মাটি, পানি, বায়ু, প্রাণিজগত, উদ্ভিদ জগত এ সকল কিছুর সমন্বয়ে গঠিত
আমাদের পরিবেশ। মানুষ ছোটবেলা থেকেই এই পরিবেশের মধ্যে ধীরে ধীরে বড় হয়।
পরিবেশের এই উপাদান গুলি একটি আরেকটি সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।
মানুষ তার পরিবেশের চারপাশকে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়েছে।বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত
জনসংখ্যা এবং এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদের চাহিদা
মেটাতে গড়ে উঠছে বিভিন্ন রকম কল কারখানা এবং ইন্ডাস্ট্রিজ। এখান থেকেই পরিবেশ
দূষণের সূত্রপাত।
পরিবেশ দূষণের ১০টি কারণ নিয়ে আজকের আলোচনা। পরিবেশ সাধারণত দুই ভাবে দূষিত হয়,
প্রাকৃতিক কারণে, এবং মানব সৃষ্ট কারেণ। প্রাকৃতিক কারণের ভেতরে ঘূর্ণিঝড়,
জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, অনা বৃষ্টি, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ইত্যাদি।
এছাড়া যে সকল কারণে পরিবেশ দূষণ হয় তার বেশিরভাগই মানব সৃষ্ট।পৃথিবীতে
জনসংখ্যার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাওয়ার কারণে বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য, বাসস্থান,
চিকিৎসা, পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদি চাহিদা মেটাতে তৈরি হচ্ছে কল কারখানা,
জমিতে অধিক খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে জৈব সার, কীটনাশক।এই সকল কার কারখানার
বর্জ্য পানিতে মিশে এবং এর দোয়া বাতাসকে দূষিত করছে। এছাড়াও জমিতে ব্যবহৃত জৈব
সার এবং কীটনাশকের ফলে মাটি দূষণ হচ্ছে মাটির উপরতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
বায়ু দূষণ
বায়ু পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলোর মধ্যে একটি। বিশুদ্ধভাবে ছাড়া
পৃথিবীতে কোন জীবের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। আর এখন বর্তমানে বিশুদ্ধ বায়ু
পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। অক্সিজেন ছাড়া যেমন মানুষ ও জীবজন্তু বাঁচতে পারেনা
ঠিক তেমনিভাবে বায়ু মানুষ এবং জীবজন্তু দিতে বিরাজমান যা কিছু আছে সবকিছুর ওপরেই
মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে তবে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে ধোয়া।
যেমন যানবাহনের ধোয়া, ইটের ভাটার ধোয়া, রান্নার ধোয়া , কল কারখানা ও শিল্প
প্রতিষ্ঠানের ধোয়া। এছাড়াও প্রকৃতি থেকে নির্গত কার্বনডাই অক্সাইড, নাইট্রাস
অক্সাইড, মিথেন গ্যাস বায়ুতে মিশে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে বায়ু দূষণ।
এছাড়া কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড পরিবেশের
জন্য অনেক ক্ষতি কর। এ সকল গ্যাস বাতাসের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে এসি তৈরি করে
এবং অনেক সময় এসিড বৃষ্টি আমরা দেখতে পাই যা আমাদের পরিবেশের উপর ব্যাপক ক্ষতির
প্রভাব ফেলে।
যে সকল যানবাহন আমাদের রাস্তায় চলাফেরা করে, সে সকল যানবাহনের কালো ধোয়া
সরাসরি বাতাসের সঙ্গে মিশে দূষিত করে যেটা বায়ু দূষণের বড় একটি মাধ্যম।
এছাড়া বিভিন্ন রকম কল কারখানার ধোয়া, ইটের ভাটার ধোয়া, ধুলাবালি, দাবানল,
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ইত্যাদি
নানা কারণে বায়ু দূষিত হয়। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে তাহলে
বায়ুমন্ডলে তাপমাত্রা অনেক গুন বৃদ্ধি পায় যা পরিবেশের জন্য অনেক হুমকির
স্বরূপ। শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই সকল ধোয়া গ্রহণের ফলে ব্রংকাইটিস ক্যান্সার
হাঁপানি ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি হতে পারে।
পানি দূষণ
পানি দূষণের প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে কলকারখানার বর্জ্য যেগুলো পানির
সঙ্গে মিশ পানি কে দূষিত করে। কলকারখানা থেকে নির্গত বিভিন্ন ধাতু, রং, এবং
রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি পানির সঙ্গে মিশে পানি দূষণ সৃষ্টি করে। বায়ু দূষণের
আরেকটি কারণ হচ্ছে তেল ভর্তি জাহাজ ডুবি।
সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত তেল উত্তোলনকারী যে সকল জাহাজগুলো রয়েছে যদি কোন দুর্ঘটনা
বর্ষিত কারণে সে জাহাজ গুলো বিস্ফোরিত হয় পা ডুবে যায় তাহলে সেই খনিজ তেল গুলি
ছড়িয়ে পড়ে এবং পানি দূষণের সৃষ্টি করে। আবার জমিতে অতিরিক্ত পরিমাণে রাসায়নিক
সার এবং ব্যবহারের ফলে যখন বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয়
তখন সে সকল পদার্থ গুলি নিচু জলাভূমিতে গিয়ে জমে এবং এর মাধ্যমে পানি দূষণ ঘটে।
এছাড়া বিভিন্ন রকম বাজার এবং হাসপাতালের বর্জ্য পদার্থ যদি পানির সঙ্গে
মিশে পানিকে দূষিত করে। অতিরিক্ত পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহারের ফলে ব্যবহার শেষে
আমরা যে প্লাস্টিক বা পলিথিনের ব্যাগগুলো পানিতে ফেলে দি সেগুলো থেকে পানি দূষণ
হয়।
এছাড়া আমাদের প্রতিদিনের গৃহস্থলীর কাজকর্মগুলো যেমন কাপড় কাঁচা, বাসন মাজা,
গরু ছাগল গোসল করানো, যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা,এবং স্তরের ময়লা
আবর্জনাগুলো পানিতে ফেললে পানি দূষণ হয়। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে একটু সচেতনতা
আমাদের রক্ষা করতে পারে।পরিবেশ দূষণের ১০টি কারণের মধ্যে একটি অন্নতম কারন।
শব্দ দূষণ
শব্দ হচ্ছে এক প্রকার শক্তি যা আমাদের কানে প্রবেশ করে শ্রবণের অনুভূতি
জোগাই।
কোন জিনিসের কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয় এ কম্পন বাতাসের মাধ্যমে
আমাদের কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে থাকে ছোট তিনটি হাড় এই হাড় তিনটির নাম
স্টেবিস, মিলিয়াস, ও ইউনোকাছ।
এই হার তিনটি কাপে এবং কম্পন কানের পর্দায় পৌঁছাই তারপর আমাদের মাথায়
শ্রবণের অনুভূতি তৈরি হয়। শব্দের এই কম্পন মাপার এককের নাম ডেসিবেল। ৬৫
থেকে ৮০ ডেসিবেল আওয়াজ অত্যন্ত বিরক্তিকর বা তীব্র আওয়াজ যুক্ত পরিবেশ। এবং আশি
থেকে ১২০ ডেসিমেল আওয়াজ
মাথা এবং কানে এসে ব্যথা অনুভূত হওয়ার মতো পরিবেশ। এবং ১২০ থেকে ১৫০
ডেসিবল আওয়াজ আমাদের শ্রবণ যন্ত্র হঠাৎ কান নষ্ট হওয়ার মত আওয়াজ যুক্ত পরিবেশ।
অর্থাৎ বলা যায় মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার বেশি শব্দ যা স্বাভাবিক জীবন
যাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় সেটাই শব্দ দূষণ।
শব্দ দূষণ বেশি হয় ছাপার কারখানা, পাথর ভাঙ্গার কারখানা,ফিড তৈরির
কারখানা, সারের কারখানা, বিভিন্ন রকমের গার্মেন্টস শিল্প ইত্যাদিতে প্রচুর
পরিমাণে শব্দ দূষণ হয়। দ্বিতীয়তঃ বিভিন্ন রকম যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক, বড় বড়
লরির হরণের শব্দ। এছাড়া ট্রেন ও বিমানের প্রচণ্ড রকম শব্দ শব্দ দূষণ
ঘাটাই।
আবর্জনা দূষণ
আবর্জনা দুষন একটি মারাত্মক দূষণ। বাসা বাড়ির বর্জ্য যেখানে সেখানে খেলার
মাধ্যমে পরিবেশের দূষণের সৃষ্টি হয়। এছাড়া হাসপাতালের বর্জ্য নিয়ম
তান্ত্রিকভাবে না ফেলে যেখানে সেখানে ফেলার মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যদি
ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায়মানুষ যেখানে সেখানে এমনকি বসতবাড়ির
আশেপাশে কিংবা চলাচলের পথে মানুষ ময়লা আবর্জনা ফেলছে।
এতে ময়লা আবর্জনা গুলো পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেখান থেকে নানা বিদ রোগ
জীবাণু ছড়াচ্ছে। এছাড়াও এসব ময়দা আবর্জনা পানিতে ফেলার কারণে পানি
দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। দিন দিন খাল বিল, নদি নালার মাছ কমে যাচ্ছে। এছাড়া ও সাগর
ও নদীর ইকো সিস্টেম হচ্ছে। নদী খারবেলের পানি ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং দূষিত
হচ্ছে।
মাটি দূষণ
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের ভূমি সম্পদ ভয়াবহ মাত্রায় দূষণে আক্রান্ত।
প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য এবং রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা দূষণ হচ্ছে মাটি।
এছাড়া বোন উজার হয়ে যাওয়ার কারণে মৃত্তিকা ক্ষয়, ভূমির আয়তন, ও দুর্বলতা কমে
যাচ্ছে। বর্তমানে যে সকল কারণে মাটি দূষণ হচ্ছে।
সেগুলোর মধ্যে কারখানার দূষিত বর্জ্য পদার্থ, আবর্জনা, প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার
,কীটনাশক, তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটির সাথে মিশে মাটির গুণগত মান কমিয়ে
দিচ্ছে। মাটি দূষিত হলে মাটি তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার বৃদ্ধি মাটি দূষণের একটি অন্যতম কারণ।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার বাসস্থান তৈরির জন্যে গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে এতে মাটির
ক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা
বাড়ছে,আর এই অতিরিক্ত মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে একই জমিতে অধিক
ফসল ফলানোর জন্য জমিতে ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক সার,
কীটনাশক এর ফলে মাটি দিন দিন দূষিত হচ্ছে এবং মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে।
কলকারখানা এবং যানবাহনের বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে বাতাসকে
দূষিত করছে। এই বিষাক্ত গ্যাসে বৃষ্টির পানি পড়ে এসিডের সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই
এসিড মাটিতে পড়ে মাটির দূষণ ঘটাচ্ছে।
যদি আমরা পরিকল্পিত ব্যবহার করি জন্য যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট
জায়গায় ফেলি। পলিথিন ব্যবহার না করে কাগজের ঠোঙ্গা ব্যবহার করি। এবং জমিতে
রসায়নিক স্যারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করি তাহলে আমরা মাটির দূষণ
কমাতে পারি।
শেষ কথাঃ পরিবেশ দূষণের ১০টি কারণ
পরিবেশ দূষণের ১০ টি কারণ সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। উপরের কনটেন্ট টি
যদি পুরো পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন কিভাবে
পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হয়। উপরের কনটেন্টে চেষ্টা করেছি বায়ু দূষণ, পানি
দূষণ, শব্দ দূষণ, আবর্জনা দূষণ, মাটি দূষণ কিভাবে হয়।
এবং কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে দূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি। আশা করি
পোস্টটি পড়ে আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনাদের ভাল লাগাই নতুন নতুন পোস্ট লিখতে
অনুপ্রেরণা যোগাবে। এরকম আরো নতুন নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট পেতে চোখ রাখুন
আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডট কম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url