ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন এক যুগান্তকারী পরিবর্তনে আছে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। আগে যেখানে একটি ডাক কিংবা কোন একটি খবর পাঠাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় 

ছাত্র-জীবনে-মোবাইল-ফোনের-অপকারিতা-ও-উপকারিতা

কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে মাসের পর মাস সময় লেগে যেত। কিন্তু বর্তমানে এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা মুহূর্তেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা এক দেশ থেকে অন্য দেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। 

সূচিপত্রঃ ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা দুটো রয়েছে। এটা নির্ভর করে মোবাইল ব্যবহারকারীর যে কিনা মোবাইলটা ব্যবহার করছে। বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ আর এই তথ্য প্রযুক্তি যুগের অন্যতম এক আবিষ্কার মোবাইল ফোন । আর এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুরো বিশ্বটা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। 

আরও পড়ুন ঃগাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

এই মোবাইল ফোনের ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা নতুন অনেক কিছু জানতে পারছে। এবং পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাসের বাইরেও অনেক কিছু শিখতে পারে। অনেক গল্প উপন্যাস পড়ে এবং আধুনিক যুগ উপযোগী জীবনদারা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সচেতন হতে পারে। 

মোবাইল ফোন কি

মোবাইল ফোন এক ধরনের সেলুলার তারবিহীন ফোন। এটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির নেই কাজ করে। এটি যে কোন জায়গায় ব্যবহার ও বহন করা যায় কারণ এটি আকারে ছোট এবং ওজনে কম। আজকাল কারো সাথে কথা বলার জন্য আর তারের প্রয়োজন হয় না এটি হচ্ছে মোবাইল ফোন। এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বন্ধু আত্মীয়-স্বজন সবার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকি। 

আরও পড়ুন ঃ কিভাবে ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ ছাড়া পেটের চর্বি কমানো যায়

কিছু মোবাইল ফোনের পরিধি সীমিত ৫ কিলো ১০ কিলো ২০ কিলো এমনকি নির্দিষ্ট একটা জেলার ভিতরে এগুলোকে বলে ওয়ারলেস ফোন বা ওয়াকি টকি। আর কিছু ফোন রয়েছে সমগ্র বিশ্বব্যাপী সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে এদের নেটওয়ার্ক। আমাদের দেশের উল্লেখযোগ্য মোবাইল কোম্পানিগুলো হল গ্রামীণফোন, টেলিটক, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ইত্যাদি। 

চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া 

দীর্ঘক্ষণ যদি আপনি মোবাইলের দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকেন তাহলে অনেক সময় খেয়াল করে দেখবেন চোখে ঝাপসা দেখছেন। বিভিন্ন গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে চোখের খুব কাছে রেখে মোবাইল ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত মোবাইল দেখা এবং আজ থেকে দেখা এটাতে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আসংখ্যা থাকে।একজন মার্কিন বিজ্ঞানী বলেন খুব কাছ থেকে দেখার কারণে মোবাইলের নীল আলো চোখের রেটিনার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে এবং অন্ধত্বেরও কারণ হতে পারে । 

শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া 

ফোনে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলা, হেডফোন দিয়ে কথা বলা ও উচ্চস্বরে হেডফোনে গান শোনার কারণে শ্রবণ শক্তি  কমে যেতে পারে। বর্তমান সময়ে ১৫ থেকে ২৫ বছরের ছেলে মেয়েদের শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়ার হার সবচাইতে বেশি। দৈনিক যদি আপনি তিন থেকে চার ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করেন।

ছাত্র-জীবনে-মোবাইল-ফোনের-অপকারিতা-ও-উপকারিতা

 তাহলে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কিছুটা শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও যত্রতত্র কানে হেডফোন লাগিয়ে চলাফেরা করার কারণে অনেক অ্যাক্সিডেন্টের সম্ভাবনা রয়েছে। আজকাল পত্রপত্রিকায় এগুলো অহরহ দেখা যাচ্ছে। কাজেই আমাদের শোভন শক্তি ঠিক রাখার জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার লিমিটেশনের ভিতরে রাখতে হবে। 

মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর প্রভাব স্বাস্থ্যের উপরে 

অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের ব্রেনের টিউমার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্যান্সারের আশঙ্কা রয়েছে, এবং রাতে ঘুমটা ঠিক মত হয় না। আরে রাতে ঘুম ঠিক মতো না হওয়ার কারণে আমাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। লেখাপড়ায় ঠিকমতো মনোযোগ আসে না।

 আরও পড়ুন ঃরুট ক্যানেল করতে খরচ কত ও কিভাবে করতে হয়

কোন কিছুই ভালো লাগেনা শরীরটা ম্যাসেজ করে। এমনকি আমাদের খাবারের রুজিও কমে যায়। এগুলোর পেছনে মূল কারণটা হচ্ছে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। শুধু কথা বলা এটা একটা খারাপ দিক, অতিরিক্ত কথা বলা এটাও একটা খারাপ দিক, আর মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্ক থেকে টোপামিনের ক্ষরণ হচ্ছে। 

প্রথম অবস্থায় এক ঘন্টা ব্যবহার তারপর দুই ঘন্টা, তিন ঘন্টা, পাঁচ ঘন্টা এভাবে দেখা যাচ্ছে এক সময় মোবাইল ছাড়া থাকতেই পারছেন না। এটা ধীরে ধীরে আপনার দক্ষতাকে কমিয়ে দিবে, আপনার মেজাজটা কি খিটখিটে করে তুলবে, কাজেই মোবাইলের ব্যবহার কে আমাদের সংকীর্ণ করতে হবে। শুধুমাত্র প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবহার করতে হবে।

যোগাযোগের সুবিধা 

যোগাযোগের এক বিস্ময়কর মাধ্যম মোবাইল ফোন। এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে মুহূর্তেই যোগাযোগ করতে পারি। ছাত্র অবস্থায় কোন ছাত্র ছাত্রী যদি তাদের লেখাপড়ার কারণে মেসে কিংবা হোস্টেলে থাকে তাহলে এই মোবাইলের মাধ্যমে তারা তাদের ফ্যামিলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে। 

আরও পড়ুন ঃ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে ডিমান্ডেবল সেক্টর কোনটি

এবং নিশ্চিন্তে তারা তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে একটা কমিউনিকেশন দাড়ি রাখতে পারে। যদি কোন স্টুডেন্ট অসুস্থতার কারণে কোন একদিন স্কুল কিংবা কলেজে না যেতে পারে তাহলে সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে

 শিক্ষক কিংবা সহপাঠীর কাছ থেকে তার পরবর্তী দিনের লেসন প্ল্যান সম্পর্কেখুব সহজেই জানাইতে পারে। এবং পরবর্তী দিনে সে প্রিপিয়ার্ড হয়ে  হয়ে যেতে পারে । ফলে সেটা লেখাপড়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। 

শিক্ষা গ্রহণে মোবাইল ফোনের অবদান 

মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন অনেক তথ্য  জানতে পারছে। এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে দেশি-বিদেশি অনেক বিখ্যাত  লেখকের লেখা বইগুলো ঘরে বসে পড়তে পারছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। 

বিশেষ করে করোনা কালীন সময়ে যখন মানুষের ঘর থেকে বেরোনো নিষেধ ছিল তখন এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ঘরে বসে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছে। এবং তাদের শিক্ষার কার্যক্রম চালু ছিল। বর্তমান সময়ে কলেজ, ইউনিভার্সিটি এবং বিভিন্ন স্কুলে ভর্তির জন্য ভর্তি সংক্রান্ত সকল কিছু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা হয় ফর্ম পূরণ বিভিন্ন নোটিশ  আমরা কালেক্ট করতে পারি। 

ছাত্র-জীবনে-মোবাইল-ফোনের-অপকারিতা-ও-উপকারিতা

এমনকি কলেজের সকল তথ্য ওয়েবসাইট থেকে তার নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে জানতে হয়। এছাড়া যখন এসএসসি এইচএসসি কিংবা হায়ার লেভেলের কোন রেজাল্ট পাবলিস্ট হয় তাহলে সেটা সর্বপ্রথম আমরা ফোনের মাধ্যমে পেয়ে থাকি। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গার্জিয়ানরা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং তাদের ছেলে মেয়ে কেমন লেখাপড়া করছে সে সম্পর্কে সকল তথ্য শিক্ষকের কাছ থেকে জানতে পারে। 

শেষ কথা :ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা দুটো রয়েছে। এটা কতটুকু উপকারী এবং কতটুকু অবকারী এটা নির্ভর করবে আপনার ব্যবহারের উপরে। আপনি যদি এর ভালো দিকগুলো ব্যবহার করেন তাহলে আপনি এর থেকে উপকৃত হবেন। আর যদি আর খারাপ দিকগুলো ব্যবহার করেন যদি গেমে আসক্ত হয়ে পড়েন, 

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন এটা আপনার উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।কোথায় আসুন আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এর উপকারিতা গ্রহণ করি এবং খারাপ দিকগুলো বর্জন করি।ওপরের কন্টেনটি পড়ে আশা করে বুঝতে পেরেছেন ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।  

পোস্টটি যদি আপনার কোন উপকারে এসে থাকে তাহলে আমার লেখার সার্থকতা। এইরকম নতুন নতুন তথ্যমূলক পোস্ট পেতে প্রতিনিয়ত চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডট কম এ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url