ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা

শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে আমাদের অবশ্যই ভিটামিন যুক্ত খাবার খেতে হবে। কিন্তু কোন খাবারগুলোতে ভিটামিনের পরিমাণ বেশি আছে তা আমরা জানি কি।

ভিটামিন-ই-এর-কাজ-ও-অভাব-জনিত-সমস্যা

আজকের আলোচনার মূল বিষয় ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাবজনিত সমস্যা। নিচের পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি পড়লে ভিটামিন ই সম্পর্কিত সব ধরনের তথ্য আপনি পেয়ে যাবেন।  

সূচিপত্রঃভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা 

ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা  

ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা নিয়ে আজকের আলোচনা।ভিটামিন ই এর প্রধান কাজ হচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমাদের প্রত্যেকটি কোষকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে এই ভিটামিন ই। কোষের উপরিভাগ কে বলা হয় cell membrane প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের টক্সিসিসিটির কারণে, বিষাক্ত পদার্থের কারণে, আমরা খাদ্যের মাধ্যমে, বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, রেডিয়েশন, কোষের ওপরে যেই  মেমব্রেন থাকে। 

এই মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ক্ষতিগ্রস্ত হলেই সেল ডেমেজ হয়ে যায় সেই কষ্টি মারা যায় । এই কষ্টি যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় এই ভিটামিন ই। ভিটামিন ই যদি গ্রহণ না করি প্রতিনিয়ত আমাদের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ক্ষতিগ্রস্থের হাত থেকে কোষ বাঁচানো সম্ভব না।

আরও পরুনঃ ভিটামিন সি এর উপকারিতা ও অপকারিতা

 আমাদের সমস্ত দেহ কোষ দ্বারা তৈরি। এই কোষ যদি সুরক্ষিত না থাকে তাহলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। ডায়াবেটিক বিশেষ করে পুরুষ এবং মহিলাদের প্রজাতন্ত্রের উপর এ ভিটামিন ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

পুরুষদের ঠিকঠাক শুক্রাণু তৈরি করে থাকে এই ভিটামিন ই এবং মেয়েদের বা মহিলাদের ভিটামিন ই সহযোগিতায় তাদের ডিম্বাণ বৃদ্ধি হয় ডিম্বানু ম্যাচুরিটি লাভ করে। তাই ভিটামিন ই পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই বন্ধ্যাত্ব রোধ করে। 

ভিটামিন ই এর অভাবে কি ধরনের সমস্যা হয়

ভিটামিন ই এর অভাবে আমাদের সমস্ত দেহের বিভিন্ন কোষ গুলো অতিগ্রস্ত হয়। ফলে হিমালয়টিক  অ্যানিমিয়া,বিভিন্ন মাংসপেশীর অবসাদ, মেয়েদের বন্ধ্যাত্ব হয়ে থাকে এবং পুরুষের অন্ডকোষে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। শুধু তাই নয় এই কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ভিন্ন ধরনের রোগ হয়। যেমন ডায়বেটিস, ফ্রয়েডের সমস্যা, নিউরোলজিক্যাল  মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।

কোন কোন খাবারে ভিটামিন ই রয়েছে

বিশেষ করে তেল থেকে আমরা ভিটামিন ই বেশি পেয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে যে বাজারের ফাইন্ড তেল রয়েছে যেটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। আমরা যদি এই তেল ভালো তেল গ্রহণ না করি বিশেষ করে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল , তারপর ঘানিতে ভাঙ্গানো তেল, 

এই তেল যদি গ্রহণ না করি তাহলে আমরা এই ভিটামিন ই সঠিকভাবে পাবোনা।তাছাড়া সকল প্রকার লিভারেট তেল,ডিম, দুধ, তৈলাক্ত মাছ এবং বাদাম সবুজ সবুজ শাক সবজির ভিতরে এই ভিটামিন ই রয়েছে। 

ভিটামিন-ই-এর-কাজ-ও-অভাব-জনিত-সমস্যা

তবে শাকসবজির ভিতরেও ভিটামিন ই এর কমতি পাওয়া যায়। বিশেষ করে অ্যাভাকাডাের ভেতরে ভিটামিন সি বেশি পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশে অ্যাভাকাডো বেশি একটা খাওয়া হয় না বা মার্কেটেও আমরা অ্যাভাকাডাে ঠিকমতো  পাই না। হলে খাওয়া হয় না।

ভিটামিন ই এর উপকারিতা

১।অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরিতে

এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের জন্য ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যালের সাথে লড়াই করে।

২।কোলেস্টেরল এর  সাম্যতা বজায় রাখা

আমাদের শরীরের কোলেস্ট্রল এর সমতা বজায় থাকার উপর নির্ভর করে তোর মনের সম্মত বজায় থাকা। যার ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ এমন কিছু স্নায়ু গুলো ঠিক মত কাজ করে।

আরও পরুনঃ ভিটামিন বি এর অভাবে কোন রোগ হয়

 কিন্তু কোলেস্টরেল এর সমতা বজায় না থাকলে অর্থাৎ গুড কোলেস্টরল কমে গেলে বা ব্যাড  কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে শরীরের নানান সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন ই আমাদের শরীরে কোলেস্টরেল এর সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

৩। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে ভিটামিন ই

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের সমস্যা দেখা দেয় যা অন্ধত্বের একটি অন্যতম কারণ। ভিটামিন ই এর রোগের প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। ভিটামিন ই আমাদের ক্ষের  দৃষ্টির শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৪।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ভিটামিন ই তে ভরপুর খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ই এর রোগ প্রতিরোধ কারি কোষ তৈরি করতে সহায়ক যা শরীরে তৈরি করে ব্যাকটেরিয়া  নাশক এনটি বডি। 

৫।ক্ষত সারাতে ভিটামিন ই

বাজারে ভিটামিন ই যুক্ত তেল পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে এতে রয়েছে নানান উপকারিতা। এর মধ্যে একটি হলো কাটা ছাড়ার ক্ষত ও ব্রণ সারানো। 

৬।বয়সের ছাপ দূর করা

কোষপূর্ণ গঠন পক্রিয়ার জন্য ই উপকৃত হওয়ায় এটি ত্বকের তারণ্য ধরে রাখতে অক্ষম। 

৭।অকালে চুল পড়া প্রতিরোধে ভিটামিন ই

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চুল পড়া অল্প বয়সে চুল সাদা বা ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে ভিটামিন ই কার্যকরী। 

আরও পরুনঃ ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার

৮।গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন ই

গর্বের শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই  প্রয়োজন। এই ভিটামিন ই সরবরাহ কম হলে গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ মত হয় না। জন্মের পর নানান রকম স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দেয়। 

প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন ই

প্রাকৃতিক উপায়ে এই ভিটামিন ই পেতে চাইলে রয়েছে অসংখ্য খাবার।যেমন কলিজা, দুধ, ডিমের কুসুম, মাছ, শাকসবজি, গরুর মাংস, ভুট্টা, গাজর,  ডাল, সয়াবিন, সূর্যমুখী তেল, চিনা বাদাম, সয়া, অলিভ অয়েল, ইত্যাদি। ভিটামিন ই এর অভাব আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। 

ভিটামিন-ই-এর-কাজ-ও-অভাব-জনিত-সমস্যা

এর অভাবে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে খুব সহজেই যেকোনো রকমের রোগের সংক্রমণ ঘটে। তাই যে সমস্ত খাবারে ভিটামিন ই থাকে সেগুলি বেশি করে খাওয়া প্রয়োজনে আক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

ভিটামিন ই বেশি গ্রহণ করলে কি সমস্যা দেখা দেই

সাধারণত ভিটামিন ই বেশি গ্রহণ করা হয় না। শুধুমাত্র তারাই গ্রহণ করে যারা সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকে। সাধারণত প্রাকৃতিক উৎস থেকে খাদ্যের মাধ্যমে আমরা ভিটামিন ই পেয়ে থাকি। 

সাধারণত সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট যারা গ্রহণ করেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওভার ডোজ অনেকেই গ্রহণ করেন। যে কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। 

শেষ কথাঃ ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যা 

খবরের কনটেন্টটিতে ভিটামিন ই এর কাজ ও অভাব জনিত সমস্যার সম্পর্কে আলোচনা করেছি । উপরের কনটেন্টটি পুরোপুরি পড়লে আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভিটামিন ই সম্পর্কে। এছাড়াও ভিটামিন ই এর অভাবে কি ধরনের সমস্যা হয় সেগুলো আলোচনা করেছি। 

আরও পরুনঃত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার কারণ 

কোন কোন খাবারে ভিটামিন ই রয়েছে তা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি। এছাড়াও ভিটামিন ই এর যত ধরনের উপকারিতা আছে তা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছে যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরিতে ভিটামিন ই কি ভূমিকা রাখে কোলেস্টরে সমতা বজায় রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চেহারায় বয়সের ছাপ দূর করে। 

এছাড়াও ক্ষত সারাতে ভিটামিন ই অনেক কাজ করে থাকে। কনটেন্টটি পড়ার পর আশা করি ভিটামিন ই সম্পর্কে জানার বাকি নেই। আপনাদের ভালোলাগা আমাদের নতুন নতুন কনটেন্ট লিখতে উৎসাহিত করবে। এরকম আরো নতুন নতুন ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url