গোল মরিচের উপকারিতা
মানুষের রান্নার স্বাদ যখন থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে তখন থেকে মসলার ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক আগ থেকে মসলা হিসেবে গোল মরিচ ব্যবহার হয়ে আসছে।
মসলা ছাড়াও গোল মরিচ অনেক অসুখ সারাতে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। আপনি যদি গোল মরিচের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সঠিক পোস্টের ভেতরে এসেছেন। পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আসা করি গোল মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন।
সুছিপত্রঃ গোল মরিচের উপকারিতা
- গোল মরিচের উপকারিতা
- গোলমরিচ ওজন কমাতে সাহায্য করে
- গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে
- গোলমরিচ ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে
- ক্যান্সারের জন্য গোলমরিচ
- গোলমরিচ সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করি
- গোলমরিচ দাঁত ভালো রাখতে সাহায্য করে
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কাজ করে গোলমরিচ
- মস্তিষ্কের জন্য গোলমরিচ
- বার্ধকের ছাপ কমাতে গোলমরিচ
- গোলমরিচ খেলে কি কি ক্ষতি হয়
গোল মরিচের উপকারিতা
গোল মরিচের উপকারিতা অনেক।আমাদের রান্না ঘরে অনেক ধরনের মসলা থাকে। বিভিন্ন ধরনের মসলার মধ্যে কালো গোল মরিচ অর্থাৎ গোলমরিচ একটি বিশেষ ধরনের মসলা। এই গোলমরিচকে মসলার রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই মসলা।
আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এক চিমটি গোলমরিচ যোগ করলেই এটি আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক বেশি কাজ করবে। এই কালো মরিচ বা গোল মরিচের উপকারিতা রয়েছে অনেকগুলি।
আরওপরুনঃ কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
গোলমরিচে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। এছাড়াও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে হজম শক্তি উন্নত করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, এমন কি ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ দূর করতে সাহায্য করে।
আপনার রান্নাঘরে অতি পরিচিত একটা মসলা যার বিজ্ঞানসম্মত নাম piper nigrum যা আমাদের কাছে গোল মরিচ নামে পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গোলমরিচের চাষ বেশি হয়ে থাকে। আর গোলমরিচ মূলত তিন প্রকার হয়ে থাকে -কালো, সবুজ ও সাদা। কিন্তু এর উপকারিতা জানলে অবাক হয়ে যাবেন আপনারা।
গোলমরিচ ওজন কমাতে সাহায্য করে
মোটা হয়ে যাওয়া বা ওজন বেড়ে যাওয়াকে প্রতিরোধ করতে গোলমরিচ খুব উপকারী ভূমিকা রাখে। শরীরের যে সমস্ত কোষগুলি মেদ সৃষ্টি করে গোলমরিচ সেগুলির বিরুদ্ধে কাজ করে মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর জন্য আপনি যে খাদ্য তালিকা অনুসরণ করেন সেখানে অবশ্যই গোলমরিচ যোগ করুন।
যেকোনো সুস্বাদু খাদ্যকে অন্য কোন মসলাপাতি দিয়ে মেরিনেট না করে লেবু ও গোল মরিচ ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত গোল মরিচ ব্যবহার করলে আপনার ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে
আমাদের হজমের জন্য যে সমস্ত প্রয়োজনীয় এনজাইম ও অন্যান্য উপাদানের প্রয়োজন হয়, গোলমরিচ তা রক্ষণ করতে সাহায্য করে। গোল মরিচ পাকস্থলের ভেতরে গ্যাস্টিক জুসের মাত্রা বাড়াই ও দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং বদহজম দূর করে।
এছাড়াও গোলমরিচের বিভিন্ন উপাদান পেটের গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। তাই এখন থেকে রান্নায় লঙ্কার গুড়া ব্যবহার করার বদলে গোল মরিচ ব্যবহার করতে পারেন। পেটের জালা ভাব ও ব্যথা কমাতে গোল মরিচের উপকারিতা অনবদ্ধ।
গোলমরিচ ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে
গোলমরিচে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে ও হাইপার গ্লাইসেসিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে গোলমরিচে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান নানা রকম এনজাইম সৃষ্টি করে।
যা starch কে গ্লুকোজ পরিণত করতে সাহায্য করে। এর ফলে ডায়াবেটিসের প্রবণতা কমে আসে। ডায়াবেটিসের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রকমের ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে শরীরে প্রবেশ করতে করতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
আরওপরুনঃ ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার
গোল মরিচ এই সব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো সহজেই কমিয়ে আনে ও ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখে। গোলমরিচ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে মানসিক চাপ বা বিষন্নতা দূর করতে গোল মরিচ দারুন কাজ করে। গোলমরিচ থেকে বেশ কিছু এসেন্সিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেল তৈরি হয়।
যা শরীরে মালিশ করলে সারা দিনের ক্লান্তি ভাব কেটে যায়। এমন কি মাথায় গোলমরিচের তেল মালিশ করলে মাথা ধরা কমে যায় ও ঘুম ভালো হয়। এছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে গোলমরিচ বিশেষভাবে সাহায্য করে।
ক্যান্সারের জন্য গোলমরিচ
ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দান করতে গেলে গোলমরিচের জুড়ি মেলা ভার। শরীরে সেলিনিয়াম,কারকিউমিন, ভিটাক্যারোটিন, এবং ভিটামিন বি শোষণ করতে গোলমরিচ শেষভাবে সাহায্য করে। এগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধকারী উপাদান হিসাবে কাজ করে।
কোলন ক্যান্সার ও প্রোস্টিট ক্যান্সারের জন্য গোলমরিচ বিশেষভাবে উপকারী। ক্যান্সারের জন্য যেসব কেমোথেরাপির ওষুধ ব্যবহার হয়। তার অনেকগুলি গোলমরিচের সাহায্যে তৈরি হয়।
গোলমরিচ সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করি
গোলমরিচের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের যেকোনো রকমের সংক্রমনের বিরুদ্ধে দারুন ভাবে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে গোলমরিচে থাকা piperine শরীরের যেকোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
বিশেষ করে যখন সে জীবাণু শরীরে প্রবেশ ও প্রজনন শুরু করে। এর ফলে আপনি নানা রকমের অসুখ থেকে সহজে মুক্তি পেতে পারেন।
গোলমরিচ দাঁত ভালো রাখতে সাহায্য করে
কিছু কিছু টুথপেস্টে গোলমরিচের ব্যবহার করা হয়। কারণ গোলমরিচের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁত ও মুখের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
আরওপরুনঃ আদা খাওয়ার উপকারিতা
মাড়ির সমস্যা হলে বা মাড়ি ফুলে গেলে (এক চিমটে লবণের সাথে একটুখানি গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে মাড়িতে হালকা করে মালিশ করুন)। অবশ্যই ভালো ফল পাবেন। তবে এর সাথে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কাজ করে গোলমরিচ
সুস্বাস্থ্যের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব প্রয়োজন এবং গোলমরিচের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টযা জীবনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
এছাড়াও বিশ্বের নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে অন্য কোন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাদ্যের তুলনায় গোলমরিচের থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ সবথেকে বেশি। তাই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে আপনারাও ডায়েটে গোল মরিচ যোগ করে নিতে পারেন।
মস্তিষ্কের জন্য গোলমরিচ
গোলমরিচের থাকা piperine এনজাম মেলাটোনিনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যা মানুষের স্লিপ সাইকেলকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া piperine ব্রেন ফাংশনকে ইম্প্রুভ করতে সাহায্য করে।
নিয়মিত গোলমরিচ খাওয়ার ফলে আলজাইমার হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসে। একটি স্নায়ুকে শান্ত রাখে ও বিষন্নতা ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
বার্ধকের ছাপ কমাতে গোলমরিচ
গোলমরিচা থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বাধ্যকের ছাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। ত্বকের দাগ ছোপ বা কুঁচকানো ভাব দূর করতে গোলমরিচের জুড়ি মেলা ভার।
আপনারা যদি তারণ্য ধরে রাখতে চান, বা বাধ্যক্কের ছাপ দূর করতে চান। তাহলে প্রতিদিন আপনাদের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই গোলমরিচ যোগ করুন এবং নিজেকে ইয়াং আর ফির রাখুন। এছাড়াও গোলমরিচের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে।
গোলমরিচ খেলে কি কি ক্ষতি হয়
গোলমরিচ অসাধারণ একটি খাবার সাধারণ এই খাবারটিরও কিছু কিছু খারাপ দিক আছে। যা না জানলে মারাত্মক সব বিপদের কারণ হতে পারে।
১।স্বাভাবিক ভাবে খাবারের সাথে গোলমরিচ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিরাপদ। কিন্তু বেশি গোল মরিচ খেলে সমস্যা মারাত্মক আকার নিতে পারে। এ্যাবশনএর সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে। যারা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান তারা ও বেশি গোল মরিচ খাবেন না।
২।খাবারের সাথে স্বাভাবিক মাত্রায় শিশুরা গোল মরিচ খেলে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু খুব বেশি বেশি গোল মরিচ খেয়ে শিশুর মৃত্যুর নিদর্শনও আছে। তাই শিশুদের গোলমরিচ থেকে সাবধান রাখুন।
আরওপরুনঃ নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা
৩।গোলমরিচ Blood Clotting স্লো করে। ফলে যাদের ব্লেডিং ডিজওডার বা সার্জারি করেছেন তারা গোল মরিচ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৪। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি ডায়াবেটিসের মেডিসিন খান তাহলে গোল মরিচ বেশি খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে খাবেন।
শেষ কথাঃ গোল মরিচের উপকারিতা
গোল মরিচের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না আবার এর কিছু ক্ষতিকর দিক আছে যেগুলো
আপনি সামনে যেগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও জানানোর চেষ্টা
করেছি গোলমরিচ ওজন কমাতে কিভাবে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে কিভাবে
ত্বরান্বিত করে।
আরওপরুনঃ জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
আরো জানানোর চেষ্টা করেছি গোলমরিচ কিভাবে ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে,ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ও বিভিন্ন প্রকার সংক্রমনের বিরুদ্ধে কাজ করে। গোলমরিচ দাঁত ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর কাজ করে এছাড়া মস্তিষ্কের জন্য গোলমরিচ অনেক উপকারী।
নিয়মিত গোল মরিচের ব্যবহারে বার্ধক্যের ছাপ দূর হয়। আমাদের পোস্টটি যদি ভালো
লাগে তাহলে নতুন নতুন পোস্ট লিখতে উৎসাহিত হব। এবং এইরকম আরো ইনফরমেটিভ পোস্ট
পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডটকম এ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url