শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার উপায়
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়
- শারীরিক ভাবে দুর্বল এবং সুস্থ থাকার উপায়
- রক্তশূন্যতা
- হাইপো থাইরয়েডিজম
- ডায়াবেটিস
- উদ্বিগ্নতা ও হতাশা
- প্রতি রাতে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো
শারীরিক ভাবে দুর্বল এবং সুস্থ থাকার উপায়
দুর্বলতা খুব কমন একটি শারীরিক সমস্যা। অনেক সময় আমাদের শরীর দুর্বল বা খুব ক্লান্ত বা অবসন্ন লাগে। কোন কাজেই আমরা শক্তি পাই না।
দুর্বলতার একটি কারণ হলো কাজের পর tiredness বা ক্লান্তি যেটা খুব স্বাভাবিক এবং আমরা একটু রেস্ট নিলেই বাঘ ঘুমালেই কেটে যায়। কিন্তু কিছু কিছু দুর্বলতা আছে যেটা বিশ্রাম নিলেও যায় না।
অনেক শারীরিক অসুস্থতা যেগুলোর কারণেই শরীর দুর্বল হয়। যেমন stroke তারপর দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগ যেমন ক্যান্সার, যক্ষা ইত্যাদি কিংবা অন্য যে কোন কারণের দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও দুর্বলতা থাকে। যেগুলোসহজেই বোঝা যায়।
রক্তশূন্যতা
যদিও রক্তশূন্যতা কথাটি ঠিক নয় এটি একটি প্রচলিত ভুল। কারণ পুরোপুরি রক্তশূন্যতা হয়ে একজন মানুষের বেঁচে থাকা কখনোই সম্ভব নয়। তাই কথাটি হবে রক্ত স্বল্পতা অর্থাৎ শরীরে রক্ত কমে যাওয়া। এমন হলে আমরা অনেক সময় বুঝতে পারিনা কিন্তু সারাক্ষণ দুর্বল লাগে।
কারণ শরীরের রক্ত কমে গেলে মানে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পাইনা। আর hemoglobin এর কাজ হল অক্সিজেন ক্যারি করে সমস্ত শরীরের কোষে কোষে তা পৌঁছে দেওয়া। যেহেতু কোষের খাদ্য হলো অক্সিজেন।
আরও পরুনঃ ছেলেদের চুলের যত্নে কয়েকটি টিপস
তাই অক্সিজেনের অভাব হলে শরীরে কোন এনার্জি পাই না সারাক্ষণ দুর্বল লাগে। বিভিন্ন কারণে রক্ত কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রধানতম কারণ হলো শরীরে আয়রনের ঘাটতি। এইজন্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে আপনি সহজেই এই দুর্বলতা কাটাতে পারেন। আয়রনের কারণ ছাড়াও আরো কিছু কারণে hemoglobin কমে যেতে পারে।
হাইপো থাইরয়েডিজম
থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে অর্থাৎ হাইপো থাইরয়েডিজম সমস্যায়েও সারাক্ষণ দুর্বল লাগে সিম্পল কিছু টেস্ট নিলে এটা সনাক্ত করা যায়। এবং সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট নিলেই খুব সহজেই শারীরিক দুর্বলতার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
ডায়াবেটিস
শারীরিক দুর্বলতার আরেকটি প্রধান কারণ ডায়াবেটিকস । দুর্বলতা ছাড়াও ডায়াবেটিস হলে আরো কিছু লক্ষণ থাকে। সেরকম হলে রক্ত রক্তের সুগার টেস্ট করে সহজেই আপনি জেনে নিতে পারবেন আপনার দুর্বলতার কারণ ডায়াবেটিস কিনা।
উদ্বিগ্নতা ও হতাশা
এই কারণটি ও আমরা অনেক সময় overlook করে যাই। উদ্বিগ্নতা এবং হতাশায় থাকলে আমাদের মন এবং মস্তিষ্ক জুড়ে শুধু দুশ্চিন্তা বা হতাশা খেলা করে। ফলে কোন কাজই উৎসাহ বা উদ্দীপনা জাগে না সারাক্ষণ দুর্বল লাগে।
আরও পরুনঃ কাঁচা হলুদ খাওয়ার উপকারিতা
এটা থেকে বের হওয়ার খুব সহজ আবার একটু কঠিনও।কারণ সিম্পল কিছু meditation বা brething treatment ফলো করে। এটা কাটানো সম্ভব কিন্তু আবার এই অর্থে কঠিন যে এর জন্য অবশ্যই আপনার প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে।
প্রতি রাতে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো
সর্বোপরি প্রতি রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো।কারণ রাতে সারাদিন ঘুম ঘুম ছিমোনি ভাব বাহ দুর্বল লাগবে এটাই স্বাভাবিক। আর এই দুর্বলতা পৃথিবীর কোন ডাক্তার কোন ওষুধে সারাতে পারেনা। অনেকেই দীর্ঘক্ষন ঘুমান কিন্তু ঘুমটা গভীর হয় না।
অর্থাৎ সাউন্ড স্লিপ যেটাকে বলা হয়। এই ধরনের ঘুমে কোন সুফল পাওয়া যায় না। এবার মিলিয়ে দেখুন আপনার ক্ষেত্রে কোনটি ঘটেছে। গড়ার মূল আইডেন্টিফাই করে। সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করলেই খুব সহজেই দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক দুর্বলতা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। যাদের দুর্বলতা আছে তারা শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসুন ভালো থাকুন।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকার উপায়
- মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকার উপায়
- নিজের যত্ন নেওয়া
- পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম
- নিয়মিত ব্যায়াম
- শখের কাজ করা
- নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা
- কৃতজ্ঞতা থাকা
- প্রিয়জনের সাথে সুন্দর সময় কাটানো
- সব সময় সক্রিয় থাকা
- ক্ষমা করা
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকার উপায়
মানসিক স্বাস্থ্য কি তা বুঝতে হলে আমাদের আগে বুঝতে হবে স্বাস্থ্য কি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে স্বাস্থ্য হলো ব্যক্তি শারীরিক-মানসিক এবং সামাজিক এই তিনটি অবস্থা একটি বোল নয়।শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা যতটা সচেতন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আমরা ততটা সচেতনতা দেখায় না।
আরও পরুনঃ আদা চা খাওয়ার উপকারিতা
কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে তার শারীরিক স্বাস্থের উপরে ভিশন প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য।অথোপ্রোত ভাবে জড়িত। সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য শারীরিক সুস্থ্য। যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হল মনকে সুস্থ রাখা।
নিজের যত্ন নেওয়া
মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য নিজের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। তার মধ্যে হতে পারে নিজেকে আপনি নিজের জন্য কিছু আলাদা সময় রাখতে পারেন। নিজের মনের কথা শুনতে পারেন। কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন। কিছু ভালো বই পড়তে পারেন। কিছু ভালো গুন শুনতে পারেন। এবং সব সময় চেষ্টা করবেন অবশ্যই অতীত এবং ভবিষ্য সব ভুলে বর্তমান নিয়ে থাকা।
পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার কেবল আমাদের শরীরকেই নয় মন কেউ ভালো রাখবে। তাজা ফলমূল ও সবজি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া পুষ্টিকর খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম
শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোন বিকল্প নেই। তেমনি মনকেসুস্থ রাখতেও ঘুমের বিকল্প নেই। কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। যার ফলে আমরা ক্লান্তি বোধ করি। ঘুমের সময় আমাদের শারীরিক যে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ গুলো থাকে তা ছাড়িয়ে তোলে। আমাদের মনো মেজাজ কেচাঙ্গা করে রাখে তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে ও অবশ্যই তো পরিমাণে বিশ্রাম জরুরী।
নিয়মিত ব্যায়াম
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শারীরিক ব্যায়াম খুবই জরুরী। stress ও বিষন্নতা কাটাতে ব্যায়াম খুবই কাজে আসে। ব্যায়ামের পরে শরীরে ফুর্তি আসে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ রাস পাই। তাই মনকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
শখের কাজ করা
নিজের শখের কাজগুলো করতে পারলে মন ভালো থাকে। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। দুশ্চিন্তা মাথায় আসেনা। যেমন বাগান করা, রান্না করা, সেলাই করা, নতুন নতুন কিছু জিনিস শেখা, নতুন নতুন কিছু করা, পরে মস্তিষ্কে কর্ম ক্ষমতা ও যোগনতা বৃদ্ধি পায়।
নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা
নিজের দুর্বলতা গুলো মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখলে নিজের জীবন খুব সহজেইএগিয়ে চলে। এবং নিজের মধ্যে সেই এগিয়ে চলার সাহস বৃদ্ধি পায়।আমরা কেউ নিখুঁত নয়। অন্যের সাথে নিজের তুলনা করতে গিয়ে নিজের দুর্বলতাকে নিয়ে তুলনা করতে গিয়ে আমরা অনেক বেশি চিন্তা করি।
আরও পরুনঃ চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
যেটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা বোকামি। এতে নিজের মধ্যে ক্ষীন্নমণতা , হতাশা, বিষন্নতা, বৃদ্ধি পায়। তার থেকে নিজের দুর্বলতা গুলোকে মেনে নিয়ে সেগুলোকে দূরে রেখে চেষ্টা করা উচিত নিজের ওপর নিজের বিশ্বাস রাখা। এতে নিজের কর্ম ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
কৃতজ্ঞতা থাকা
সারাদিন কি কি পেয়েছো তার একটা লিস্ট বানাও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। পাওনি তা নিয়ে কষ্ট পেওনা। আর যতটুকু পেয়েছ তা নিয়ে খুশি থাকার চেষ্টা কর। এতে নিজের গুনের ভেতরে ইতিবাচক ব্যাপার গুলো জন্মে।
প্রিয়জনের সাথে সুন্দর সময় কাটানো
প্রিয়জনের সাথে সুন্দর সময় কাটালে মন অনেক সুস্থ থাকে। নিজেকে ঘরবন্দী রাখলে হতাশা এবং দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে।
ফলে আমরা মানসিকভাবে অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে যায় বন্ধু বান্ধব পরিবারের সাথে মন খুলে মেলামেশা করা, হাসাহাসি করা, আলিঙ্গন করা, এগুলো মনকে অনেক বেশি সুস্থ রাখে।
সব সময় সক্রিয় থাকা
অলস হয়ে ঘরে পড়ে থাকলে নিজের শারীরিক ভাবে আমরা অনেক বেশি অলস হয়ে যায়। এতে আমাদের মাথায় নানা ধরনের দুশ্চিন্তা জন্ম নেয়। যার ফলে আমরা মানসিকভাবে অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই চেষ্টা করব কোন না কোন কিছু নিয়ে আমাদের নিজেদের কে অনেক বেশি সক্রিয় রাখা। নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখা। যার ফলে আমরা আমাদের মানসিক চিন্তা গুলোকে অনেক বেশি স্ট্রং করতে পারব।
ক্ষমা করা
দীর্ঘদিন ধরে কারো প্রতি যদি কোন ক্ষোভ জমে থাকে তাহলে চেষ্টা করব আমরা সে মানুষটিকে ক্ষমা করে দেওয়া। এতে নিজের মানসিক অসুস্থতা থেকে আমরা অনেক বেশি দূরে থাকবো। কারন আমরা জানি ক্ষমাই মহত্বের লক্ষণ।
আর ক্ষমা করে দিলে আমাদের মানসিক ভাবে আমরা অনেকগুলো টেনশন থেকে দূরে থাকবো। তাকে নিয়ে আমরা আর দুশ্চিন্তা কখনোই করব না। তাই চেষ্টা করব ক্ষমা করে নিজে মানসিক শান্তি পাওয়া।
শেষ কথা: শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার উপায়
উপরের কনটেন্টে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার উপায়গুলো পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যদি আপনি পোস্টটি পুরোপুরি করে থাকেন তাহলে আশা করি সুস্থ থাকার উপায় বলে সম্পর্কে আপনি জেনেছেন। কি কারনে আপনার শারীরিক দুর্বলতা আসতে পারে এবং কিভাবে সেটাকে ওভারকাম করতে পারবেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন
সে সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছে আশা করি আপনাদের সেটা বুঝতে বাকি
নেই। আমাদের পোস্টে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের সঙ্গে থাকুন এবং
প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটে। আপনাদের ভালো লাগাই আমাদেরকে আরো
নতুন নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট লিখতে উৎসাহিত করবে সঙ্গে থাকুন আমাদের ওয়েবসাইট
কিছুক্ষণ ডট কম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url