তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম
তিসিবীজের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। মানুষ তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার জন্য এবং ছোটখাটো অনেক রোগ সারানোর জন্য অনেক আগ থেকেই তিসি বীজের ব্যবহার করে আসছে।
যদি আপনি তিসি বীজের সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সঠিক পোস্টের ভেতরে এসেছেন। আজকের আলোচনার মূল বিষয় তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম। পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি তিসি বীজ সম্পর্কে সকল ধারণা পেয়ে যাবেন।
সূচি পত্র ঃ তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম
- তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম
- তিসি বিজ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণ করে
- ফাইবারের চাহিদা মেটে
- কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
- তিসি বীজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
- তিসি বীজ ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘট
- তিসিবীজ খিদে কমায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
- তিসিবীজ সুগার নিয়ন্ত্রণ করে
- তিসির বীজে উচ্চমানের আমিষ পাওয়া যায়
- তিসের বীজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- তিসি বীজ খাওয়ার অপকারিতা
- শেষ কথা
তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম
প্রাচীন কাল থেকে শরীরকে সুস্থ এবং রোগ মুক্ত রাখতে তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম। কৃষি বীজের উপকারিতা প্রচুর। তিসের বীজ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে, এবং ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।
একাধিক গবেষণা অনুসারে জানা যায় মাত্র এক চামচতিসি বীজ খেলেই শরীরে প্রবেশ করে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও মেগা থ্রি ফাটিয়াসিড বিভিন্ন রকম ভিটামিন উপাদান। ছাড়াও আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদিতো আছেই। এই সব উপাদানগুলি শরীরে প্রবেশ করার ফলে ছোট বড় একাধিক রোগ ব্যাধি ধারের কাছে আসতে পারে না। ফলে খুব সহজেই সুস্থ থাকা যায়।
তিসি বিজ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণ করে
শরীরকে সবদিক থেকে সুস্থ রাখতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের কোন বিকল্প হয় না। বিশেষ করে এ্যাংজাইটির প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটাতে, ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে, হৃদ যন্ত্র সুস্থ রাখতে, তিসির বীজ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
আরও পড়ুন ঃ খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
তবে এখানেই শেষ নয় বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে নিয়মিত কয়েক চামচ তিসি বীজ খাওয়া শুরু করলে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে কোন ধরনের অটো ইমিউন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। শুধু তাই নয় শরীরে এই উপাদানটির মাত্রা বাড়তে থাকলে ক্যান্সারের মতো মারান রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রায় ৫০% কমে যাই। প্রায় ছয় হাজার জনের ওপরে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে তিসি বীজে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি আরো এমন কিছু উপাদান থাকে যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র বিভিন্ন রকমের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।
ফাইবারের চাহিদা মেটে
মাত্র এক চামচ কৃষিবিজে রয়েছে কমবেশি ৩ গ্রাম ফাইবার। যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই নানা রকম পেটের প্রকোপ কমতে যেমন সময় লাগে না তেমনি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। সঙ্গে আরো কিছু উপকার পাওয়া যায় যেমন-
রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, এবং লিভারের কর্ম ক্ষমতা বেড়ে যায়।
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তিন চামচ করে তিসি বীজ খাওয়া শুরু করলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা প্রায় ২০% কমে যায়। অন্যদিকে উপকারী কোলেস্টেরল বা এইচ, ডি, এল, এর মাত্রা প্রায় 15% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে,
আরও পড়ুন ঃ টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
ফলে আপনার হৃদযন্ত্রে কোনরকম ক্ষতি হওয়াার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যে বেশ কয়েক বছরে হৃদরোগে আক্রান্তের মাত্রা যেই হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের প্রত্যেকের যে নিয়মিত তিসি বীজ খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
তিসি বীজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে গত ১০ বছরে আমাদের দেশে যেসব রোগের প্রকোপ চোখে পড়ার মত বৃদ্ধি পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো হাই ব্লাড প্রেসার। তবে এখানেই শেষ নয় যেই হারে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে তাতে আগামী দশ বছরের মধ্যে আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ এ রোগের শিকার হতে পারে বলে সংখ্যা করছেন চিকিৎসকরা।
এমন পরিস্থিতিতে ছেলে-মেয়ে সকলেরই নিয়মিত তিসিবীজ খাওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে। কারণ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ৩০ গ্রাম তিসি বীজ রাখলে রক্ত চাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসতে সময় লাগে না। তাই যাদের পরিবারের এই মারান রোগের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত তিসিবীজ খেতে পারেন।
তিসি বীজ ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
নিয়মিত কয়েক চামচ করে তিসি বীজ খাওয়া শুরু করলে শরীরের ভিতরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যার প্রভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
সেই সঙ্গে বলিরেখা কমতেও সময় লাগে না এর ফলে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাই চোখে পড়ার মতো। ডারমাটোলজিস্টদের নিয়মিতো এই প্রাকৃতিক খাবারটি গ্রহণ করলে scalp এর রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়।এর ফলে মাত্রা অতিরিক্ত হারে হেয়ার ফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাই
বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে তিসিবীজে উপস্থিত অ্যামাইনো এসিড,এ্যাসপার্টিক অ্যাসিড শরীরে প্রবেশ করা মাত্র দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে সময় লাগে না। এর ফলে ছোট বড় কোন রোগ ধরের কাছে আসার সাহস পাই না।
আরও পড়ুন ঃ দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
সেই সঙ্গে কোন ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তবে এখানেই শেষ নয়, এই প্রাকৃতিক উপাদানে মজুদ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা দেহের ভেতরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তিসিবীজ খিদে কমায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
আপনি যদি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে নিয়মিত তিসির বীজ খেতে পারেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে ২.৫ গ্রাম তিসির পাউডার পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে পেট ভরা থাকে ও খিদে দূর হয়। এর ফলে খুব সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তিসিবীজ সুগার নিয়ন্ত্রণ করে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে টাইপ টু ডায়াবেটিসের রোগীরা যদি ১০ থেকে ২০ গ্রাম তিসিবীজ একমাস ধরে নিয়মিত খাবারের সাথে মিশিয়ে খেয়ে থাকেন তাহলে তাদের সুগার ১০ -২০% কমে যায়।
গবেষকদের মতে টাইপ টু ডায়াবেটিসের রোগীদের খাদ্য তালিকায় তিসির বীজ অন্তর্ভুক্ত করলে ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। তাই যারা ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত তাদের নিয়মিত তিসির বীজ খাওয়া উচিত এতে অবশ্যই উপকার পাবেন।
তিসির বীজে উচ্চমানের আমিষ পাওয়া যায়
তিসির বীজ হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের একটি ভালো উৎস। তিসির বীজের আমিষ খুব উচ্চমানের এতে আছে প্রচুর আর্জেনিন নামক একটি এমাইনো এসিড এবং গ্রুটামেক এসিড। এছাড়াও অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে তিসির বীজের আমিষ কোলেস্টেরল কম করে এবং টিউমার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
তিসের বীজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম
মূলত দুইভাবে তিসির বীজ খাওয়া যেতে পারে।
প্রথমত দুই থেকে তিন চামচ করে নিয়মিত তিসি বীজের গুড়ো খেতে পারেন। আর যদি আপনার তিসির বীজের গুড়ো খেতে ইচ্ছে না করে, তাহলে তিসির বীজ থেকে তেল তৈরি করে খেতে পারেন।
আরও পড়ুন ঃকোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কি খাওয়া উচিত
তবে এই ক্ষেত্রে একটি জিনিস জেনে রাখা কান্ত প্রয়োজন। তা হল দোকান থেকে কিনে তিসির বীজের পাউডার খেতে পারেন। কিন্তু এই পাউডার বেশি দিন তাজা থাকে না। ফলে এমন জিনিস খেলে উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।এই কারণেই নিয়মিত বাড়িতে তিসির বীজ গুড়ো করে খাওয়া উচিত।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতটুকু পরিমানে তিসিবিজের গুড়ো খেতে পারবেন
গবেষকদের মতে প্রতিদিন ৫ টেবিল চামচ বা ৫০ গ্রামের কম তিসির বীজ খাওয়া প্রয়োজন।
তিসি বীজ খাওয়ার অপকারিতা
তোদেরকে সুস্থ রাখতে তিসি বীজের কোন বিকল্প হয় না বললেই চলে। তবে বেশি মাত্রায় যদি এই প্রাকৃতিক খাবারটা খাওয়া যায় তাহলে কিন্তু বিপদ হতে পারে। কারণ সেই ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠতে পারে।যেমন-
পেট খারাপ হতে পারে
তিসিবীজে উপস্থিত ফাইবার শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নানা রকম পেটের রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
কিন্তু বেশি মাত্রায় তিসি বীজ খাওয়া শুরু করলে একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটতে পারে। এই ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার মত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই দিনে ২-৩ চামচের বেশি তিসির বীজ খাওয়া উচিত নয়।
এছাড়াও বেশ কিছু অসুবিধা হতে পারে, বেশি পরিমাণে তিসির বীজ খাওয়া শুরু করলে একদিকে ব্লাড প্রেসার বিপদ সীমার নিচে নেমে যাওয়ার ভয় থাকে। তেমনি এলার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে, তলপেটে ব্যথা, মাথা ঘুরানো, এবং বারে বারে বমি।
তাই বেশি পরিমাণে পি সি বীজ খাওয়া উচিত নয়। এবং এর সাথে আরেকটি বিষয় আমাদের অবশ্যই জানা উচিত, প্রেগন্যান্ট মহিলাদের এই প্রাকৃতিক খাবারটি খেতে নিষেধ করেন চিকিৎসকরা। তাই যারা প্রেগন্যান্ট মহিলারা আছেন তারা এই তিসি বীজের গুঁড়ো খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
শেষ কথা ঃ তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম
উপরের কনটেন্টই পুরোপুরি পড়লে আশা করি বুঝতে পেরেছেন কৃষি বীজের উপকারিতা ও
খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। আরো জানানোর চেষ্টা করেছি তিসিবীজ অমেগা থ্রি
ফাটি এসিডের চাহিদা পূরণ করে, ফাইবারের চাহিদা মেটাই এবং কোলেস্টোলের মাত্রা
নিয়ন্ত্রণ করে।
তিসি বীজ ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। এছাড়াও তিসি বীজ খিদে কমায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে তিসি বীজে যে উচ্চ মানের আমিষ পাওয়া যায় যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
এছাড়াও জানানোর চেষ্টা করেছি তিসি বীজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং তিসি বীজ খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে। উপরের কনটেন্টি পুরোপুরি পড়লে আশা করি বুঝতে পেরেছেন তিসি বীজের উপকারিতা ও খাবার নিয়ম সম্পর্কে। প্রতিদিন নতুন নতুন ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url