নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
কিসমিস খেতে কার না ভালো লাগে। অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি খাবার কিসমিস। নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক দুটোই রয়েছে।
কিসমিস খেতে পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুব কমই আছে। ছোট বড় সবারই কিসমিস অনেক প্রিয় একটি খাবার এবং এটি দেহের পুষ্টি সাধনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেকেই জানে না আসলে কিসমিস কতটুকু খাবে কিভাবে খাবে। কিভাবে কিসমিস খেলে এর উপকারিতা টা সঠিক ভাবে পাওয়া যাবে তা জানতে নিজের পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ুন। আশা করি বুঝতে পারবেন নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক গুলো সম্পর্কে।
সূচি পত্রঃ নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
- নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
- এসিডিটি দূর করে কিশমিস
- হৃদ যন্ত্র ভালো রাখে কিসমিস
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কিসমিস
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে কিসমিস
- যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় কিসমিস
- চুল ভালো রাখে কিসমিস
- ক্যান্সার প্রতিরোধ করে কিসমিস
- সংক্রমণ প্রতিরোধ করে কিসমিস
- রক্তশূন্যতা দূর করে কিশমিস
- পেটের সমস্যা দূর করে কিসমিস
- কিসমিস খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
আমাদের দেহে আয়রনের অভাব দূর করার পাশাপাশি রক্তের লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়াই কিসমিস।কিন্তু শুকনো কিসমিস খাওয়ার বদলে ভিজে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কিশমিশানো পানি রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
নিয়মিত কিসমিস ভিজানো পানি পান করলে এসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবেন অসদ ছাড়াই। এছাড়াও কিসমিস হৃদ যন্ত্র ভালো রাখে কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাখে। কারণ কিশমিশে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান যা রোগ মুক্তির আসল কারণ।
আরও পড়ুন ঃ নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা
পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে কিসমিস উৎপাদিত হয়। শক্তিবর্ধক ও ক্যালরির উৎস হিসাবে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এজন্য কিসমিস কে শুকনো ফলের রাজা বলা হয়। শুকনো ফলের শ্রেণীতে কিশমিস কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে অনেক প্রয়োজনীয় ফাইটোকেমিক্যালস উপস্থিত রয়েছে। এছাড়াও এটি এন্টি অক্সিডেন্ট ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান পাওয়া যায়।
নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক রয়েছে যেমন-
এসিডিটি দূর করে কিশমিস
বর্তমানে এসিডিটি একটি সাধারন সমস্যা যাতে বুক থেকে পেট অব্দি জ্বালাপোড়া অনুভব হয়। এরকম সমস্যা দূর করার জন্য কিসমিসের সাহায্য নিতে পারেন। কারণ এতে খরিতে বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা শরীরে এসিডিটির পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
এর জন্য সকালে খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি পান করতে পারেন। এছাড়াও এসিডিটির মত সমস্যা দূর করার জন্য সারাদিন সঠিক পরিমাণে অবশ্যই পান করতে হবে। তবেই কিন্তু এর প্রকার পাবেন।
হৃদ যন্ত্র ভালো রাখে কিসমিস
নিয়মিত কিসমিস খেলে আপনার হৃদ যন্ত্র ভালো থাকবে। একটি গবেষণা অনুসারী কিশমিস খারাপ কোলেস্টরেল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে । এটা আমরা সবাই জানি যে এল, ডি, এল,
আরও পড়ুন ঃ জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
বা খারাপ কোলেস্টোরেল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণে উপস্থিত থাকলে যেকোনো সময়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হতে পারে। তাই এই সমস্যা দূর করতে সকালে খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো পানি পান করতে পারেন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কিসমিস
শুকনো ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতার মধ্যে কিসমিস কে উচ্চ স্থান দেওয়া হয়। কারণ এতে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যাল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এছাড়াও কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক পক্ষে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত কিসমিস খেলে তা ধীরে ধীরে রক্তে সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে কিসমিস
আমাদের মধ্যে অনেকেই এটা বিশেষ করে যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কখনোই কিসমিস খেতে পারে না। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে সীমিত পরিমাণে কিসমিস খেলে তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।
কারণ কিসমিসে উপস্থিত থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ইনসুলিন প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে একটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আরও পড়ুন ঃ গোল মরিচের উপকারিতা
তবে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কখনোই অতিরিক্ত পরিমানে কিসমিস খাবেন না। সামান্য পরিমাণে সপ্তাহে দুই দিন কিসমিস খেতে পারেন। এর সাথে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ও ডায়েট গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।
যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় কিসমিস
নিয়মিত কিসমিস খেলে যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উপকারিতা পাওয়া যায়। কিশমিশে বরণ নামক খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে। এখনই উপাদানটি নারী ও।পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে থাকে।
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি ও পুষ্টি উপাদান। এবং নিয়মিত কিসমিস খেলে আমাদের রক্ত চলাচল সঠিক থাকে। এর ফলে যৌন দুর্বলতা দূর করতে ও যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এটি দারুন ভাবে সাহায্য করে থাকে।
চুল ভালো রাখে কিসমিস
কিসমিসে প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য যা free radical এর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে থাকে। এই ফ্রিরেডিক্যালস গুলি চুলের ক্ষতি করতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। এগুলি চুলের অকালপক্কতা ও চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন ঃভিটামিন ই ক্যাপসুল এর ব্যবহার
এছাড়াও কিসমিস চুলের গোড়া মজবুত করবে ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে থাকে। কিশমিশে থাকে ভিটামিন সি, আইরন ও বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান যা চুলকে প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ও কালো রাখতে সাহায্য করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে কিসমিস
কিসমিসের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান ক্যান্সারের মতো মারান রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। কিসমিসের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও অন্যান্য ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে কিসমিস কিভাবে সাহায্য করে তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন। এটি কিন্তু ক্যান্সার পড়াতে পারেনা। তাই ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তির অবশ্যই চিকিৎসার প্রয়োজন।
সংক্রমণ প্রতিরোধ করে কিসমিস
সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে কিসমিসের ভূমিকা অনবদ্য, এতে এমন অনেক গুণ পাওয়া যায়। যায় অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং এনএন্টি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমনের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে।
এছাড়াও কিশমিশ মুখের ব্যাকটেরিয়া মূলত মুখ বিবরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের দাঁত ভালো থাকে।
রক্তশূন্যতা দূর করে কিশমিস
আমাদের দেহে আয়রন এর অভাব হলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। যার ফলে শরীরে অক্সিজেন সরবারাহ ঠিকমতো হয় না। আমাদের দেশে অনেক মহিলা ও পুরুষের মধ্যে রক্তশূন্যতার সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে কিসমিস খুবই কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। এই সমস্যার দূর করার জন্য প্রতিদিন সকালে কিসমিস ভেজানো পানি পান করতে পারেন। এতে অবশ্যই উপকার পাবেন।
পেটের সমস্যা দূর করে কিসমিস
যাদের হজমের ও পেটের সমস্যা রয়েছে, তারা কিশমিশ ভেজানো পানি পান করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়াও আমাদের মধ্যে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা যায়।
তাদের জন্য কিসমিস দারুন উপকারি। কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতে সকালে খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো পানি পান করতে পারেন। এতে অনেক উপকার পাবেন।
এছাড়াও কিশমিশের অনেক উপকারিতা আছে যেমন-
চোখ ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অনিদ্রা দূর করে ইত্যাদি। শুকনো ফলের রাজা কিসমিস সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী। দিনে ৫০ গ্রামের মতো কিসমিস খাওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের অবশ্যই কম পরিমাণে কিসমিস খাওয়া উচিত। এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন ঃভিটামিন কি এবং কেন ভিটামিন খাবেন
কিসমিসের সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে আগের দিন রাতে আপনার প্রয়োজন মত একটি পাত্রে বিশুদ্ধ পানিতে কিশমিশ ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এবং পরের দিন সকালে খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি পান করতে হবে। এতে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়।
কিসমিস খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খেলে অপকারিতা দেখা দিতে পারে। যেমন-ওজন বৃদ্ধি হতে পারে, এলার্জি দেখা দিতে পারে, ডায়রিয়া বা পেটে গ্যাস হতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণে প্রয়োজন মত কিসমিস খাওয়া প্রয়োজন।
শেষ কথা ঃ নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
উপরের কনটেন্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি কিসমিস সম্পর্কে সকল ধারণা
পেয়ে গেছেন। নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক রয়েছে।
উপকারি দিকগুলোর ভিতরে কিসমিস এসিডিটি দূর করে, হিট যন্ত্র ভালো রাখে এবং
শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়া কিসমিস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। চুল ভালো রাখে কিসমিস এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও কিসমিস সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ,শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে এবং পেটের সমস্যাও দূর করে। এছাড়াও কিসমিসের নানা বিধ উপকারিতা রয়েছে।
আশা করি নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক কন্টেন্টটি আপনাদের ভালো
লেগেছে। আপনাদের ভাল লাগায় আমাদের এরকম নতুন নতুন ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট লিখতে
উৎসাহিত করবে। প্রতিদিন নতুন কিছু পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম
এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url