চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

বর্তমান সময়ে চিয়া সিড কে সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে। কারন চিয়া সিড এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ।  চিয়া সিড খাবেন কিন্তু কোন নিয়মে খাবেন এবং কিভাবে খেলে এর উপকার পাবেন তা যদি জানতে চান।

চিয়া-সিড-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

তাহলে আপনি সঠিক পোস্টের ভেতরে এসেছেন পুরো পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত করলে আপনি বুঝতে পারবেন ৮৬ খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

সুছিপত্রঃ চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। বর্তমান সময়ে অনেকেই স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন, বিশেষ করে করোনা কালীন জটিলতার পর সেই সচেতনতা বেড়ে গিয়েছে আরো কয়েকগুণ। 

আরও পরুনঃ  তুলসী পাতার  উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রতিদিনের খাবার ও খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে মানুষের সচেতনতা বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় এখন বেশ জনপ্রিয় চিয়া সিডস

চিয়া সিডস কি

চিয়া হচ্ছে salvia hispanika নামক mint প্রজাতির উদ্ভিদের বীজ। এটি মূলত মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলে বেশি জন্মায়। প্রাচীন প্রাচীন অ্যাস্ট্রিক জাতির খাদ্য তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করে থাকেন। এগুলো দেখতে অনেকটা তোকমা দানার মত। 

চিয়া বীজ সাদা, কালো, ও বাদামি রঙের হয়ে থাকে এবং তিলের মতো ছোট আকারের। চিয়া সিডস খুবই পুষ্টিকর খাবার, এতে রয়েছে দুধের চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে সাত গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালং শাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আইরন, কলার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি পটাশিয়াম, 

চিয়া-সিড-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

মুরগির ডিম থেকে তিনগুণ বেশি প্রোটিন, স্যালমন মাছর চেয়ে আট গুণ ওমেগা থ্রি,এজন্য পুষ্টি বিদরা চিয়া সিডস কে সুপার ফুড বলে থাকেন। তবে অনেকেই চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ বা এটি খাওয়ার নিয়ম জানেন না। যে কারণে  এই সুপার ফুডকে নিজের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন না। 

চিয়া সিডস খাওয়ারউপকারিতা

  • পুষ্টি বিদরা জানান জি আর সিডে থাকা ওমেগা থ্রি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষতিকর cholesterol দূর করতে কাজ করে। 
  • দিনে দুই চা চামচ চিয়া সিডস শরীরের শক্তি দেয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়াই। 
  • প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকাই চিয়া সিডস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করে। 
  • metabolic system কে উন্নত করার মাধ্যমে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। 
  • এটি রক্তে চিনির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে বলে ডায়াবেটিকের ঝুঁকি কমে। 
  • হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় চিয়া সিডস দারুন কাজ করে কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। 
  • চিয়া সিডস শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে আনে,দূর করে এসিডিটির সমস্যা। 
  • চিকিৎসকরা মনে করেন চিয়া সিডস ভালো ঘুম হতেও সাহায্য করে। শুধু কি তাই হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথাও কমাই।
  • চিয়া সিডস সুন্দর রাখে ত্বক, চুল নখ। 
  • চিয়া সিডের প্রোটিন আমাদের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছে কমিয়ে দেয়, তাই যারা ওজন কমাতে চান তারা দুপুরে  টক দই এর সাথে বা অন্য কোন খাবারের সাথে চিয়া সিডস খেতে পারেন।

চিয়া সিডস খাওয়ার অপকারিতা

  • চিয়া সিডস বেশী খাবার কারণে শরীরের দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে এবং বেশি ওজন কমার কারণে আপনার শরীরে দেহে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। 
  • চিয়া সিডস ক্যান্সার প্রতিরোধে যেমন সাহায্য করে তেমনি অতিরিক্ত সেবনের কারণে মহিলাদের স্তনে ক্যান্সার হতে পারে। 
  • যারা অনেক দিন ধরে মেডিসিন নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে,চিয়া সিডস খাবেন না।
  • অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিক এর রোগী যারা রয়েছেন এবং হাই বিপি মারাত্মক রকমের অসুবিধাই।ভুগছেন,আপনার ওষুধ না খেলে একেবারে থাকতে পারেন না এই ধরনের সমস্যা থাকলে তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া চিয়া সিডস খাবেন না। 
  • অতিরিক্ত চিয়া সিডস খেলে বদহজম হতে পারে। 
  • রক্তের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। 
  • রক্তের শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। 
  • এলার্জি দেখা দিতে পারে। 
  • এবং যারা প্রেগনেন্ট তাদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করে তবে কিন্তু চিয়া সিডস আপনারা নিতে পারেন। তা না হলে এই কিয়া সিট খেলে অসুবিধা হতে পারে। 

গর্ভাবস্থায় চিয়া সিডস খাওয়ার উপকারিতা

চিয়া সিডস বা দিয়া বীজের খাদ্য গুন অন্তর্ভুক্ত এটি শরীরের শক্তি ও কর্ম ক্ষমতা বাড়ায়। গর্ভবতী অবস্থায় চা বিষ খাওয়ার নিদান দিচ্ছেন ডায়েটিশিয়ানরা। গর্ভাবস্থায় এটি অত্যান্ত সহায়ক এই বিশেষ বৃষ্টি হজম শক্তি বাড়াই এবং পাকস্থলীর সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। 

আরও পরুনঃ ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা

চিয়া বীজে লোহার আজিক্ষ থাকায়  দেহের লোহিত রক্তকণিকা বাড়াতে সাহায্য করে। এবং অ্যানিমিয়া থেকে রক্ষা করে। রক্তের শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য যা বিশেষ উপকারী। মাত্র ২ চা চামচ   চিয়া বীজের মধ্যে ১৫২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে শিশুদের হাড় ও দাঁত শক্ত করতে সাহায্য করে। 

চিয়া সিডস খাওয়ার নিয়ম

চিয়া সিডস স্বাদ ও গন্ধ বিহীন একটি খাবার। এটা খাওয়ার জন্য রান্না করারও দরকার হয় না। পানিতে ভিজিয়ে সহজেই খাওয়া যায় চিয়া সিডস। চাইলে ওটস, পুডিং,জুস,Smoothie,ইত্যাদির সাথে মিলিয়ে নেওয়া যায়। এছাড়া কেউ চাইলে টক দই, রান্না করার সবজি বা সালাদের উপরে ছড়িয়েও খেতে পারেন।

চিয়া-সিড-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

চিয়া সিডস ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রেখে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা রাতে সবার আগে চিয়া সীডস সহ পানিওটি পান করতে পারেন। সারাদিনে এক থেকে দুই টেবিল চা চামচ পরিমাণ ভেজানো চিয়া সিডস  খেতে পারেন, চিয়া সিডস একটি সুপার ফুড।

এর জন্য বেশি পরিমাণে খেলে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে এমন ধারণা একেবারে ভুল। সঠিক পরিমাণে সঠিক নিয়মে প্রতিদিন চিয়া সিডস খেলে প্রচুর উপকারিতা পাবেন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে চিয়া সিডস খেলে কিছু অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

শেষ কথা: চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

উপরের কনটেন্টটি পড়ে আশা করি চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এছাড়াও আমরা গর্ব অবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে চেষ্টা করেছি।এবং  চিয়া সিড খাওয়ার চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম গুলো আপনাদের জানিয়েছি যে কিভাবে আপনারা চিয়া সিড খাবেন। কতটুকু খাবেন এবং কখন খাবেন।

আরও পরুনঃ রুট ক্যানেল করতে খরচ কত ও কিভাবে করতে হয়

উপরে আলোচনার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করেছি  চিয়া সিড সম্পর্কে আপনাদের সম্পূর্ণ তথ্য দিতে। পোস্টটি যদি পুরোপুরি করে থাকেন তাহলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন কিভাবে ব্যবহার করতে হবে।প্রতিনিয়ত এরকম আরো ইনফরমেটিভ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। আমরা চেষ্টা করি সব সময় আপনাদের সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য দিতে। আরও জানতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডট কম এ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url