বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
ভিটামিনের উৎস বলতে শাকসবজিকেই বোঝাই। পুষ্টি গুনে ভরা এই শাকসবজি আমরা প্রায় ১২ মাস খেয়ে থাকি। তবে আমরা জানি না কোন ধরনের শাকসবজিতে কোন ধরনের পুষ্টিগুণ আছে ।
এবং কি পরিমাণে রয়েছে। যদি জানতাম তাহলে মাছ মাংস ছেড়ে দিয়ে শাক-সবজি খেতাম আসুন জেনে নেই কি ধরনের শাকসবজিতে কি ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে
সূচিপত্রঃ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
শাকসবজি বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। শাকসবজি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত শাকসবজি খেলে এটি যেমন আপনার শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে, পাশাপাশি শরীরকে নানা রকম অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরকে সুস্থ রাখবে।
বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকার এবং পুষ্টিগণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। শুধুমাত্র প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য আমাদের মাছ-মাংস খেতে হবে। তাছাড়া বাকি সকল পুষ্টি উপাদানের সবগুলো রয়েছে ভেতরে ব্যাপক পরিমাণে।
পালং শাক
পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, এবং আয়রন। পালং শাক খেলে মানব শরীরে রক্তের আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। পালং শাক অন্ত্রের ভিতরে জমে থাকা মল পরিষ্কার করে ভেতর থেকে বের করে দিতে তা করে। বিশেষ করে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের জন্য এই পালং শাক অনেক উপকারী।
কচি পালং পাতার রস ফুসফুসের সমস্যা, কণ্ঠনালীর সমস্যা এমনকি শরীরের জ্বালাপোড়া সমস্যাও দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীরের কোথাও পুড়ে গেলে, ঘা হলে ব্যাথাজনিত শরীরের কোন স্থানে কালো দাগ হলে বা ব্রণ হলে টাটকা পালং শাকের পাতা বেটে রস করে তার প্রলেপ লাগালেও পাওয়া যায়।
শুধু পালং শাক কিংবা পালঙ্ক পাতাতেই নয় পালং শাকের বীজে ও রয়েছে অনেক উপকারী গুন। পালং শাকের বীজ দিয়ে কৃমি জনিত সমস্যা এবং মূত্র জনিত সমস্যারও চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
করলার যত উপকারিতা
করলা কারো কারো পছন্দ না হলেও এটি একটি খুব পুষ্টিকর খাবার। করলা আমরা সাধারণত ভাজি করে খেয়ে থাকি এছাড়া অনেকে ভর্তাও খায় করলার। করলাতে রয়েছে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেল। করোলা তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা পালং শাকের থেকে দ্বিগুণ।
এবং প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে যা কলার থেকে দ্বিগুণ। এছাড়া যাদের স্কিনের সমস্যা রয়েছে কিংবা যাদের এলার্জি রয়েছে তাদের জন্য করলার রস অত্যন্ত উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করোলা একটি উত্তম খাবার করলা রক্তে ইনসুলিন রেসিস্টেন্ট বাড়িয়ে দেয়। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আরও পরুনঃ কিভাবে পেটের চর্বি কমানো যায়
এছাড়া করোলাতে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জা ত্বককে ভালো রাখে এবং চুলকে স্বাস্থ্যজ্জল রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বিশেষ করে যারা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগছেন তাদের জন্য করলা হোতে পারে অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি।
তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় করলার ভাজি কিংবা করলার সবজি রাখা অত্যন্ত জরুরী তবে খেয়াল রাখতে হবে প্রতিদিন যেন দুটোর বেশি না হয়। করলাতে ইনহেন মিনটেক কম্পাউন্ড আছে যা যা আমাদের কৃমি নাশক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া রয়েছে ভিটা ক্যারাটে যা চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
শসার যত পুষ্টিগুণ
শসার রয়েছে অনেক গুন। সারা বিশ্বে যে সকল সবজিগুলো চাষাবাদ হয় সেই সবজিগুলোর ভেতরে শসার অবস্থান চতুর্থ নাম্বারে। শসা দিয়ে রূপচর্চা এবং মেদ কমানোর উপযোগিতা রয়েছে। শসা কে আপনি পানির বিকল্প হিসেবে ও ব্যবহার করতে পারেন কারণ শসাতে রয়েছে 90% পানি। এটি দেহের পানি শূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে।
কখনো যদি শরীরের অভ্যন্তরে পায়ের তলায়, হাতের তালু কিংবা শরীরের কোন অংশ জ্বালাপোড়া করে তাহলে একটি শসা খেয়ে নিন। শুধু শরীরের ভেতরে নয় সূর্যের তাপে যদি আপনার শরীরের বাহ্যিক কোন অঙ্গ জ্বালাপোড়া করে তাহলে শসা কেটে কিংবা ব্লেন্ড করে লাগিয়ে নিন নিশ্চয়ই উপকার পাবেন। কেননা শসা দেহের ভেতরের এবং বাইরের তাপ শোষণ করে।
শসায় রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, এবং উচ্চমাত্রার সিলিকন যা ত্বকের যত্নে বিশেষ কাজ করে। কাজেই যারা প্রাকৃতিকভাবে রূপচর্চা করতে চান তারা গোসলের আগে শসার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও স্বর সাথে উচ্চ মাত্রায় পানি এবং নিম্নমানের ক্যালরি থাকার কারণে যারা শরীরের ওজন কমাতে চান তাদের জন্য শসা একটি বিশেষ টোটকা হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়াও কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে হজমজনিত সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। শসায় ছিকো ইসোলারে ছেরে রেসি নল, ল্যারি সি রেসিনল, এবং পিনো রেসিনল এই তিন ধরনের আয়ুর্বেদিক উপাদান রয়েছে। যা জরায়ু, স্তন, ও মুত্রগ্রন্থি সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
পেঁপের যত উপকারিতা
পেপে আমরা কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাচ্ছি, আবার সেটা পাকলে ফল হিসেবে খাচ্ছি। সর্ব প্রথমে পেঁপে যে উপকারটি আমাদের করে থাকে সেটি হচ্ছে পেতে আমাদের হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। হৃদপিন্ড ভালো রাখে, কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ভালো রাখে। পেপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, এবং ভিটামিন সি।
এবং পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা আমাদের কার্ডিও ভাস্কুলার সিস্টেমের যত ধরনের বর্জ্য আছে, আবর্জনা আছে যেটাকে আমরা বলি কোলেস্টেরল, এই দূষিত কোলেস্টরেল টাকে শরীর থেকে নিঃসরণ করে বের করে দেয় । দেহের গুড কোলেস্টেরলকে বাড়িয়ে দেয় এবং খারাপ কোলেস্টেরলকে ব্লাড থেকে আলাদা করে নিষ্কাশন করে দেয়।
আরও পরুনঃকলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা করার নিয়ম
এটি আমাদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে ভালো রাখে। কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। যা আপনার পায়খানার মুখ থেকে পায়খানার দ্বার পর্যন্ত নালীটাকে পরিষ্কার রাখবে। পেপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
এছাড়াও পেঁপেতে আরো রয়েছে এন্টি ক্যান্সারার প্রপার্টি যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে রয়েছে ফাইটো নিউটন, ও লাইকোপেন রয়েছে। এই দুটি উপাদান থাকার কারণে এটা আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে বিশেষ করে বেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার। এছাড়াও পেঁপে ডায়াবেটিস কমাতে সহায়তা করে।
লাল শাকের উপকারিতা
লাল শাক আমাদের অনেক উপকার করে থাকে এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযা আমাদের শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে রয়েছে ভিটা ক্যারোটিন যা আমাদের স্ট্রোকের ঝুঁকিকে কমায় এবং হাটকে সুস্থ রাখে। লাল সাকে রয়েছে ভিটামিন সি, যেহেতু ভিটামিন সি রয়েছে সেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
লাল শাক আমাদের শরীরের রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে তারপরে আমাদের শরীরে রক্তশূন্যতা দূর হয়। এছাড়াও লাল শাক আমাদের কিডনির কর্ম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে কিডনিকে ডেমেজর হাত থেকে রক্ষা করে। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমতে দেয় না। লালশাক অতিরিক্ত কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও পরুনঃমধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
এটি আমাদের হৃদপিণ্ড কি শক্তিশালী করে, মস্তিষ্কে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে, পাশাপাশি এটি আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে হ জমে সহায়তা করে। চুল পড়া সমস্যা দূর করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে।
যেহেতু লাল শাকের অনেক উপকারিতা এবং গুণাগুণ রয়েছে সেহেতু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প হলেও লাল শাক অত্যন্ত প্রয়োজন । এবং নিয়মিত লাল শাক খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে,যা আমাদেরকে অনেক বেশি সুস্থ রাখবে এবং অধিক পরিমাণে কর্মক্ষম করে তুলবে।
পুষ্টি গুনে ভরা পুঁইশাক
পুইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, এবং ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ পুঁইশাক। পুইশাকে ছেপোলিন নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লুয়মেন্টরি উপাদান শরীরের কোথাও আঘাত জনিত ব্যথায় এই পুঁইশাকের শেখর বেটে সে স্থানে লাগিয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
পুইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আস, যেটা আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে বিশেষ করে যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তাদের জন্য পুই শাক হতে পারে একটি বিশেষ সবজি। পুইশাক আমাদের প্রসবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
শরীরের বিভিন্ন ধরনের খোঁজ পচরা এবং চুলকানিতে এই পুঁইশাক দারুন উপকার করে। পুইশাকে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। এবং ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং আপনার চুল কেউ অনেক মজবুত করে তোলে।
পুইশাক দেহের বর্জ্য সঠিকভাবে নিঃসরণ করে যা এসিডিটি, গ্যাস, বদ হজম সহ অনেক সমস্যা দূর করে। যে শাকের এত গুণ আর চাইলেও মিলছে হাতের কাছে তাহলে পুইশাক আমাদের খাওয়া উচিত প্রতিনিয়ত। আমাদের দেশের লাল এবং সাদা দুই ধরনের পুঁই পাওয়া যায়। এটা শীতকালীন সবজি হলেও বছরের প্রায় সব সময় পাওয়া যায়।
শেষ কথা : বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
বিভিন্ন প্রকার শাকসবজির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের শরীরের যে সকল পুষ্টি ও ভিটামিনের প্রয়োজন তার বেশিরভাগই মিলে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি থেকে।এ সকল শাকসবজি আমাদের হাতের কাছেই মেলে, তবুও আমরা কলা খাইনা।
আমরা খাই না তার কারণ আমরা জানি না আসলে এগুলোতে কি পরিমাণে পুৃষ্টিকোণ রয়েছে। আশা করি উপরের কন্টেনটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন শাকসবজি কতটা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। তাই আসুন আমরা চেষ্টা করি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প কিছু হলেও শাকসবজি রাখি।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url