ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য তালিকাই আমরা যে সকল খাবার গ্রহণ করি তার এক একটা খাবারের ভিতর রয়েছে এক এক রকম ভিটামিন। ভিটামিন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

ভিটামিন-এ-এর-অভাবজনিত-রোগ-ও-প্রতিকার

এবং বিভিন্ন রকম রোগ নিরাময় করতে সহায়তা করে। আপনি যদি বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক পোস্টের ভিতর এসেছেন। আজকে আমি আপনাদের ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে বলবো। 

সূচিপত্রঃ ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

দৈনিক খাদ্য তালিকার ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু সমস্যা এই আমরা কখনোই বাজার করতে গিয়ে ভিটামিন হিসাব করে বাজার করিনা। আমাদের সামনে যেটা ভালো লাগে সেটাই বাজার করে চলে আসি। এসে যেটা হয় কোন ভিটামিন আমাদের বেশি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে।

কোন ভিটামিন আমাদের বাদ পড়ে যাচ্ছে। যার কারনে আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে। যেমন আপনার বাচ্চার ভিটামিন-এ এর অভাবে ঠিকমতো তার হাড়ের বৃদ্ধি হচ্ছে না। বডিগুলো ঠিক মতো হচ্ছে না। আবার একই ভিটামিন বেশি পরিমাণব্যবহার করার কারণে আপনারা হাড় ক্ষয় হচ্ছে। 

তাহলে আপনার অবশ্যই ভিটামিন হিসাব করে বাজার করা উচিত। আপনার বাজার করতে গেলে যেকোনো একটি সবজি ভিটামিন এ, যেকোনো একটি ফল ভিটামিন বি, যেকোনো একটি সবজি ভিটামিন সি,এরকম দেখে বাজার করা উচিত। 

ভিটামিন-এ-এর-অভাবজনিত-রোগ-ও-প্রতিকার

আসলেই আমরা কখনই ভিটামিন দেখে বাজার করিনা। আমরা বাজার করি হচ্ছে যা ইচ্ছা মনে হয় চোখের সামনে যেটা ভালো লাগে সে রকম বাজার করে চলে আসি।মনে করুন আপনি বাজারে গিয়ে মিষ্টি কুমড়া, গাজর এবং করলা  কিনলেন। কিন্তু এই মিষ্টি কুমড়া গাজর এবং করলা এই তিনটিতেই রয়েছে ভিটামিন এ। 

কিন্তু এদিকে আপনি ভিটামিন বি কিনলেন না, সি কিনলেন না,ডি কিনলেন না, আপনি তিনটা সবজি কিনে নিয়ে আসলেন ভিটামিন এ। যার কারনে ভিটামিন বি সি, ডি, এগুলো বাদ পড়ে গেল।আপনি ভিটামিন এ,বি অতিরিক্ত খেলেন। আবার আরেকদিন আপনি ভিটামিন ডি বেশি পরিমাণে কিনলেন। 

এ কিনলেন, না সি কিনলেন না,আবার এমন দিন গেল আপনি সি কিনে নিয়ে আসলেন অন্যগুলো কিনলেন না। এভাবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি ভিটামিন এ, বি, সি,কে, বি কমপ্লেক্স বিভিন্ন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে। এগুলো আপনার বাদ পড়ে গেল। ফলে আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। 

তাই আমাদের উচিত কোন সবজি কোন কোন ফলে কোন ভিটামিন কোন ভিটামিন রয়েছে সেটা দেখে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি হিসাব করে বাজার করা। তাহলে আপনার ব্যালেন্স ডায়েট ঠিকমতো হয়। অর্থাৎ সকল ধরনের ভিটামিন আপনি খেলেন। কোনটি বেশি কোনটি কম আপনার হলো না। 

আরও পরুনঃ পরিবেশ দূষণের ১০টি কারণ  

তাই আমাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গধারণা থাকা দরকার। কোন খাবারে ভিটামিন এ রয়েছেভিটামিন এ এর অভাবে কি সমস্যা হয়। আমরা জানি ভিটামিন জাতীয় খাবার ভালো কিন্তু ভিটামিন জাতীয় খাবার যদি অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করা হয় তাও আবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি।  কোন কিছুই  অতিরিক্ত পরিমাণে ভালো না। 

তাই আমরা অতিরিক্ত কোন কিছু গ্রহণ করবো না। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু গ্রহণ করব। তাই আমাদের জানতে হবে কোন খাবারে কোন ভিটামিন রয়েছে। এবং হিসাব করে আমাদের লিস্টে যাতে সব ধরনের ভিটামিন থাকে তার দেখে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। 

এখানে আমরা ভিটামিন এ কি কি কাজে লাগে, ভিটামিন এ খাবারে রয়েছে,ভিটামিন এ এর অভাবে কি কি সমস্যা রয়েছে, ভিটামিন এ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কি হয় সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। 

ভিটামিন-এ দৃষ্টি শক্তি বাড়াই

ভিটামিন এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এই কথাটি আমরা সবাই কমবেশি জানি। আমাদের চোখে দুই ধরনের কোষ রয়েছে cone cell এবং rod sale এই rod sale আমাদের রাতে দেখার ক্ষেত্রে এই  rod sale কাজ করে থাকে।

আরও পরুনঃ শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার উপায়

অর্থাৎ আমরা প্রচন্ড একটি আলো রুমে রয়েছি হঠাৎ করে একটি অন্ধকার রুমে প্রবেশ করলাম। সাথে সাথে আমাদের   Road sale এক্টিভ হয়ে যায় তখন অন্ধকারে দেখার চেষ্টা করে।তখন আমাদের চোখের মনি বড় হয়ে যায় এবং এই rod sale  ভিটামিন এর সহযোগিতায় আমরা দেখতে পাই।

 অর্থাৎ লো ব্রাইটনেসের লো আলোতে অল্প আলোতে আমরা দেখতে পাই। এটা করে থাকে এই rod sale এবং rod saleএর সাথে ভিটামিন এ যদি না থাকে তাহলে আমরা অল্প আলোতে দেখতে পাবো না। যে কারণে এই ভিটামিন এ এর অভাবে এই রাতকানা রোগ হয়। অর্থাৎ রাতে দেখতে পাই না। বা অল্প আলোতে দেখতে পারেনা। সেটাকেই বলা হয় রাতকানা রোগ।

আবরণীও কলার বৃদ্ধি

ভিটামিন এপিথেলিলাইজিয়োসন করে থাকে অর্থাৎ আবরণীয় কলা এটি একটি আবরণীয় কলা এবং নাক থেকে ফুসফুসের ভিতরের অংশ আবরণীয়ক কলায় ঢাকা এবং থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত যে খাদ্য পথ রয়েছে এখানে অভ্যন্তরীণ ভিতরে যে আবরণ রয়েছে এবং মূত্রথলি থেকে মুত্রনালী পর্যন্ত পথ এই আবরণীয় কলা রয়েছে। 

আরও পরুনঃ  ছেলেদের চুলের যত্নে কয়েকটি টিপস

এই আবরণীয় কলার ডেভেলপ করতে এই ভিটামিন- এ এর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ আমরা যদি ঠিক মত এ গ্রহণ না করি এই আবরণীয় কলা ঠিকমত কাজ করতে পারেনা। ফলে আমাদের চর্ম শুষ্ক হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি ব্যাঙের চামড়ার মত হয়ে যায়। তাছাড়া মূত্রনালীতে সমস্যা বর্ণ  গ্রন্থে সমস্যা এই ভিটামিন এ এর অভাব হয়ে থাকে। 

ইমিউনিটি

আমাদের ইমিউনিটির ক্ষেত্রে এই ভিটামিন এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যে রকম আমাদের হাড়ের ভেতরের রক্তের কোষ গুলো তৈরি হয়। ওই রক্তের কোচ তৈরি হতে অর্থাৎ যেটাকে বলি হোয়াইট ব্লাড সেল। এই হোয়াইট ব্লাড সেল আমাদের হাড়ের মর্যার  ভেতরে তৈরি হয়। 

এই যখন তৈরি হয় যেটাকে বলা হয় মাদার সেল। যে মাতৃকোষ আমাদের রোদ প্রতিরোধ ক্ষমতার যে কোডগুলো রয়েছে সেগুলো ডিভিশন করে তৈরি করে। সেই সেল ডেভেলপ করার জন্য বা কোষ বিভাজনের জন্য  ভিটামিন এ এর প্রয়োজন। 

ভ্রণ উন্নয়ন 

প্রজননতন্ত্রের  বৃদ্ধি ক্ষেত্রে ভিটামিন এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিন এ কনগ্র্রন করার ফলে ঠিক মতন বেবি কনসিভ করে না। এবং কনসিভ করলেও পরবর্তীতে ও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। 

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়া-কলাপ

ভিটামিন এ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হচ্ছে আমাদের দেহের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে খাদ্যের মাধ্যমে, নিঃশ্বাসের মাধ্যমে, আমাদের দেহে রেডিওসনের মাধ্যমে, আমাদের দেহে বিভিন্নভাবে কোষের ভিতরে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে আমাদের দেহে inflammationতৈরি হয় ইনফামেশন বন্ধ করার জন্য বা প্রদাহ বন্ধ করার জন্য এই ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কোন কোন খাবারে ভিটামিন এ পেয়ে থাকি

আমরা ভিটামিন এ পেয়ে থাকি গাজর, মিষ্টি কুমড়া, করোলা, কা পেঁপে, সবুজ শাকসবজি, পাকা আম,বাজে কোন হলুদ ফল, বিভিন্ন লিভারের তেল,  দুধ, মাংস, ডিম এইসব খাবারে আমরা ভিটামিন এ পেয়ে থাকি। 

ভিটামিন এ এর অভাবে কি ধরনের সমস্যা হয়

আমরা সকলেই জানি ভিটামিন এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর আগে ভিটামিন এ সম্পর্কে আলোচনা করেছি ভিটামিন এ কি কি আমাদের দেহে কাজ করে। ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে তার অভাবজনিত লক্ষণ। 

আরও পরুনঃ  কাঁচা হলুদ খাওয়ার উপকারিতা

যেরকম ভিটামিন এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়, শ্বাসনালির প্রদাহ, টক শুকিয়ে যাওয়া, বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধিতে ব্যহত হওয়া, কিডনিতে পাথোর,বন্ধ্যাত্ব, অস্থির বৃদ্ধি না হওয়া এবং ব্রণ। উঠতি বয়সের তরুণ এবং তরুণীদের দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ ব্রণ। 

এই তরুণ এবং তরুণীদের বেশি পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়া দরকার। এবং শিশুদের বেশি পরিমাণ ভিটামিন এ দরকার হয়। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের বেশি পরিমাণ ভিটামিন এ প্রয়োজন হয়। যখন এই ভিটামিন এ deficiency  হয় তখন এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। 

অতিরিক্ত পরিমাণ ভিটামিন এ গ্রহণ করলে কি ধরনের সমস্যা হয়

ভিটামিন এ অতিরিক্ত তখনি গ্রহণ করে যখন ভিটামিন সম্পর্কে কোন ধারণা থাকে না। কোন খাবারে ভিটামিন এ, কোন খাবারে  ভিটামিন বি, কোন খাবারে ভিটামিন সি, এই সম্পর্কে ধারণা না থাকলে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করে। 

ভিটামিন-এ-এর-অভাবজনিত-রোগ-ও-প্রতিকার

অতিরিক্ত পরিমাণ যদি ভিটামিন এ গ্রহণ করেন তাহলে আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিবে। প্রথমে মেডিকেল সাইন্স বলেছে অতিরিক্ত পরিমাণ যদি ভিটামিন গ্রহণ করেন তাহলে কোন ধরনের সমস্যা নেই স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। 

কিন্তু এই মডার্ন সাইন্স আবিষ্কার  করেছে যে ভিটামিন যদি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করেন তাও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। বিভিন্ন ধরনের রোগ হবে। তাই আপনাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা দরকার। 

ভিটামিন এ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কি হয় 

চুল উঠে যায়। 

দেহের ওজন কমে যায়। 

হাওয়ায় অরুচি হয়। 

বমি বমি ভাব। 

এবংঅস্তির ক্ষয় হয়। 

যে ভিটামিন কম গ্রহণ করলে রাতকানা রোগ বন্ধ্যাত্ব পরিপাকতন্ত্র শ্বাস-প্রশ্বাস তন্ত্রের সমস্যা হয়। আবার সেই ভিটামিন অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে চুল পড়ে যায় অস্থির ক্ষয় হয়। যেই ভিটামিন অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করলে অস্তিক হয়ে যায়। আবার কম গ্রহণ করলে অস্থি ঠিকমত বৃদ্ধি হয় না।

 তাই আপনাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দরকার। আমাদের খাদ্য এবং পুষ্টি যদি আমরা সঠিকভাবে জানি। আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ হলেও শুধুমাত্র ডায়েটের মাধ্যমে প্ল্যানের মাধ্যমে আমাদের রোগ আরোগ্য করা সম্ভব। 

শেষ কথাঃ ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

তাই আপনাদের সকল ভিটামিন সম্পর্কে জানতে হবে সকল খাদ্য পুষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে। উপরের কনটেন্টে ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করেছি। যদি আপনি পুরোপুরি পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভিটামিন এ এর গুণের কথা। 

উপরের কনটেন্টে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করেছি কোন কোন খাবারে ভিটামিন এ রয়েছে এবং ভিটামিন এ এর অভাবে কি কি ধরনের সমস্যা হয়। এছাড়াও আমরা আলোচনা করেছি অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে কি ধরনের সমস্যা হয়। আশা করি পুরোপুরি করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই উপকৃত হবেন।

আশা করি ভিটামিন এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়েছে। আমাদের কন্টিনিটি যদি ভালো লাগে তাহলে প্রতিনিয়ত আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। আরো নতুন নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডট কম এ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url