনেক কার্যকারী উপাদান। ফলে খেজুর শরীরে যথেষ্ট শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় এটিতে রয়েছে এমন সব উপাদান যার তাৎক্ষণিক ভাবে শক্তির  ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে। 

খেজুর হাড় মজবুত করে

নিয়মিত খেজুর খেলে হাড় সুস্থ ও মজবুত থাকে এবং হাড়ের দুর্বলতা চলে যায়। আমরা অনেকেই হারের দুর্বলতা অনুভব করি ফলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। হাড় সুস্থ ও মজবুত রাখতে খেজুরের উপকারিতা অতুলনীয়।

খেজুর-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-নিয়ম

এতে ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানি, প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এই সকল খনিজ উপাদান হাড়ের সুস্থতার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই ছোট বড় সকলের নিয়মিত খেজুর খাওয়া প্রয়োজন। 

খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

সহজে যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সমাধান করতে চান তাহলে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি করে ভালো মানের খেজুর খেতে পারেন। খেজুরে থাকা বিভিন্ন কার্যকারী উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে। 

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর খেতে পারেন অথবা রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেজুর খেতে পারেন। তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কে সহজেই মুক্তি পাবেন। 

খেজুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে

যাদের ওজন অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যেতে শুরু করেছে, তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন খেজুর খেতে পারেন। আমি তো চার থেকে পাঁচটি খেজুর খেলে দুই মাস পরে দেখবেন আপনার ওজন বাড়তে শুরু করেছে। অনেকে ওজন কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।

আরও পরুনঃ  দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়

 ঠিক তেমনি কিছু মানুষ আছেন, তারা ওজন বাড়ানোর জন্য উপায় খুঁজতে থাকেন। তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, তার মধ্যে অন্যতম উপাদান হচ্ছে খেজুর। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে যা শরীরে ভাঙ্গন রোধ করে ও ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

খেজুর উচ্চ রক্তচাপ কমায়

খেজুর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ রক্তচাপের মত সমস্যায় ভুগছেন কিন্তু আপনি জানেন কি কিছু প্রাকৃতিক খাবার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আর সেগুলোর মধ্যে খেজুর সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। 

খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই যাদের এই সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি করে খেজুর খেতে পারেন। এতে যথেষ্ট উপকার পাবেন এছাড়াও শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। 

খেজুর স্কিন ভালো রাখে

আপনার স্ক্রিনে সুস্থ সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখতেও খেজুরের উপকারিতা অনবদ্ধ। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চার থেকে পাঁচটি খেজুর খেতে পারেন। আপনার স্কিন সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য কারণ খেজুর একটি পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ খাবার। এটিতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন প্রোটিন ক্যালসিয়াম সহ আরো অনেক কার্যকারী উপাদান। যা বিভিন্ন সমস্যা দূর করার পাশাপাশি ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। 

খেজুর দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে

চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতে খেজুর যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। আমাদের অনেকেরি চোখে নানা রকম সমস্যা হওয়ার কারণে দৃষ্টি শক্তি কমে যেতে থাকে। প্রতিদিন খেজুর খেতে পারলে ধীরে ধীরে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

আরও পরুনঃ কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কি খাওয়া উচিত

কারণ খেজুরে রয়েছে ভিটামিন এ, জিয়াজেন তিন, লিউটিন সহ আরো কিছু কার্যকারী উপাদান যারেটিনার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে চোখে দৃষ্টি শক্তি বাড়তে শুরু করে এবং খেজুরে থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 

খেজুর গ্লুকোজের অভাব দূর করে

আপনার শরীরে গ্লুকোজ এর অভাব  ঘটলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই গ্লুকোজ এর অভাব কার্যকরী ভাবে দূর করে এমন খাবার খাওয়া উচিত। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খেজুর। 

দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দেয়গ্লুকোজের ঘাটতি দূর করার জন্য চার থেকে পাঁচটি খেজুর ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নিতে পারেন। 

খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডায়ারি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে খেজুর খেলে শরীরে এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে ফলে আপনার হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। 

আরও পরুনঃ   সকালে  খালি পেটে মেথি খাওয়ার উপকারিতা

ছাড়াও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি  করতে অ্যানিমিয়ার মত রূপকে দূর করতে যকৃত ও পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে এবং খেজুরে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট যা একাধিক রোগকে দূর করতে সাহায্য করে। 

এছাড়াও খেজুরের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে এইসব উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য নিয়মিত সকালে চার থেকে পাঁচটি পরিষ্কার ও ভালো মানের খেজুর খেতে পারেন।

খেজুর খাওয়ার অপকারিতা

সবার প্রথমে যেটা আসছে সেটা হলো ডায়বেটিস। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়া উচিত নয়। কারণ খেজুর ব্লাডে গ্লুকোজের মাত্রা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই খেজুর ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খাওয়া  উচিত নয়। 

খেজুর-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-নিয়ম

এর সঙ্গে সঙ্গে যাদের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি থাকে তাদের এই খেজুর খাওয়া উচিত নয়। কারণ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। তাই এতে  শরীরের পটাশিয়ামের মাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

যার ফলে আমাদের শরীরে নানা রকম কমপ্লিকেশন্স দেখা দিতে পারি যেমন নজিয়া, ভোমেটিং টেন্ডেন্সি, এইসব কমপ্লিকেশন্স গুলো দেখা দিতে পারে। তাই এই সব সমস্যা কারো যদি থেকে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এগুলো জেনে বুঝে তারপরে খেজুর খাবেন।

শেষ কথা : খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম 

ওপরের কনটেন্টি পুরোপুরি পড়লে আশা করি বুঝতে পেরেছেন খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম গুলো সম্পর্কে। আরো জানানোর চেষ্টা করেছি খেজুর কিভাবে আমাদের শরীরের শক্তি যোগায়, হাড় মজবুত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

আরও পরুনঃ অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি 

এছাড়াও খেজুর আমাদের ওজন কমাতে সহায়তা করে। শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং আমাদের স্কিন ভালো রাখে। এছাড়াও খেজুর আমাদের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে শরীরে গ্লুকোজ এর অভাব দূর করে এবং প্রতিরোধে সহায়তা করে খেজুর। 

এছাড়াও খেজুর খাওয়া কিছু অপকারিতা রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি আশা করি খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা পেয়েছেন। প্রতিদিন নতুন নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url