দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
প্রাচীনকাল থেকে মসলা হিসাবে দারুচিনির বেশ নাম রয়েছে। রান্না মসলা হিসেবে ব্যবহার হওয়া ছাড়াও দারচিনির রয়েছে বেশ কিছু ভেষজ গুণ।
এছাড়াও ঘরোয়া টোটকা হিসেবে দারুচিনি ব্যবহার হয়ে থাকে। দারচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয় তা জানতে নিচের পোস্টটি পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
সূচি পত্র ঃ দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
- দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
- ওজন কমাতে সাহায্য করে
- পেটের সমস্যায় দারুচিনি
- দারুচিনি ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণ করে
- দারুচিনি হৃদরোগ প্রতিরোধ করে
- দারুচিনি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
- দারুচিনি এল ডি এল কম করে
- দারুচিনি ছত্রাক জনিত সমস্যা দূর করে
- আরো চিনি বাতের ব্যথা কম করে
- দারুচিনি গলা ব্যথা এবং কাশি কম করে
- দারুচিনি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে
- অতিরিক্ত দারুচিনি খেলে যে সমস্যাগুলো হতে পারে
দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
দারুচিনি এমন একটি মসলা যা প্রায় সবার রান্নাঘরে পাওয়া যায়। এর স্বাদ এবং গন্ধের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ব্যবহার হচ্ছে। দারচিনিতে রক্তের শর্করা প্রতিরোধ করা সহ অসাধারণ কিছু গুণ রয়েছে।
যা প্রদাহ কমাতে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বেশ কিছু অসুখ সহজেই প্রতিরোধ করতে পারে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
বর্তমানে প্রতি দু ক্ষেত্রে থেকে তিনজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি একটি চিন্তার বিষয়। খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে সঠিকভাবে নজর না দেওয়া। জাঙ্ক ফুড এবং পক্রি জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। শারীরিক পরিশ্রম না করার জন্য এই ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এমন অবস্থায় খাবারের দারুচিনি ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ওজন জনিত সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। রুচিনিতে বর্তমান পলিফেনালস একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে বাড়িয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও পড়ুন ঃ কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কি খাওয়া উচিত
কিন্তু আমাদের শরীর যখন সঠিক মাত্রায় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না তখনই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিক, এবং আরো বেশ কিছু রোগের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। এই অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য আপনি একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিয়মিত সেবন করতে পারেন।
(একটি কাপে এক চামচ দারুচিনির গুড়ো, এক চামচ মধু, এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। তারপর এই টনে এক কাপ গরম পানি মিশিয়ে ভালো করে নাড়িয়ে নিন। ভালো ফল পেতে আপনি প্রতিদিন সকালে পান করতে পারেন)।
পেটের সমস্যায় দারুচিনি
দারুচিনি পেটের জন্য ভীষণ উপকারী এটি এসিডিটির সমস্যা দূর করে ও পেটের ব্যথা উপশম করে। পেট পরিষ্কার করতে রাতে শোবার আগে দারুচিনির সঙ্গে হরিতকির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে পোকার পাওয়া যায়।
দারুচিনি ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণ করে
অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাত্রার জন্য আজ কাল অনেকেই ডায়াবেটিস তথা মধুমীও রোগের শিকার হয়ে পড়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যতে এই রোগের জন্য বিপদের সম্ভাবনা থেকে যায়। কারণ সময়ের সাথে সাথে ডায়াবেটিস আরো বেশ কিছু রোগের জন্ম দেয়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী যদি খাদ্যে দারচিনি ব্যবহার করেন তবে ডায়াবেটিসের হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায়। চিনিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্সিডেনটিপস স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে তা ডায়াবেটিসের একটি প্রধান কারণ।
আরও পড়ুন ঃ সকালে খালি পেটে মেথি খাওয়ার উপকারিতা
একটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে দারুচিনি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রচিনিতে উপস্থিত পলিফেনালস শরীরে ইনসুলিনের ক্ষরণের মাত্রা কে বাড়ায়, তাই ডায়াবেটিস খুব সহজেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
দারুচিনি হৃদরোগ প্রতিরোধ করে
হৃদরোগের অনেক ধরণ আছে, তার মধ্যে অনেকের বুকে চিনচিন ব্যথা করে, হাঁটতে কষ্ট হয়, রিবে উঠতে কষ্ট হয়, তাদের জন্য দারুচিনি বেশ উপকারী।
একশত গ্রাম জিরের গুঁড়ো, ১০০ গ্রাম ধনিয়ার গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম দারচিনির গুড়ো একসাথে মিশিয়ে এই মিশ্রণটি এক কাপ গরম পানিতে এক চা চামচ পরিমাণ মিশিয়ে চায়ের মতো পান করলে হৃদ রোগীদের জন্য দারুন উপকারী। এটির রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা দূর করে।
দারুচিনি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
ফাইবার বা আশ জাতীয় খাবার কম খাওয়ার ফলে, আমাদের মধ্যে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় কষ্ট করেন।এই সমস্যা দূর করতে দারুচিনি দারুন কার্যকরী।
এক চা চামচ দারুচিনি এবং একটি ছোট হরিতকী একসঙ্গে চূর্ণ করে এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে রাতে পান করলে সকালবেলা পেট খুব সহজেই পরিষ্কার হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর হয়।
দারুচিনি এল ডি এল কম করে
প্রতিদিন হাফ চামচ দারুচিনি গুড়ো সেবন করলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এল ডি এল এর মাত্রা কমে। অথবা প্রতিদিন ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পরিমাণ পানিতে গরম করে,
আরও পড়ুন ঃ অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি
সেই পানি গরম চায়ের মত দিনে তিনবার পান করলে মেট্রো রেলের সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। (ডায়াবেটিস না থাকলে দারুচিনির পানিতে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে আপনি পান করতে পারেন)।
দারুচিনি ছত্রাক জনিত সমস্যা দূর করে
অনেকের শরীরে নানা স্থানে ছত্রাক জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য দারুচিনি একটি আদর্শ সমাধান। ছত্রাক জনিত ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে, (উষ্ণ প্রাণের মধ্যে এক চা চামচ মধু আর দারুচিনির গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এরপরে আক্রান্ত স্থানে ভালোভাবে মালিশ করুন) এভাবে দুই থেকে তিন দিন ভালোভাবে মালিশ করলে ছত্রাকজনিত সমস্যায় সুফল পাওয়া যায়।
আরো চিনি বাতের ব্যথা কম করে
বাতের ব্যথা হলে হাফ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ব্যথা দূর হয়। ছাড়া দারচিনি মিশ্রিত সরষের তেল গায়ে মালিশ করলে ব্যথা কমে যায়।
এই ক্ষেত্রে পানি পানের বিষয়টা একটু ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। ঠিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে কোন অবস্থাতেই পানি শূন্যতায় ভোগা যাবেনা।
দারুচিনি গলা ব্যথা এবং কাশি কম করে
ঠান্ডায় গলা ব্যথা বা খুশখুসে কাশিতে, এক কাপ গরম পানিতে দারুচিনি ও মধু মিশিয়ে সারাদিনে ৫-৬ বার চায়ের মত গলায় আরাম পাওয়া যায় ও খুসখুসে কাশি কমে যায়।
দারুচিনি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। নিয়মিত প্রতিদিন একবেলা 2 ইঞ্চি পরিমাণ দারচিনি দুই কাপ পানিতে গরম করতে হবে। গরম করতে করতে যখন এক কাপ পরিমাণ হবে তখন নামিয়ে নিয়ে চায়ের মতো করে পান করলে স্মৃতিশক্তির কমে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন ঃ ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
তবে এটি শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।তবে সারা দিনের দুই চামচের বেশি চিনি খাওয়া যাবেনা। দারুচিনি খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া ও মাথা ব্যাথার মত স্বর্গ দেখা দিতে পারে। যাদের এমন উপসর্গ দেখা দিবে তাদের দারুচিনি না খাওয়াই ভালো।
বাজারে দারুচিনির নামে অনেক ধরনের গাছের ছাল বিক্রি করা হয়ে থাকে। তাই কেনার আগে স্বাদ ও গন্ধ যাচাই করে নেয়া উচিত। আর প্যাকেটজাতক দারুচিনি অর্জন করা দরকার।
অতিরিক্ত দারুচিনি খেলে যে সমস্যাগুলো হতে পারে
দারুচিনি অসাধারণ একটি মসলা কিন্তু সব ভালো কিছুরই কিছু না কিছু ক্ষতি করে দিক থেকেই থাকে। যেগুলো জানাটা আমাদের খুব দরকার। যাতে অযাচিত বিপদ থেকে আগে থেকে সাবধান হওয়া যায়। কিছু মানুষের দারু চিনিতে এলার্জি হয়। অতিরিক্ত বেশি খেলে মুখ ও ঠোট জ্বালা করতে পারে,
তো হতে পারে। তাই যাদের দারুচিনিতে এলার্জি আছে তারা দারুচিনি খাবেন না। আর কখনোই ১০ গ্রামের বেশিতো ভাবেনিনা। যাদের লিভার প্রবলেম আছে বা গর্ভবতী মহিলা কিংবা দুগ্ধ প্রদান কারী মহিলা ও শিশুদের দারুচিনি রান্নার সাথে ছাড়া হওয়া উচিত নয়।
কারণ দারুচিনির অত্যাধিক Coumarin থেকে বিপদ হতে পারে। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, ও তার জন্য যদি ইনসুলিন বা মেডিসিন নিতে হয় তাহলে রান্না ছাড়া দারুচিনি খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে তারপর খাবেন।
বেশ কিছু মেডিসিনের সাথে দারুচিনি বিক্রিয়া করতে পারে।আপনার যদি এন্টিবায়োটিক, ডায়াবেটিকস ড্রাগস, ব্লাড থিনার বা আর্ট মেডিসিন নিতে হয়। তাহলে দারুচিনি খাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন নিন।
শেষ কথা : দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়
উপরের কনটেন্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি বুঝতে পেরেছেন দারুচিনি খেলে শরীরে কি কি উপকার হয় এবং দারুচিনি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। আজকের আলোচনায় আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি ওজন কমাতে কিভাবে সাহায্য করে দারুচিনি।
এবং পেটের সমস্যা দূর করে কিভাবে ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রন করে দারুচিনি। দারুচিনি আমাদের শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হৃদরোগ প্রতিরোধ করে এবং শরীরে এলডিএল কম করে। এছাড়া আলোচনা করার চেষ্টা করেছি কিভাবে দারুচিনি ছত্রাক জনিত সমস্যা দূর করে।।
দারুচিনি খেলে কিভাবে আমাদের গলা ব্যথা ও কাশি কম হয়। এবং অতিরিক্ত দার্জিলিং খেলে কি কি ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। প্রতিদিন নতুন নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url