ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন। এই ভিটামিনের কিছু স্পেশাল ক্যারেক্টার রয়েছে।
আজকে আমাদের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ভিটামিন ডি এর অভাব জনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে।নিচের আলোচনায় ভিটামিন ডি সম্পর্কে সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে। কনটেনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে ভিটামিন ডি সম্পর্কে আপনার যথেষ্ট ধারণা হয়ে যাবে আশা করি।
সূচি পত্রঃ ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
- ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
- ভিটামিন ডি এর উৎস
- শরীরে ভিটামিন ডি কিভাবে তৈরি হয়
- ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত সমস্যা
- ভিটামিন ডি পেতে কখন রোদে যাব
- শেষ কথা
ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
আজকে ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে বলবো। আমরা ভিটামিন ডি শুনলেই মনে করি আমাদের হাড়, জয়েন্ট, কিংবা মাসেল আসলে তা না ভিটামিন ডি এর বেশকিছু রোল আছে আমাদের শরীরে।
এই ভিটামিন আমাদের শরীরে প্রধানত রক্তের চাপ বা ব্লাড প্রেসার মেনটেন করে রাখে। আমাদের রেগুলার যে হার্টবিট হচ্ছে হার্টের মধ্যে যে ইলেকট্রিক একটিভিটি হচ্ছে সেটাকেসঠিকভাবে চালাতে সহযোগিতা করে ভিটামিন ডি।
আরও পরুনঃ ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা
আমাদের শরীরে যদি ভিটামিন ডি এর মাত্রা কম হয় তাহলে হাড়ে ব্যথা হবে, লেথারজি আসবে, এই সমস্যাগুলো হবে।এছাড়াও ভিটামিন ই আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য। তাই ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে সঠিকভাবে থাকা প্রয়োজন শরীরের কোন ধরনের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য।
ভিটামিন ডি এর উৎস
ভিটামিন ডি এমন একটি ভিটামিন যার উৎস খাবারের ভেতরে তেমন একটা বেশি নেই। তারপরও কিছু কিছু খাদ্যের ভেতরে টি পাওয়া যায়, যেমন কড লিভার অয়েল, যেকোনো ধরনের মাংসের লিভার আমরা যেটাকে বলি মেটে।
কিছু ডিমের মধ্যে ভিটামিন ডি আছে, দুধের মধ্যে কিছু পরিমাণ ভিটামিন ডি রয়েছে। আর কিছু পাতাযুক্ত সবজির ভেতরে ভিটামিন ডি রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন ডি এর কোন বড় সোর্স নেই। আর খাবার থেকে আমরা যে ভিটামিন ডি পাই তা খুবই স্বল্পমাত্রার।
শরীরে ভিটামিন ডি কিভাবে তৈরি হয়
মূলত ভিটামিন ডি তৈরির মেকানিজম আমাদের শরীরেই রয়েছে। মেকানিজম টা হচ্ছে আমাদের শরীরের চামড়া আমাদের শরীরের চামড়ার নিচে ভিটামিন ডি তৈরি হয় যদি সূর্যের আলোটা সঠিক পরিমাণে পাই। এবং একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে পাই।
তারপর কিডনির সাহায্য নিয়ে ভিটামিন ডি তৈরি করে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কাজ করে। তাই সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করার জন্য। কিন্তু বর্তমানে আমাদের জীবনযাত্রায় সূর্যের আলোতে বেশি যাওয়া পড়ে না তাই ভিটামিন ডি ও পরিমিত মানে তৈরি হয় না আমাদের শরীরে।
আরও পরুনঃ ভিটামিন সি এর উপকারিতা ও অপকারিতা
যে সানলাইট টা আমাদের শরীরের উপর পড়ে সকালে কিংবা বিকেল বেলায় যখন খেলতে যাই সে সময়কার আসলে সে সময়কার রোদে ততটা তাপ থাকে না যতটা তাপ ভিটামিন ডি তৈরীর জন্য প্রয়োজন। বিশেষ করে দুপুর বারোটা থেকে তিনটা, সাড়ে তিনটা পর্যন্ত যে প্রখর রোদ টা পড়ে সেই রোদযদি আমাদের শরীরের অনেক অংশে পড়েতাহলে ভিটামিন ডি ভালো মাত্রাই তৈরি হবে।
ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত সমস্যা
সাধারণত ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত সমস্যা তাদের দেখা যায় যারা আমিষ জাতীয় খাবার কম খায়। কারণ ভিটামিন ডি এর উৎসই হল আমি জাতীয় খাবার। আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে সর্ব প্রথমে আপনার মাসল ব্যথা করবে। কারণ আপনার মাশুল স্ট্রাকচার গঠনে ভিটামিন ডি এর ভূমিকা রয়েছে।
তাই ভিটামিন ডি এর ঘাটতিতে মাসুল পেন জাতীয় সিমটম দেখা দেবে। এছাড়া ভিটামিন ডি এর অভাবে আর ব্যথা করতে পারে। কারণ নির্দিষ্ট একটা বয়স পেরলে মানুষের শরীরের হাড় ক্ষয় হতে থাকে একটি নির্দিষ্ট হারে পাশাপাশি একই সময়ে নতুন হাট তৈরি হতে থাকে অর্থাৎ ক্ষয় পূরণ হতে থাকে।
আরও পরুনঃ ভিটামিন বি এর অভাবে কোন রোগ হয়
যদি কোন ব্যক্তির শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি থাকে তাহলে হাড়ের ক্ষয় পূরণ হতে পারে না এবং আগের হাড্ডি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে ফলে হাড়ে ব্যথা হয়। ডি এর অভাবজনিত সমস্যা হচ্ছে দুর্বলতা।
যদি কোন সাধারণ মানুষের শরীরের দুর্বলতা ভাব দেখা যায় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো কারণ নেই তাহলে বুঝে নিতে হবে তার শরীরে ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা রয়েছে। এছাড়াও কোন ব্যক্তির মাথা যদি বেশি ঘামে শরীরের অন্যান্য অংশ কম খামে তাহলে বুঝে নিতে হবে ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা রয়েছে।
ভিটামিন ডি পেতে কখন রোদে যাব
অনেকে জানেন প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি এর একটি বড় উৎস সূর্যের আলো। এটা প্রকৃতি প্রদত্ত বড় একটি নিয়ামত। অনেকে মনে করেন সূর্যের আলোতে গেলেই ভিটামিন ডি তৈরি হয়ে শরীরে। কিন্তু না আপনাকে সূর্যের আলোতে যেতে হবে সকাল ১০:০০ টার পর বিকেল০৪:০০ টার ভেতরে।
ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার পেতে এ সময়ের ভেতরে যে রোদটা পড়ে রোদের তাপ বেশি থাকে এবং আল্ট্রা ভায়োলেট যেটা আছে সেটা সরাসরি স্কিনে পড়ার পরে স্ক্রিনের নিচে যে সকল মেকানিজম রয়েছে সেগুলো কিডনির সাহায্যে আমাদের শরীরের ভেতরে ভিটামিন ডি তৈরি করে।
তবে এ সময় কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আপনাকে টানা দাঁড়িয়ে কিংবা বসে থাকতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে সূর্যের আলোটা যেন সরাসরি শরীরের চামড়ার উপর পড়ে।তবে অনেকে কালো হওয়ার ভয়ে যদি শরীরের উপরে কোন কাপড় রাখেন তাহলে আপনি এই ভিটামিন ডি হতে বঞ্চিত হবেন ।
তবে এর জন্য প্রতিদিন আপনাকে রৌদ্রে দাঁড়াতে হবে না। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন দাঁড়ালেই হবে। এটা আপনার শরীরে স্টোর হয়ে থাকবে এবং এটা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করবে।
শেষ কথা : ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
উপরের কনটেন্টেটি পুরোপুরি পড়ে থাকলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে। চেষ্টা করেছি ভিটামিন ডি এর উৎস গুলো নিয়ে আলোচনা করতে। অর্থাৎ কোন কোন উৎস থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
আরও পরুনঃভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকারএছাড়াও আলোচনা করেছি শরীরে ভিটামিন ডি কিভাবে তৈরি হয়, এবং ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত সমস্যাগুলো নিয়ে। এবং সূর্যের আলো থেকে সরাসরি ভিটামিন ডি পেতে কখন রোদে যাবেন এবং কত সময় থাকবেন সেগুলো বলেছি।
আশা করি ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে সকল ধারণা পেয়ে গেছেন। কনটেন্টি ভালো লাগলে এবং এরকম আরো নতুন নতুন ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url