অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম

 বেকারত্ব যদি আপনার জীবনকে সংকুচিত করে ফেলে। তাহলে বসে না থেকে আজই সিদ্ধান্ত নিন ব্যবসা করার। আপনাকে যে লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করে ব্যবসা করতে হবে সেটা কথা না।

অল্প-পুজিতে-লাভজনক-ব্যবসা-করার-নিয়ম-গুলো-জানুন

 অল্প পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেও আপনি ছোটখাটো একটা  ব্যবসা  দাঁড় করাতে পারেন। এজন্য আপনাকে সময় এবং শ্রম দিতে হবে দিনে কমপক্ষে আট ঘন্টা। তাহলে আপনি মাসে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। 

সূচিপত্র : অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম 

অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম

কফি শপ দিয়ে ইনকাম 

 অর্গানিক ফুড ও অর্গানিক মসলা 

গিফট সপ

অনলাইন কোচিং 

বেকিং আইটেম তৈরি করে আয় 

শেষ কথা

অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম 

যারা ব্যবসায়ী তারা তাদের ব্রেনকে একটু অন্যরকম ভাবে খাটায়  তারা সব জায়গায় তাদের লাভের পরিমাণকে সর্বোচ্চ আকারে কিভাবে বের করে আনা যায় সেটা নিয়েই চিন্তা করতে হবে একজন ব্যবসায়ীকে। এবং সে অনুযায়ী কাজ করে নিজের ব্যবসাকে অনেক দূরে এগিয়ে নিতে হবে।

এখন আমি আপনাদের এমন কিছু ব্যবসার কথা বলব যেগুলোতে খুব অল্প পরিমাণ বিনিয়োগ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়।  এই ব্যবসা গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবসাকে যদি আপনি দাঁড় করাতে পারেন তাহলে আপনি প্রতিমাসে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা অনায়াসে ইনকাম করতে পারবেন। 

কফি শপ দিয়ে ইনকাম 

বর্তমান সময়ে কফির চাহিদা দিনের দিন বেড়েই চলেছে আমাদের দেশে।আমাদের দেশে সিগারেট, পান বা অন্যান্য যে জিনিসগুলো পান করে সেগুলোর  চাইতে চা কিংবা কফি মানুষ কম পান করে না। আমাদের দেশের মানুষ চা কফি প্রচুর পরিমাণে পান করে। কফির চাহিদা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আপনি চাইলে একটি কফি শপ দিতে পারেন, 

আরও পরুনঃ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে ডিমান্ডেবল সেক্টর কোনটি

কারণ কম দামে  কফি শপ আমাদের দেশগুলোতে তেমন বেশি একটা নেই। মানুষ ৩০ টাকা ৪০ টাকা টাকা ৬০ টাকার ভেতরে এক কাপ কফি কোথাও বসে খেতে চাই। একটু ভালো মানের কপি, যদি একটু কম রেটে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আপনি অনায়াসে  একটি কপি সপ চালাতে পারেন। 

আপনি যদি কোন একটা জায়গায় অল্প পরিসরের একটা জায়গা নিয়ে একটি কফি সপ দাঁড় করাতে পারেন এবং কিছু  স্টিকার লাগিয়ে, সাইনবোর্ড বা ব্যানার দিয়ে অথবা  অনলাইনে মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে আপনার কপি সপটা জাঁকজমক হয়ে উঠতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না।কোন লোক নিয়োগ না দিয়েই খুব কম পরিমাণ ইকুইপমেন্ট দিয়ে কাজটা শুরু করতে পারেন। 

 অর্গানিক ফুড ও অর্গানিক মসলা 

মানুষ এখন দিন দিন স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছে। মানুষ অনেক শিক্ষিত হচ্ছে অর্গানিক ফুডের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষ তার লাইফের ব্যাপারে এখন অনেক সিরিয়াস হচ্ছে। এই সিরিয়াস মানুষ গুলো স্বাভাবিকভাবেই অর্গানিক ফুডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। 

অল্প-পুজিতে-লাভজনক-ব্যবসা-করার-নিয়ম-গুলো-জানুন

উন্নত দেশের মানুষ গুলো বিকেলে নাস্তা করে হানি নাট দিয়ে। উন্নত দেশের মানুষ গুলো এত বেশি ভাজাপোড়া খায় না। আমাদের দেশের মানুষ গুলো বেশি ভাজাপোড়া খাই এমনকি আমাদের তরকারিতে অনেক বেশি  পরিমাণে মসলার ব্যবহার হয়।এই সারাদিন ভাজাপোড়া আর ভাত তরকারি খাই।

 তারপরেও বিকেলের নাস্তায় যদি আমরা ভাজাপোড়া খাই তাহলে গ্যাস্টিক আমাদের হবেই এটাই স্বাভাবিক।  তারপর গ্যাস্ট্রিক থেকে আলসারের সৃষ্টি হবে এবং মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই মানুষ তাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভাজাপোড়া পরিহার করবে এবং অর্গানিক ফুলের দিকে ঝুঁকে পড়বে। ফলে অর্গানিক ফুলের বিজনেস অনেক গ্রো  করবে। 

গিফট সপ

আপনি চাইলে একটি গিফট সপ খুলতে পারেন। গিফট দেওয়া এটা এমন একটা প্রসেস পৃথিবী যতদিন থাকবে এই প্রসেসটা  চলতে থাকবে। হয়তোবা মানুষ আজ থেকে ১০ বছর ২০ বছর আগে একরকম জিনিস গিফট করত। এখন অন্যরকম জিনিস গিফট করে। আবার কালের পরিবর্তনে ভবিষ্যতে গিফট করবে কিন্তু গিফট করবে। 

এরকম একটি গিফট সপ দিতে পারলে আপনি সেখান থেকে আয় করতে পারবেন। কিন্তু এখানে একটা সমস্যা হচ্ছে যারা গিফট সপ দেয় তারা যদি ইউনিক কিছু চিন্তা ভাবনা করে যদি ইউনিক আইটেম রাখতে পারেন এবং কোয়ালিটি সম্পূর্ণ জিনিস রাখতে পারেন তাহলে মানুষ আপনার গিটশপে আসবে। 

আরও পরুনঃ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

গিফট শপের ক্ষেত্রে কাস্টমাররা যে ধরনের সমস্যা ফেস করে সেটা হচ্ছে তারা যে ধরনের গিফট চায় সে ধরনের গিফট আসলে তারা পায় না। তারা ইউনিক কিছু চাই কিন্তু তারা সে ধরনের জিনিসগুলো পায় না। এবং যেগুলো পাই সেগুলোর কোয়ালিটি এত ভালো থাকে না। সুতরাং মানুষের বিশ্বাস কমে যাচ্ছে গিফট শপের উপরে। 

সেখান থেকে আপনি যদি অরজিনালি ভালো প্রোডাক্ট মানুষকে দিতে পারেন দাম বেশি হোক। মানুষের এগুলোর অনেক চাহিদা রয়েছে মানুষ এগুলো কিনবে কিনবে। বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা অনেক গিফট কেন। গিফট সব অনেক ভালো একটা বিজনেস ফ্যান হতে পারে এবং এখান থেকে আপনি লাভবান হতে পারবেন। 

অনলাইন কোচিং 

আপনি যদি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে থাকেন। এবং কোন একটা বিষয় সম্পর্কে বিশেষভাবে পারদর্শী হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে কোচিং করিয়ে আয় করতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দেশে ভালো  টিচারের সংখ্যা খুব কম। 

আরও পরুনঃ  কিভাবে পেটের চর্বি কমানো যায় 

বর্তমানে অনলাইনে যুগে এসে প্রত্যন্ত গ্রামে থাকলেও তার অপশন রয়েছে উন্নয়নের মাধ্যমে কেন টিচারের কাছে কোচিং করার। অনলাইনের এই অপশনটির কারণে অনলাইনের কোচিং এবং অনলাইনের টিচিং এই বিজনেসটির বিজনেস আরো অনেক বেশি বাড়বে।

 আরেকটি বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষ অনলাইনে ক্লাস করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কাজেই আপনার কোন একটা বিষয় সম্পর্কে যদি দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে আপনি অনলাইন এর মাধ্যমে আপনার দক্ষতাকে লাগাতে পারেন। এবং এই ব্যবসাতে আপনাকে তেমন কোন ইনভেস্ট করতে হবে না। আপনার শুধু একটা ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার থাকলে হবে। 

বেকিং আইটেম তৈরি করে আয় 

ব্রেকিং আইটেম বলতে আমরা বুঝি বিভিন্ন রকমের কেক, বিভিন্ন রকমের পিঠা, পেটিস, পপস, পাউরুটি ইত্যাদি। বর্তমানে মানুষের হোমমেড ফুড এর চাহিদা অনেক। আপনি যদি বাসায় কেক তৈরি করতে পারেন তাহলে এই কেকের বেশ চাহিদা রয়েছে। 

অল্প-পুজিতে-লাভজনক-ব্যবসা-করার-নিয়ম-গুলো-জানুন

বর্তমানে বিশ্বের সব জায়গায় জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, ব্যাচেলর পার্টি, বিভিন্ন দিবস উদযাপন, এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে কেকের ব্যবহার হয়ে থাকে। যদি আপনি ভাল কেক বানাতে পারেন। এবং কেকের গুণগত মান যদি ভাল হয়। তাহলে আপনার কেকের চাহিদা দিন দিন বাড়বে।

আপনি যদি আপনার আশেপাশের বাজারের কোন কনফেকশনারির দোকানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কেক তৈরি করে দেন। তাহলে আপনি সেখান থেকে আয় করতে পারবেন। আপনি যদি অনলাইনে একটি পেজ ওপেন করে সেখানে বুস্টিং চালাতে পারেন তাহলে আপনি অনলাইন থেকে অনেক অর্ডার পাবেন। এবং অনলাইন এর মাধ্যমে ব্যবসাটা করতে পারবেন। 

শেষ কথা :অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম 

উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম  ছয়টি দেখানো হয়েছে। আশা করি এ ছয়টি নিয়মের যেকোনো একটি নিয়ম যদি আপনি মানেন তাহলে আগামী ৫ থেকে  দশ বছর মাঠে টিকে থাকতে পারবেন। 

আশাকরি কন্টেন্ট এ পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। আর ব্যবসার এই আইডিয়াগুলোর ভিতর থেকে যেকোনো একটি আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে। আপনাদের ভালোলাগা পরবর্তীতে আরো নতুন ইনফরমেটিভ পোস্ট লিখতে উৎসাহিত হব। 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url