জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

প্রতি প্রাচীনকাল থেকে মসলা হিসেবে জিরার ব্যবহার হয়ে আসছে। বিয়ে বাড়ির রান্না কিংবা বিভিন্ন রকমের মাছ মাংস রান্না জিরার বিকল্প নেই। শুধু রান্নাতেই না জিরা আমাদের শরীরের অনেক রোগ সারাতে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।

জিরা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-নিয়ম

জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে জানতে নিচের পোস্টটি পুরো পুরি পুরন। জিরার উপকারিতার কথা জানার পর জিরা খাবেন কিন্তু কিভাবে খাবেন কোন নিয়মে খাবেন কতটুকু খাবেন তো পারছেন না তো। তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। 

সুছিপত্রঃ  জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

 জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম অনেক । সারা বিশ্বে বিভিন্ন রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় জিরা। এটি যেমন খাবারের স্বাদ ও কি করে তেমনি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক জিরা উপকারী একটি খাদ্য। 

বিশেষ করে জিরাবি যেন পানি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,ওজন কমাতে সাহায্য করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

আরও পড়ুন ঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

কারণ এতে জিংক, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ একাধিক ভিটামিন পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে মাত্র এক গ্লাস জিরা ভিজানো পানি পান করলে আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জিরা উপকারী হতে পারে । 

তাই শুধু রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করতে নয় শরীর ভালো রাখতেও জিরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে জরার স্বাস্থ্য উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। 

বিশেষজ্ঞদের মতে এই চমৎকার মসলার পাওয়ার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো-প্রতিদিন সকালে খালি পেটে জিরা ভিজানো পানি পান করা। তাহলে আমরা ওষুধের উপর নির্ভর না হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারব।

জিরা ভিজানো পানির প্রচুর উপকারিতা আছে।যেমনঃ 

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

আপনার যদি হজমে সমস্যা থাকে তবে আপনার সকাল শুরু করার জন্য আদর্শ পানিও হতে পারে জিরা ভিজানো পানি। এতে বিশেষ কিছু এনজাইম রয়েছে যা বদহজম এসিডিটির মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। 

আরও পড়ুন ঃকালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

এছাড়া অন্ত্রের গ্যাস জমে গিয়ে পেট ফুলে যাওয়ার ঘটনা বর্তমানে খুবই সাধারণ ব্যাপার। এর ফলে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায় এবং হয়ে থাকার অনুভূতি হয়। এক্ষেত্রে জিরা ভেজানো পানি পান করা খুবই উপকারী হতে পারে। তাই আপনার যদি এই ধরনের সমস্যা থাকে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

দেহের অতিরিক্ত ওজন নানা রকম সমস্যার কারণে হতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই প্রয়োজনীয়।এই ক্ষেত্রে জিরা ভেজানো পানি দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে।

জিরা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-নিয়ম

এটি আমাদের দেহের বিপাক হাড় বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে এবং দেহের অতিরিক্ত চর্বি অক্সিডাইজেশনের মাধ্যমে শক্তিতে পরিণত করে। তাই নিয়মিত জিরা পানি পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়ে যায়। এছাড়াও জিরার পানি দেহ থেকে টক্সিন উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

বর্তমানে টাইপ টু ডায়াবেটিসের আক্রান্তের  সংখ্যা দিন দিন বেড়েই  চলেছে এবং ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন নামক হরমোন। 

এই উপাদানটির মাত্রা হের ফের হলেই রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। জিরাতে রয়েছেকিউমিনালডিহাইড যা ইনসুলিন হরমোন এ উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এর ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

পটাশিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান যা শরীরে সঠিক ক্রিয়াকলাপে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাদ্য থাকা প্রয়োজন যাতে আপনার দেহ সঠিকভাবে পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। 

আরও পড়ুন ঃ রসুন খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম 

এক্ষেত্রে জিরা দারুণভাবে সাহায্য করে। কারণজির আর পানিতে উচ্চ পটাশিয়াম থাকে। এছাড়াও লবণের ক্ষতিকারক প্রভাব গুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

রক্তে কোলেস্টেরের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে হৃদরোগ সহ একাধিক রোগ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই কোলেস্টরেল মাত্রা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। এবং এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। এই ক্ষেত্রে আপনাকে দারুন ভাবে সাহায্য করতে পারেন জিরা পানি। 

আসলে এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরেলর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আমাদের সকলের পরিচিত উপাদানটি কোলেস্টোরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 

চুল ও ত্বক ভালো রাখে

জিরার পানিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এটি আপনার ত্বককে সতেজ রাখতে ও চুলকে চকচকে রাখতে সাহায্য করে।

আপনি যদি জিরার পানি পান করা শুরু করেন তাহলে দেহ থেকে টক্সিন উপাদান বের হয়ে যায়, ফলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হতে শুরু করে। এবং চুল স্বাস্থ্যকর ও ঘন হতে থাকে। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

জিরা পটাশিয়াম, আয়োডিন, এবং ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস।নিয়মিত জিরার পানি সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। 

আরও পড়ুন ঃআদা খাওয়ার উপকারিতা

এটি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাকে কম করতে সাহায্য করে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং সুস্থ করতে জিরার পানি অবশ্যই পান করা প্রয়োজন। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

আমাদের দেশের যে হারে ক্যান্সার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে জিরার পানি পান করার যে প্রয়োজন আছে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই একাধিক গবেষণায় দেখা যায় যে। জিরার পানিতে একটি cardcinogeno  বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি মেটাস্ট্যাটিস প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এতে এন্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যা আমাদের দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

অ্যানিমিয়া দূর করে

দেশে অধিকাংশ মহিলাদের মধ্যে অ্যানিমিয়া মত সমস্যা দেখা যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

জিরা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-নিয়ম

জিরার বীজে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন  গঠনের জন্য প্রয়োজন। নিয়মিত জিরার পানি পান করলে অ্যানিমিয়ার উপসর্গ প্রতিরোধ ও কমাতে সাহায্য করে।

ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করে

আপনার সর্দি কাশি বা শ্বাস কষ্টের সমস্যা থাকলে আপনি জিরার পানি খেতে পারেন। এতে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে,যা আপনার শ্বাসনালী কে প্রশবিত করতে পারে এবং আপনাকে আরাম দায়ক শ্বাস নিতে সাহায্য করে। এছাড়াও জিরার জ্বলে আরো অনেক উপকারিতা আছে। যেমন দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে এবং হৃদ যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। 

শেষ কথাঃ  জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

উপরের কনটেন্টটি পুরোপুরি পড়লে আশা করি বুঝতে পেরেছেন জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম গুলো সম্পর্কে। দৈনন্দিন জীবনে জিরার বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। জিরা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে এছাড়াও ওজন কমাতে বেশ ভূমিকা রাখে জিরা।

আরও পড়ুন ঃ নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা

জিরা পানি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে রাখতে পারে। এছাড়াও জিরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুল ও ত্বক ভালো রাখে। আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে এবং ঠান্ডা জনিত সমস্যা হতে শরীরকে রক্ষা করে। 

উপরের কনটেন্টে জিরা সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আশা করি জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম গুলো সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পেয়েছেন। আমাদের পোস্টে যদি ভালো লাগে এবং এরকম নতুন নতুন পোস্ট পেতে চান তাহলে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url