টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
দই খেতে আমরা অনেকেই ভালবাসি কিন্তু টক দই কজনে খাই। মিষ্টি দই এর স্বাদ অনেক কিন্তু টক দই খাওয়ার উপকারিতা অনেক।
আপনি যদি টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান।তাহলে সঠিক পোস্টের ভেতরে এসেছেন। নিচের কনটেন্টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি টক দই সম্পর্কে সকল ধারণা আপনি পেয়ে যাবেন।
সূচি পত্র ঃ টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
- টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
- টক দই হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
- ওজন কমায় টক দই
- টক দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
- টক দই আলসারের সম্ভাবনা কমায়
- টক দই বার্ধক্য রোধ করে
- টক দই স্কিনের উজ্জ্বলতা বাড়াই
- টক দই খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে
- টক দই যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
- মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে টক দই
- টক দই এর উপকারিতা সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা
- এছাড়া টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন
টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
টক দই শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী এটা আমাদের সকলের জানা কিছু মানুষ আছেন যারা প্রতিদিন দুপুরে টক দই খান। যারা প্রতিদিন টক দই খান তাদের স্বাস্থ্য কিন্তু স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তেমন কোন রোগ কিন্তু তাদের হয় না। গরমে শরীরকে শীতল রাখতে টক দইয়ের জুড়ি মেলা ভার।
এইজন্য দক্ষিণ ভারতের লোকেরা এত টক দই খেয়ে থাকেন। ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম টক দই থেকে আপনি পাবেন ১০০ থেকে ১৫০ ক্যালোরি শক্তি, ৩.৫ গ্রাম ফ্যাট, ২০গ্রামের মতো কার্বোহাইড্রেট, এবং ৮-১০ গ্রামের মতো প্রোটিন, আর বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে ভিটামিন ডি আর ক্যালসিয়াম।
আরও পরুনঃ এলাচ খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে টক দই খান তাহলে কোন শারীরিক সমস্যা আপনার থাকবে না। প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে থেকে মানুষ দই বানানো ও দই খাওয়া শুরু করেছে। পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। পৃথিবীর সব জায়গাতে দই খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
আমরা দুই রকমের দই খেয়ে থাকি যেমন টক দই ও মিষ্টি দই। যদিও দুই ধরনের দই মানুষ পছন্দ করে থাকে তবে টক দই কিন্তু বেশি উপকারী মিষ্টি দইয়ের থেকে। বেশিরভাগ মানুষী দুপুরে খাবারের পর দই খেয়ে থাকেন আর এই অভ্যাসটি খুবই উপকারী।
টক দই হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
আমরা সারাদিন নানা রকমের খাবার খেয়ে থাকি। অনেক সময় আমাদের শরীরের তা হজম করতে পারেনা তার ফলে পেটে নানা রকম অসুবিধা দেখা দেয়। টক দই কিন্তু আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে তোলে যার ফলে আমাদের শরীরের শক্তি বাড়ে
এবং পেটের সমস্যা দূর হয়ে যায় কারণ খাবার সহজেই হজম করতে পারে টক দই। টক দই এর ব্যাকটেরিয়া খুবই উপকারী আর এই উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে টক দই।
টক দই হাড় মজবুত করে
টক দই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এই দুই উপাদানী হাড়ের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। নিয়মিত টক দই খেলে হাড় মজবুত হবে বিশেষ করে বিশেষ করে মহিলাদের টক দই খাওয়া প্রয়োজন। কেননা মহিলারাই সিয়ামের অভাবে বেশি ভোগেন।
৩০ বছর বয়সের পর থেকে মহিলাদের ক্ষেত্রে হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। তাই মহিলাদের নিয়মিত টক দই খাওয়া প্রয়োজন।
ওজন কমায় টক দই
এর অতিরিক্ত ওজন আমাদের অনেক সমস্যার কারণ। এই অতিরিক্ত ওজনের জন্য আমরা অনেক রোগের শিকার হতে পারি। তবে নিয়মিত টক দই খেলে কিন্তু আপনি খুব সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। টক দই শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট গোলিয়ে দেয় সঙ্গে ওজন কমিয়ে ফিট রাখতে সাহায্য করে।
তাই পুষ্টিহীন খাবার বা বেশি ক্যালরিযুক্ত জাঙ্ক ফুড না খেয়ে পুষ্টিকর টক দই খাওয়া উচিত কারণ এতে রয়েছে আমিষ। যেহেতু আমি হজম হতে সময় লাগে তাই এটি খেয়ে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভব হয় ও অতিরিক্ত খাবার খেতে ইচ্ছে করে না।
টক দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
নিয়মিত টক দই খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়বে ছাড়া টক দই রক্তের শ্বেত কণিকা বাড়িয়ে দেয় যা জীবাণু সংক্রমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে দইয়ের মধ্যে প্রোবায়োটিক্স অন্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি খাদ্যনালীতে কোষ উৎপাদনের ও ভূমিকা নেই প্রবায়োটিকস।
টক দই আলসারের সম্ভাবনা কমায়
টক দই আমাদের পেটের আলসার হওয়ার সম্ভাবনা হওয়াকে অনেকটাই আটকায় এছাড়া আমাদের অন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে। তাই দুপুরে খাবারের পর টক দই খাওয়া একটি ভালো অভ্যাস।
আরও পরুনঃঅলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি
কারণ টক দই পাকস্থলীর নানা সমসাকে দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে বিশেষ করে লে্ক্টসের সংবেদনশীলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের নানা সমস্যা দূর করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
টক দই বার্ধক্য রোধ করে
টক দই শরীরে টক্সিন জমতে দেয় না ও অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
শরীরের টক্সিন কমার কারণে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় ও তারণ্য বজায় থাকে। তাই নিজেকে ফিট ও ইয়াং রাখতে আমাদের নিয়মিত টক দই খাওয়া উচিত।
টক দই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
টক দই শরীরের রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন এক কাপ করে টক দই খেলে চরক্তচাপ প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার একটি ভয়ংকর সমস্যা। বেশির ভাগ মানুষকেই এই রোগে আক্রান্ত হলে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় তাই হাইব্লাড প্রেসারে
যদি আক্রান্ত হতে না চান তাহলে নিয়মিত টক দই খেতে পারেন। বাচ্চাদের পাচনতন্ত্র বড়দের মতো থাকেনা বরং পাচনতন্ত্র থাকে অনেকটাই দুর্বল এই কারণেই তারা সব ধরনের খাবার খেতে পারে না কারণ হজমে সমস্যা হয়।
আরও পরুনঃ সকালে খালি পেটে মেথি খাওয়ার উপকারিতা
কিন্তু টক দই এমন একটি খাবার যা খুব সহজেই বাচ্চারা হজম করতে পারে। এছাড়াও টক দইয়ের মধ্যে থাকে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যা বাচ্চাদের নরম হাড়কে শক্ত বানাই আর বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
টক দই স্কিনের উজ্জ্বলতা বাড়াই
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে দই এর ভূমিকা অনবদ্ধ টক দই বেসন ও মধ ভালো করে মিশিয়ে নিন তারপর এই মিশ্রণটি ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক আরো উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত হবে।
টক দই খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে
টক দই রক্তে খারাপ কোলেস্টরেল কমাতে সাহায্য করে। দয়ে থাকে ল্যাকটোবেসেলার্স এ্যাসেডোফেলাস এর মত বিভিন্ন প্রবায়টিক্স যা এল, ডি, এল, কোলেস্টরেল কমাতে সাহায্য করে। এই খারাপ কলেস্টরেল থেকে আমাদের নানা রকম হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পরুনঃকোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কি খাওয়া উচিত
আই নিয়মিত টক দই খেতে পারলে রেস্টোরেলের খারাপ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। টক দই প্রচুর উপকারিতা, টক দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্লাইভিন,ভিটামিন বি সিক্স, এবং ভিটামিন বি টুয়েলভ পাওয়া যায়। টক দই কে দুধের চাইতেও বেশি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ধরা হয় কারণ দুধের চেয়ে বেশি ভিটামিন। যেমন-ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে।
টক দই যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
অনেক পুরুষ যৌন অক্ষমতা কমাতে নানা ধরনের ওষুধ খান। তারা নিয়মিত টক দই খেলে যৌন অক্ষমতার হাত থেকে রেহাই পাবেন।
মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে টক দই
আজকের প্রতিযোগিতার বাজারে কে না দুশ্চিন্তা আর অবসাদে ভোগেন। এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছেন টক দইয়ে। রোজ এই খাবার খেলে হাসতে হাসতে দুশচিন্তা ও অবসাদের কবল থেকে মুক্ত থাকবেন আপনি।
টক দই শরীরের পাশাপাশি নার্ভ ঠান্ডা রাখে আর স্নায়ও বসে থাকলে উত্তেজনাও কম হয়। ফলে আপনি খুবই সহজেই দুশ্চিন্তা ও অবসাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
টক দই এর উপকারিতা সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা
যেমন টক দই খেলে এসিড হয়, মাংস খাওয়ার পর দই খাওয়া উচিত নয়, দই খেলে ঠান্ডা লাগে এইগুলা সবই ভুল ধারণা। কারণ দই নিজে অন্য খাদ্যকে পরিপাক করিয়ে এসিড নষ্ট করে। ও মাংস খাওয়ার পর দই খেলে তা থেকে উপকার পাওয়া যায় কারণ দই আমিষ সহযমে সহায়তা করে।
আর দই খেলে ঠান্ডা লাগে না বা গলা নষ্ট হয় না। তবে ফ্রিজে রাখা হিম শীতল দই খেলে গলার ক্ষতি হতে পারে।
এছাড়া টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন
যেমন-দুপুরে খাবার খাওয়ার পর টক দই খাওয়া আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই ভালো। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন দরকারের থেকে বেশি দই যেন না খেয়ে ফেলি আমরা।
টক দই এর সাথে কখনো চিনি মিশিয়ে নিয়ে নিবেন না প্রয়োজনে সামান্য পরিমাণে বিট লবণ নিতে পারেন।
বেশি পরিমাণে টক দই আমাদের শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম সৃষ্টি করে যা থেকে বিভিন্ন রকম জটিলতা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম টক দই খাওয়া উচিত।
নিজেকে যদি ইয়াং আর ফিট রাখতে চান তাহলে প্রতিদিন টক দই খেতে পারেন।
শেষ কথা : টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
উপরের কনটেন্টটি পুরোপুরি করলে আশা করি জানতে পেরেছেন টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে। আরো জানানোর চেষ্টা করেছি টক দই কিভাবে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। টক দই হাড় মজবুত করে এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে।
আরও পরুনঃ দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
এছাড়ায় টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে ও আলসারের সম্ভাবনা কমাই। এছাড়া টক দই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, বার্ধক্য রোধ করে, এবং স্কিনের উজ্জ্বলতা বাড়াই। এছাড়া টক দই শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।
এছাড়া টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখার প্রয়োজন তার সবগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আশা করি আপনার বুঝতে পেরেছেন টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে। প্রতিদিন নতুন নতুন ইনফরমেটিভ কনটেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url