তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহু প্রাচীনকাল থেকে এই তুলসী পাতার ব্যবহার হয়ে
আসছে। এছাড়াও ছোটখাটো অনেক অসুখে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে এই পাতার ব্যবহার
হয়ে থাকে।
আপনি যদি তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আপনি সঠিক পোস্টের ভেতরে এসেছেন। আপনি যদি পুরো পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে আশা করছি তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সকল ধারণা পেয়ে যাবেন।
সূচীপত্র ঃ তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
যুগের পর যুগ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে এমন একটি পাতা তুলসী পাতা। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় তুলসী পাতা যেমন ব্যবহার করা হয় ঘরোয়া চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কিন্তু ব্যবহার করা হচ্ছে সহস্র বছর ধরে এই তুলসী পাতা।
আরও পরুনঃ ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা
তুলসী পাতার গুনাগুন হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে সুস্থ থাকতে প্রতিদিন একটি করে তুলসী পাতা চিবিয়ে খান। বাসার বারান্দায় যেখানে আলো বাতাস চলাচল করে, সেখানে লাগিয়ে রাখতে পারেন উপকারী এই তুলসী গাছ।
শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষের ঠান্ডা সর্দি কাশির ক্ষেত্রে তুলসী পাতা কিন্তু মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করে। তুলসী পাতার উপকারিতার কথা আমরা সবাই জানি। তুলসী পাতা খেলে অনেক জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
শুধু তাই না তুলসী পাতা রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয় আর আপনারা জানেন কি এত উপকারী এই তুলসী পাতা খেলে কারো কারো মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এখানে এমন কিছু অজানা তথ্য এখানে জানাবো যা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য অনেক উপকারী। আসুন তাহলে তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই ।
তুলসী পাতার উপকারিতা
যারা কিডনি সুস্থ রাখতে চান তারা তুলসী পাতা খেতে পারেন। তুলসী পাতা কিডনীর বেশ কিছু রোগের সমাধান দিতে পারে।তুলসী পাতার রস প্রতিদিন পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে। যদি কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে তবে তুলসী পাতার রস টানা ৬ মাস পান করলে সেই পাথর মূত্রের সাথে বেরিয়ে যাবে।
যে সব পুরুষের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তাদের জন্য তুলসী গাছের শেকর খুবই উপকারী। নিয়ম করে মাত্র কয়েকদিন তুলসী পাতা খেলে সমাধান মিলবে। তুলসী পাতার রস, এলাচ গুঁড়া, এবং এক তোলা পরিমাণ মিশ্রি পান করলে শুক্রাণু শক্তিশালী হয় এটি অত্যান্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক।
আরও পড়ুন ঃ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ তুলসী গাছের শেকর পানের সঙ্গে খেলে যৌন দুর্বলতা দূর হয়। তুলসীর পাতা রক্তের শরকরার মাত্রা সঠিক রাখে এবং cholesterol মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীরে খারাপ cholesterol এর কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ভালো cholesterol এর মাত্রা বৃদ্ধি করে।
গবেষকরা বলেন তুলসীর টাইপ টু ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। তুলসী এন্টি ডায়াবেটি ওষধের কাজ করে।তুলসীতে থাকা saponian, trikar pinen, flavonoids ডায়াবেটিস রোধ করতে কার্যকারী। নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে ক্যান্সারের মতো জটিল অশুক থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভব।
তুলসী পাতাই আছে রেডিও প্রটেকটিভ উপাদান যা টিউমারের কোষ গুলোকে মেরে ফেলে। এতে আরো আছে বিভিন্ন ধরনের ফাইটো কেমিক্যাল। এই প্রতিটি উপাদান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। অগ্নাশয়ি যে টিউমারের কোষ দেখা দেয় তা দূর করতেও তুলসী পাতা কার্যকারী।
পাশাপাশি বেস্টের ক্যান্সারও দূরে রাখে এই তুলসী পাতা। যাদের সর্দি কাশি ও গলা ব্যাথার ধাঁচ আছে এবং ত্বকের বিভিন্ন ধরনের রোগ আছে তারা ,পাতা খেতে পারেন।জ্বর, ঠান্ডা,কাশি, গলা ব্যথা এই ধরনের সমস্যায় তুলসী পাতার রস এবং তুলসী চা খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন ঃ ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউনিটি দুর্বল তারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তুলসী পাতা খেতে পারেন। অ্যাজমা, ফুসফুসে সমস্যা, ব্রণোকাটিস ইত্যাদি জনিত রোগে কাজ করে এই তুলসী পাতা।
জ্বর সারাতেও তুলসী পাতা অনেক উপকারী। তুলসী পাতা ও এলাচ পানিতে ফুটিয়ে সেই পানিটি পান করলে খুব সহজেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলে। যে কোনো ক্ষত স্থানে।তুলসী পাতা বেটে লাগালে তা দ্রুত শুকাই।
তুলসী পাতার অপকারিতা
এত উপকারী এই তুলসী পাতা সবার জন্য উপকারী হলেও আপনার জন্য উপকারী নাও হতে পারে। না জেনে যদি তুলসী পাতা খান তাহলে আপনার মারাত্মক বিপদ হতে পারে। স্বাস্থ্য বিষয়ে বলা হয়েছে তুলসী পাতা রক্তের শরকরার মাত্রা কমায়।
কেউ যদি নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খাই এবং একই সাথে তুলসী পাতা বা এ থেকে তৈরি নির্যাস গ্রহণ করে তাহলে তার রক্তে সরকার আর মাত্রা আশঙ্কা জনক ভাবে কমে যেতে পারে। আর এতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে তুলসী পাতা খাবেন না। কেননা তুলসী পাতা গর্ভবতীদের জন্য ক্ষতিকর। অনেক সময় এটি গর্ভপাতের কারণও হতে পারে। এই ভেষজো গাছে এসট্রাগল নামক উপাদান থাকে যা জরায়ুর শঙ্কোচনিতির কারণও হতে পারে। তাছাড়া এই পাতা রজকের উপর প্রভাব রাখে এবং ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।
তুলসী পাতা রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। যারা রক্ত পাতলা করার জন্য ওষুধ খেতে চান না তাদের জন্য তুলসী পাতা ভালো কাজ করবে। তবে যারা এরি মধ্যে ঔষধ খাচ্ছেন তারা যদি তুলসী পাতা খান তাহলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
আরও পড়ুন ঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
যারা নিয়মিত ব্যাথা কমানোর ওষুধ খান তারা যদি নিয়মিত তুলসী গ্রহণ করেন, তবে লিভার তথা যকৃত ক্ষতি হতে পারে। কারণ এই দুটোই ব্যথা নাশক হিসেবে কাজ করে।
শরীরে দুটোই একসঙ্গে কাজ করলে যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। তাই তুলসী পাতা খাওয়ার আগে সাবধান হন। তুলসী পাতা অবশ্যই উপকারী হবে, তা সবার জন্য নয় জেনে বুঝে তারপর তুলসী পাতা খাবেন।
শেষ কথা ঃ তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
প্রাচীনকাল থেকে তুলসী পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে নানা ভাবে। আপনি চাইলে এই
উপকারী গাছটি বাড়ির ছাদে, টবে কিংবা বাড়ির আঙিনায় লাগাতে পারেন। এই
গাছটির আকার তেমন একটি বড় হয় না এবং হালকা ছায়াযুক্ত জায়গাতেও হয়। উপরে
উল্লেখিত কনটেন্টি পড়ে আশা করি বুঝতে পেরেছেন তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
সম্পর্কে।
আপনাদের ভাল লাগাই এরকম আরো নতুন নতুন informative conten লিখতে উৎসাহিত হব।
কিছুক্ষণ.com সব সময় আপনাদের নির্ভুল তথ্য দিয়ে থাকে। নতুন নতুন আপডেট
পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডট কম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url