ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

আজকের কনটেন্টের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ভিটামিন কে। ভিটামিন কে আসলে কি ধরনের ভিটামিন শরীরে কিভাবে কাজ করে, এবং ভিটামিন কে আমাদের শরীরের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন-কে-এর-অভাবজনিত-রোগ-ও-প্রতিকার

এবং ভিটামিন কে এর ঘাটতিতে আপনার শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আজকে জানানোর চেষ্টা করব। জানানোর চেষ্টা করব ভিটামিন কে  এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে। 

সূচিপত্র ঃ ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার 

ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার নিয়ে আজকের আলোচনা। ভিটামিন কে আমাদের শরীরে একটি অন্যতম ভিটামিন।এটি একটি ফ্যাট সলিউশন ভিটামিন অর্থাৎ  এ ভিটামিনটি প্রয়োজন এর অতিরিক্ত  খেলে শরীর এই অতিরিক্ত ভিটামিন টাকে  জমিয়ে রাখে। 

আরও পরুনঃ কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

এটি সাধারণত রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করবে এবং হাড়ের নরমাল স্বাস্থ্য মেনটেইন করতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১২০ মাইক্রগ্রাম ভিটামিন কে প্রয়োজন হয়। আমাদের জানতে হবে খাদ্য পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে। 

এ খাদ্য পুষ্টি কোনটি কম কিংবা কোনটি বেশি গ্রহণ করলে বিভিন্ন রকম রোগ হতে পারে। আমাদের শরীরে স্বতাধিক রোগ হয়ে থাকে এই খাদ্য ঘাটতির কারণে এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের কারণে। 

ভিটামিন কে এর উৎস 

ভিটামিন কে বেশ কিছু উৎস থেকে পাওয়া যায় তার ভেতরে সবুজ শাকসবজি অন্যতম। যেমন পালং শাক, ব্রুকলি,ফুলকপি, বাঁধাকপি  এছাড়াও যে সকল সবুজ শাকসবজি রয়েছে সেগুলো এবং সালাদ হিসেবে যে সকল সবুজ সবজি আমরা গ্রহণ করে থাকি সেগুলো।

ভিটামিন-কে-এর-অভাবজনিত-রোগ-ও-প্রতিকার

ডিম ও দুধের ভেতরে খুব অল্প পরিমাণে ভিটামিন কে পাওয়া যায়। পেঁয়াজ, টমেটো জলপাইয়ের তেল এগুলোতে ও ভিটামিন কে পাওয়া যায়। এছাড়াও ভিটামিন কে এর কিছু অংশ আমাদের অন্ত্রের ভেতরে তৈরি হয়।অন্ত্রের ভেতরে যে সকল উপকারী  ব্যাকটেরিয়া থাকেএ সকল ব্যাকটেরিয়া গুলো আমাদের শরীরে ভিটামিন কে তৈরি করতে সাহায্য করে এক কথায় তৈরি করে।

এবং এ ভিটামিন কে এগুলো আমাদের শরীরে ব্যবহার  হয়ে থাকে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের শরীরে হালকা জ্বর, সর্দি, কিনবা কাশি হলে আমরা ডাক্তারের কাছ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাই এই এন্টিবায়োটিক আমাদের অন্ত্রের ভেতরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া গুলো মেরে ফেলে ভিটামিন কে এর ঘাটতি দেখা দেয়। 

ভিটামিন কে এর অভাবজনিত লক্ষণ 

প্রথমত ভিটামিন কে এর ঘাটতিতে রক্তের ক্লোটিং এবনরমালিটি হবে। অর্থাৎ ব্লাড ক্লোটিং  এর জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলির প্রয়োজন এবং সেগুলো সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ভিটামিন কে এর প্রয়োজন। ভিটামিন কে না থাকলে ক্লোটিং  ফ্যাক্টরগুলো ঠিক ভাবে কাজ করবে না ফলে অনেক সমস্যা দেখা দেবে। 

আরও পরুনঃ ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার 

যেমন শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্লিডিং  হতে পারে। দাঁতের গোড়া থেকে ব্লিডিং হতে পারে, মাড়িতে ব্লিডিং হতে পারে, খাদ্যনালির ভেতরে বিল্ডিং হতে পারে। প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসতে পারে, এছাড়াও চামড়ার নিচে ব্লিডিং হতে পারে অনেক সময় দেখা যায় আমাদের শরীরে চামড়ার নিচে লাল ছোট ছোট দাগ কিংবা কালো হয়ে যায় এটা ভিটামিন কে এর কারনেই হয়।

মহিলাদের ক্ষেত্রে তাদের পিরিয়ডের সময় অ্যাক্সেসিভ ব্লিডিং হতে পারে।  সদ্যোজাত শিশুর ভিটামিন কে এর ঘাটতিতে তাদের যে নারী কাটা হয় সেখান থেকে অনর্গল  ব্লিডিং হতে পারে সে ক্ষেত্রে ভিটামিন কে ইঞ্জেক্ট করা হয় বাচ্চাদের শরীরে। 

রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে ভিটামিন কে 

কে এটি একটি জার্মান ওয়ার্ড যেখানে কে দিয়ে শুরু হয় কো এগুলেসন অর্থাৎ এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করবে। ভিটামিন কে এর কাজ হচ্ছে ব্লিডিং কমিয়ে দেওয়া অর্থাৎ রক্ত জমাট বাজানো। শরীরের কোন স্থান কেটে যাওয়ার পর কারো যদি অতিরিক্ত ব্লিডিং  হয় 

আরও পরুনঃভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা 

ব্লিডিং না থামে তাহলে বুঝে নিতে হবে তার ভিটামিন কে এর স্বল্পতা রয়েছে। আমাদের রক্তের ভেতরে তিন রকম কণিকা রয়েছে লোহিত, সেত এবং অনুচক্রিকা। এই অনুচক্রিকা  রক্ত জমাট বাধার ক্ষেত্রে ভিটামিন কে সাহায্য করে থাকে। 

এই ভিটামিন কে যদি আমরা ঠিকমত গ্রহণ না করি তাহলে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিবে কোথাও কেটে ছিড়ে গেলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধবে না। তাই ভিটামিন কে ব্লাড ক্লটিং এর প্রধান কাজ। 

হাড় গঠনে ভিটামিন কে

ভিটামিন কে এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে শরীরে হাড় গঠনে সাহায্য করা। আমাদের হাড়ের ভেতর রয়েছে অস্টিও ব্লাস্ট নামের একটি কোষ। যে কষ্টে আমাদের শরীরে  নতুন হার গঠন করে। ক্যালসিয়াম হাড় গঠনের সাহায্য করে এটা আপনারা অনেকেই শুনেছেন, আপনারা যদি ক্যালসিয়াম বেশি

ভিটামিন-কে-এর-অভাবজনিত-রোগ-ও-প্রতিকার

পরিমাণেও গ্রহণ করেন এই অস্টিও ব্লাস্ট ঠিকমতো কাজ করতে পারবে না যদি না আপনি ভিটামিন কে গ্রহণ করেন। তাই আমাদের প্রতিনিয়ত কমবেশি ভিটামিন কে গ্রহণ করতে হবে। তাহলে এটা আমাদের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার পাশাপাশি হাড় গঠনেও সাহায্য করবে। 

শেষ কথা :ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

উপরের কনটেন্টে যদি পুরোপুরি পড়ে থাকেন তাহলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে। আমরা আলো আরো আলোচনা করার চেষ্টা করেছি ভিটামিন কে এর উৎস অর্থাৎ কোন কোন উৎস থেকে ভিটামিন কে পাওয়া যায়। 

ভিটামিন কে এর অভাবজনিত লক্ষণ যদি আপনার শরীরে ভিটামিন কে এর ঘাটতি হয় তাহলে কি ধরনের লক্ষণ দেখা দেবে আপনার শরীরে। এছাড়াও ভিটামিন কে কিভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং হাড় গঠনে সহযোগিতা করে।

আরও পরুনঃভিটামিন সি এর উপকারিতা ও অপকারিতা

 ভিটামিন কে সম্পর্কে সবকিছু আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। যদি পুরো কনটেন্টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে ভিটামিন কে সম্পর্কে জানার আর কিছু বাকি নেই আপনার। 

আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে। আপনাদের ভাল লাগাই আমাদের নতুন নতুন ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট লিখতে উৎসাহিত করবে। নতুন কিছু পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url