ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন
ভিটামিন এক শ্রেণীর জৈব যৌগ যা বিভিন্ন খাদ্যে কিছু মাত্রাই থাকে ও জীবের পুষ্টি সাধনে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সম্পর্কে অনেকের ধরনের প্রশ্ন মাথায় আসে। কেউ মনে করেন কেন ভিটামিন খাব, আবার কেউ বলেন কিভাবে ভিটামিন খাব।
কখন ভিটামিন খাব ইত্যাদি। আপনি যদি ভিটামিন সম্পর্কে জানতে চান সঠিক পোস্টের ভেতরে এসেছেন। পুরো পোস্টে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি বুঝতে পারবেন ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন।
সূচি পত্রঃ ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন
- ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন
- ভিটামিন কি বা কাকে বলে
- ভিটামিনের প্রকারভেদ
- ভিটামিনের অভাবে কি রোগ হয়
- কোন খাবারে ভিটামিন পাওয়া যায়
- শেষ কথা
ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন
ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন জেনে নিন। ভিটামিন কে খাদ্য প্রাণ বলা হয়। যে খাদ্যগুলো আমরা প্রতিদিন খাচ্ছি অর্থাৎ যে খাদ্য উপাদান খাদ্যে অল্প পরিমাণে থেকে মানব দেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাকেই সাধারণত আমরা ভিটামিন বলে থাকি।
আরও পরুনঃভিটামিন ই ক্যাপসুল এর ব্যবহার
ভিটামিন কে বাংলায় বলা হয় খাদ্য প্রাণ কথাটা শুনলেই মনে হয় যে ভিটামিন আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এক প্রকার জৈব অনুঘটক, যা বিপাক ক্রিয়ার কো এনজাইম রূপে কাজ করে। ভিটামিন সাধারণ খাদ্যে খুব সীমিত পরিমাণে থাকে। ভিটামিন পরিপাক ক্রিয়ায় নষ্ট হয় না।
উচ্চ তাপমাত্রায়, জারন ক্রিয়ায় এবং রান্না করার সময়,তীব্র সূর্যের আলোতে,কিছু কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায় বা তাদের কার্যকারিতা কমে যায়। একটি ভিটামিনের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য অন্য ভিটামিন থেকে আলাদা হয়ে থাকে । কোন ভিটামিন প্রোটিন জাতীয়, কোনটি অ্যালকোহল জাতীয়, আবার কোনোটি ইস্টের ওয়েট জাতীয়।
ভিটামিন কি বা কাকে বলে
ভিটামিন এক প্রকার জৈব যৌগ যা দেহের পুষ্টি সাধনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খাদ্য প্রাণ হলো জৈব খাদ্য উপাদান। সাধারণত খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থাকে। দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দেহে ভিটামিনের অভাব হলে বিভিন্ন প্রকার রোগ এর প্রাদুর্ভাব হয়।
এটি একটি অর্গানিক কম্পাউন্ড যা আমাদের দেহে খুব অল্প মাত্রায় প্রয়োজন হয়। দেহে অল্প মাত্রায় প্রয়োজন হলেও এদের কাজ কিন্তু অনেক বেশি। কারণ ভিটামিন আমাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধ করা এছাড়াও দেহের ছোট বড় সকল কাজই এই ভিটামিন করে থাকে।
ভিটামিনের প্রকারভেদ
ভিটামিন প্রধানত দুই প্রকার হয়ে থাকে
১.Lipid-soluble
২.Water-soluble
Lipid-soluble
ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বাদে বাকি সকল ভিটামিন লিপিড সলু বল। লিপিড সলু বল এর কার্য পদ্ধতি একটু ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কেননা এরা সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে না। আমরা যখন লিপিড সলু বল ভিটামিন গ্রহণ করিতখন সেটা সরাসরি পাকস্থলীতে চলে যায় এবং সেখান থেকে অন্ত্রে।
আরও পরুনঃ ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
অন্ত্রের মাধ্যমে এরা অ্যাবজর্ভ হয় কখনোই ভিটামিন সরাসরি আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে যায় না। এই লিপিড সলু বল ভিটামিন সব সময় আমাদের শরীরের ফ্যাটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এবং পরবর্তীতে এড হয় ছেলের সঙ্গে। এবং শরীরের যেখানেই ভিটামিনের প্রয়োজন হয় সেইখানে পৌঁছে কার্য সম্পাদন করে।
Water-soluble
ওয়াটার সলু বল এর তালিকায় রয়েছে ভিটামিন সি, এবং ভিটামিন বি। ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি ওয়াটার স্যালিবুল হওয়ায় এটা সরাসরি আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। ভিটামিন বি এর আরো আটটি ভাগ রয়েছে এদের একত্রে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়।
ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি তরল আকারে কোন শাকসবজি কিংবা ফলের সঙ্গে মিশে থাকে। যখনই আমরা এসব ফল কিংবা শাকসবজি গ্রহণ করি তখন সরাসরি ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এবং শরীরের যেখানে সে ভিটামিন গুলোর প্রয়োজন রয়েছে সেখানে পৌঁছে যায়।
আরও পরুনঃ কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
ওয়াটার সলিবল ভিটামিনের কিছু সমস্যা রয়েছে যেমন ভিটামিন সি যা কখনোই আমাদের দেহে সঞ্চিত হয় না। এরা যত সহজে আমাদের রক্ত প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাই ঠিক একই ভাবে প্রথমে কিডনির মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ইউরিনের মাধ্যমে দেহের বাইরে চলে আসে। তাই প্রতিদিন ওয়াটার সলু বল ভিটামিন আমাদের গ্রহণ করা উচিত।
ভিটামিনের অভাবে কি রোগ হয়
ভিটামিন এ =রাতকানা, জেরপ থ্যালামিয়া।
ভিটামিন বি১ =বেরি বেরি
ভিটামিন বি ২=ঠোঁটে ঘা, জিহ্বায় ঘা।
ভিটামিন বি ৩ =পেলেগ্রা
ভিটামিন বি ৫=ডার্মাটাইটিস
ভিটামিন বি ৬ =রক্তস্বল্পতা, স্নায়ুর দুর্বলতা।
ভিটামিন বি ৭ =চর্মরোগ, চুল পড়া।
ভিটামিন বি ১২=পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়া
ভিটামিন সি =স্কার্ভি, পাইরিয়া।
ভিটামিন ডি =রিকেট,অস্ট্রিওমালেশিয়া।
ভিটামিন ই =বন্ধ্যাত্ব, জননাঙ্গের বৃদ্ধি ব্যাহত।
ভিটামিন কে =রক্ত জমাট বাঁধতে
কোন খাবারে ভিটামিন পাওয়া যায়
ভিটামিন এ= পেঁপে, আনারস, আম, কাঁঠাল, আমড়া, পেয়ারা, লেবু, জাম, গাজর, কুমড়ো, জামরুল, বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি
ভিটামিন বি =মাছ, যেকোনো ধরনের সিফুড, মাংস, শস্য দানা, ডিম,এবং সবুজ শাকসবজি।
ভিটামিন সি =কমলা, স্ট্রবেরি, লেবু, কাঁচা মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, গাজর, পেঁপে, আনারস, আম, জাম, আলু, তরমুজ, কলা, পেঁয়াজ, চেরি ফল, পেয়ারা, কিসমিস, লেটুস পাতা, বেগুন, ডুমুর।
ভিটামিন ডি =দুধ, মাছ, ডিমের কুসুম, যকৃত,বাদাম, মাশরুম, সূর্যের আলো ইত্যাদি।
ভিটামিন ই =শস্যদানা, সবুজ শাকসবজি, ডিমের কুসুম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, সূর্যমুখী তেল, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, কুমড়ার বীজ, পাম ওয়েল,পালং শাক।
ভিটামিন কে =এবং কেন ভিটামিন খাবেন সবুজ শাকসবজি, সয়াবিন তেল, পুইশাক, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা, সরিষা শাক, পালং শাক, মরিচ, কলা।
শেষ কথা : ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন
ওপরের কনটেন্টটি পুরোপুরি পড়লে ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন এই টপিক সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে গেছেন। জানানোর চেষ্টা করেছি ভিটামিন কাকে বলে এবং ভিটামিনের প্রকারভেদ বিস্তারিতভাবে জানানোর চেষ্টা করেছি।
আরও পরুনঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার কারণ
আরো জানানোর চেষ্টা করেছি কোন ভিটামিন এর অভাবে কোন রোগ হয় অর্থাৎ ভিটামিনের অভাবে কি কি রোগ হয় এর সবগুলোই জানার চেষ্টা করেছি। এবং কোন উৎস থেকে কোন ভিটামিন বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তার সবগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন সে সম্পর্কে। শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে প্রতিদিন ভিটামিন যুক্ত খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। যদি আমাদের পোস্টটি ভাল লাগে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট পেতে চান তাহলে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url