কিভাবে ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ ছাড়া পেটের চর্বি কমানো যায়

পেটের চর্বি কমানো নিয়ে মানুষের যত টেনশন। আপনার পেটে অনেক চর্বি হয়ে গেছে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করতে পারছেন না বয়স অনেকটাই বেড়ে গেছে। 

কিভাবে-ব্যায়াম-বা-এক্সারসাইজ-ছাড়া-পেটের-চর্বি-কমানো-যায়

তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই একটি মাত্র পোস্ট আপনার চর্বি জনিত সকল সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। তাই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা পড়ে ফেলুন। 

সুছিপত্রঃ কিভাবে ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ ছাড়া পেটের চর্বি কমানো যায়

 কিভাবে ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ ছাড়া পেটের চর্বি কমানো যায়

 পেটের চর্বি কমে পেটকে সুন্দর করার জন্য ব্যায়াম এক্সারসাইজ তো অনেক রয়েছে। কিন্তু কোন ধরনের খাবার গুলো খেলে দ্রুতগতিতে পেটের মেদ কমতে সাহায্য করবে সেটা নিয়ে আলোচনা করবো।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কি কি খাবার আমাদের রাখা উচিত। কোন সময় কিভাবে কখন খাওয়া উচিত।

 সকালের খাবার

সকালে যখন ঘুম থেকে উঠছেন তারপরে চেষ্টা করুন এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে অর্ধেক লেবু এবং সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে খাওয়ার। এটি একটি ওয়েট লস্ট ড্রিংক।এটি ভীষণভাবে সাহায্য করবে আপনার পেটের চর্বি কমাতে। এবং শরীরের জন্য কিন্তু উপকারী।এরপরে কিছুক্ষনের মধ্যে চেষ্টা করুন আরো এক থেকে দুই গ্লাস পানি খেয়ে নেওয়ার। 

আরও পরুনঃ  কিভাবে পেটের চর্বি কমানো যায় 

এবারে নরমাল পানি আপনি নিতে পারেন উষ্ণ গরম পানি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।। তারপরে আপনার ব্রেকফাস্ট করুন এটা যদি আর্লি মর্নিং হয় যেমন ৬ থেকে ৭ টার মধ্যে তাহলে আপনার ব্রেকফাস্ট টা চেষ্টা করুন আটটা সাড়ে আটটার  মধ্যে কমপ্লিট করে নেওয়ার। তারমানে সকালে পানি খাওয়ার একঘন্টা পরে চেষ্টা করবেন ব্রেকফাস্ট করার। 

সকালের নাস্তায় আমরা ধরনের খাবার রাখতে পারি

ব্রেকফাস্টে প্রোটিন যুক্ত খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এতে করে কি হবে এই ধরনের খাবার গুলো গুলো আমাদের শরীরের কিন্তু হজম করতে একটু বেশি সময় লাগে। যার কারনে আমাদের কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর খিদে পায় না। এবং বেশি খিদে যদি আমরা না পাই তাহলে কিন্তু আমাদের খাওয়াটাও কম থাকবে। যার কারণে ক্যালরি কিন্তু আমাদের শরীরে কম যাবে। 

প্রোটিন যুক্ত খাবারে কি কি ধরনের খাবার রাখতে পারি

যেমন আমরা ওটস নিতে পারি। ওটস কে আমরা সিদ্ধ কোরে কোন একটি ফল যেমন আপেল বা কলা বা খেজুর এর সাথে আমরা খেতে পারি। বা আমরা বার্লি খিচুড়ি তৈরি করে খেতে পারি। বা আমরা বেসনের সঙ্গে নানা রকমের সবজি মিশিয়ে চিলা তৈরি করে খেতে পারি। বা আমরা পনিরের কোন তরকারি রাখতে পারি। 

যদি আমরা রুটি খাই তাহলে অবশ্যই গমের আটার রুটি খাব। এবং ময়দাটা পুরোপুরি এভয়েড করব। এবং রুটির সাথে চেষ্টা করতে হবে এক থেকে দুই বাটি তরকারি রাখার। যারা ডিম খেতে ভালোবাসেন ডিম খেতে পারেন। একটি থেকে দুটি ডিম সিদ্ধ করে নিতে পারেন। চাইলে আমরা ডিমের ওমলেট তৈরি করে খেতে পারি। 

আরও পরুনঃ অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা করার নিয়ম 

কোন একটা ফল ও রাখতে পারি। যেকোনো ধরনের ফল রাখা যেতে পারে। যে ধরনের ফল বাড়িতে অ্যাভেলেবল আছে সেই ধরনের ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাইরের বিদেশি ফল কিনার কিন্তু কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের লোকাল  যেই ফলগুলো হয় সেইগুলোই নেওয়ার আমরা চেষ্টা করব। 

আপেল খেতে পারি, একটি থেকে দুটি ছোট সাইজের কলা আমরা নিতে পারি। বা শসা আমরা খেতে পারি, পেয়ারা আমরা খেতে পারি, যখন যেই  রকম ফল থাকছে সেই রকম একটি ফল আপনাদের ডায়েট রাখার চেষ্টা করুন। এছাড়া আমরা যা করতে পারি।

 আমরা যে চিড়া হয় চিড়ার আমরা পোহা বা পোলাও তৈরি করে খেতে পারি। বা আমরা চাইলেও মুগ ডালের পড়াটা তৈরি করেও খেতে পারি। অল্প পরিমান তেল ব্যবহার করে এই পড়াটা গুলো ভাজবেন। এবং সরিষার তেল ব্যবহার করলে আরো ভালো হয়। 

মুগ ডালের যেই পরোটা যখন খাবেন তখন চেষ্টা করবেন তার সাথে এক বাটি টক দই রাখার। ঘরে পাতা টক দই হলে আরো ভালো হয়। সো এটা হল আমাদের ব্রেকফাস্ট ব্রেকফাস্টে মোটামুটি এক ঘন্টা পরে এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

দুপুরের খাবার

দুপুরে আমরা যে ধরনের খাবার খেতে পারি। দুপুরে আমরা প্রথম যখন খাবারটা খাচ্ছি যেই ধরনের খাবার আমরা খাইনা কেন, ভাত তরকারি রুটি যেটাই হোক না কেন। তার আগে আমরা চেষ্টা করব এক বাটি পরিমাণ সালাদ খেয়ে নেওয়ার। শসা বা গাজর প্রিয় তৈরি সালাদ হতে পারে, বা শুধুমাত্র শসা হতে পারে, শুধুমাত্র গাজর হতে পারে। 

কিভাবে-ব্যায়াম-বা-এক্সারসাইজ-ছাড়া-পেটের-চর্বি-কমানো-যায়

এই এক বাটি সালাদ যখন আমরা খেয়ে নিব। তখন কিন্তু আমাদের পেটটা অনেকটাই ভর্তি হয়ে যাবে। যার কারণে কি হবে, দুপুরের অনেক বেশি খাওয়ার পরিমাণটা আমরা বেঁচে যাব  মানে আমাদের পেটটা যদি ভর্তি থাকে আমরা কিন্তু বেশি খাব না কম খাব। কম খেলে কম ক্যালোরি  যাবে। 

দুপুরে আমরা কি কি ধরনের খাবার রাখতে পারি

দুপুরে আমরা নরমালি যেমন ভাত খেতে ভালবাসি। তাই আমরা ভাত রাখতে পারি। আমরা এর থেকে দুই মুঠো ভাত নিব তার সঙ্গে আমরা তরকারি নেওয়ার চেষ্টা করব। এবং আমরা যেই ধরনের খাবার যেমন মাছ বা মাছের ঝোল, ডিম হতে পারে চিকেন। 

এক থেকে দুই টুকরো চিকেন এই ধরনের খাবার আমরা দুপুরে রাখবো। এবং মাথায় রাখতে হবে দুপুরের খাবারের এক ঘন্টা আগে কিন্তু অবশ্যই এক থেকে দুই গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। 

মাঝখানে কি খাবার খাওয়া যেতে পারে

মানে সকালের খাবারের পরে, দুপুরের খাবারের আগে, মানে মর্নিং স্ন্যাক্স  বলা যেতে পারে। এই সময় যদি খিদে পায় তাহলে আমরা খাব। আর যদি খিদে না পাই তাহলে আমরা কোন কিছু খাব না। এবার যদি খিদে পাই তাহলে আমরা খেতে পারি। সকালের মতোই যে কোন একটি ফল আমরা রাখতে পারি। 

কলা হতে পারে, আতা ফল হতে পারে,বা শিতা ফল হতে পারে, কামরাঙ্গা হতে পারে, কয়েক টুকরো পেঁপে হতে পারে, কয়েক টুকরো তরমুজ হতে পারে, বা আপেল হতে পারে বেদানা বা ডালিম হতে পারে। এক থেকে দুইটি কলা হতে পারে। যেই ধরনের ফল আমাদের এরিয়াতে  পাওয়া যায় সেই ধরনের ফল আপনি যে কোনো একটি আপনি খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

আরও পরুনঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

এছাড়া আমরা এক মুঠো চিনে বাদাম হলে ভালো হয়। বা আমরা এক থেকে দু'টি খেজুর নিতে পারি। বা কিসমিস নিয়ে খেতে পারি কিছু পরিমাণ। এছাড়া আমরা করতে পারি, আমাদের যাদের অনেক বেশি পরিমাণ চা খাওয়ার অভ্যাস আছে। চা না খেলে মাথা ব্যথা করে তারা আমরা চাও নিতে পারি। 

কিন্তু চা খেতে চেষ্টা করুন চিনি আর দুধটাকে এভোয়েড করার।হারবাল ট্রি হলে সব থেকে ভালো হয়। ছাড়াও সুন্দর কিছু অপশন রয়েছে, যদি ডাব খাওয়া সম্ভব হয়ডাবের পানি নেওয়া যেতে পারে বা  লেবু পানি ও খাওয়া যেতে পারে, অবশ্যই চিনি ছাড়া। সো এটা হল আমাদের মিড মর্নিং। 

বিকালের খাবার

বিকাল বেলাটা হয় একটু উল্টাপাল্টা খাবার আমাদের খাওয়া হয়ে যায়। তেলে ভাজা, সিঙ্গারা, চপ এই ধরনের খাবার গুলো বেশির ভাগ সময় খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু যখন আমাদের উদ্দেশ্য পেটের চর্বি কমানো তাও একটু দ্রুত গতিতে।তখন কিন্তু এই ধরনের খাবারগুলো আমরা অভয়েড করব। 

সিম্পল আমরা কিছু খাবার রাখতে পারি লাইট খাবার। যদি খিদে পাই অবশ্যই যেমন আমরা যেকোন একটা ফল আমরা নিতে পারি। আমরা যারা মুড়ি খেতে ভালবাসি চাইলে এক বাটি পরিমাণ সাদা মুড়ি খাবেন অন্য কোন কিছু মিশে খাওয়ার কিন্তু প্রয়োজন নেই। 

আরও পরুনঃ তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন  

আবার গুড মর্নিং এর মত কিন্তু এখানে চা নেওয়া যেতে পারে। অবশ্যই এই জায়গাটায় কিন্তু নরমাল কোন চানা নিয়ে হারবাল কোন একটি ট্রি নেওয়ার চেষ্টা করব।যেমন হতে পারে আদা দিয়ে চা, হতে পারে হলুদের তৈরি চা, এই ধরনের চা কিন্তু আমরা নিতেই পারি। সেটা কিন্তু  আমাদের হেলথ ফুলও হবে আমাদের পেটের চর্বি কমানোর জন্য। 

রাতের খাবার

রাতের খাবারটা চেষ্টা করুন রাত্রি আটটা থেকে নয়টার মধ্যে কমপ্লিট করে নেওয়া। এবং তে খাবারটা কিন্তু খুবই লাইট রাখতে চেষ্টা করুন। যখন উদ্দেশ্য খুব দ্রুত গতিতে চর্বি কমানো তখন কিন্তু সব থেকে ভালো হয় সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন চুপ আমরা সুপ  রাখতে পারি। 

কিভাবে-ব্যায়াম-বা-এক্সারসাইজ-ছাড়া-পেটের-চর্বি-কমানো-যায়

ভেজিটেবল রাখতে পারি, চাইলে চিকেন সুপোও কিন্তু খাওয়া যেতে পারে। এবং বাকি দিনগুলোতে কি হতে পারে আমরা খিচুড়ি খেতে পারি। আমরা বাটি পরিমাণ খিচুড়ি খেয়ে নিলাম। আর যারা মনে করছেন রুটি খাবেন, তাহলে পাতলা একটি বা দুটি রুটি খান তার সঙ্গে এক থেকে দুই বাটি সবজি খেয়ে নিন।

 এবং রাতে খাবার খাওয়ার পর আর কিছুই কিন্তু খাওয়ার প্রয়োজন নেই। সো  এই হল সারা দিনের ডায়েট প্ল্যান সকাল, মিড মর্নিং, দুপুর, ইভিনিং, রাতে কি ধরনের খাবারগুলো খাওয়া যায় এখানে সবগুলোই আপনাদেরকে বলে দেওয়া হয়েছে।

শেষ কথাঃ কিভাবে ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ ছাড়া পেটের চর্বি কমানো যায়

প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় উপরে উল্লেখিত নিয়ম গুলো যদি আপনি ফলো করতে পারেন তাহলে কোন প্রকার এক্সারসাইজ ছাড়াই পেটের চর্বি কমাতে পারবেন খুব সহজে। আশা করি উপরে উল্লেখিত কন্টিনিটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। আপনারা যে খাবারগুলো খাবেন সেগুলোর নিয়মমাফিক এবং পরিমাণ মতো খাবেন। মনে রাখবেন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নই।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url