ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে

ত্বক সুন্দর রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোন বিকল্প নেই। যতই পার্লারে যান আর কেমিক্যাল ব্যবহার করেন,  ত্বকে যদি ভেতর থেকে পুষ্টি না পাই।

ত্বক-সুন্দর-রাখতে-কোন-ধরনের-খাবার-খেতে-হবে

তাহলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মাধুর্য খুব বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই আসুন জেনে নেই কোন ধরনের খাবার আমাদের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। 

সূচিপত্রঃ  ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে

ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে

লাল রংয়ের ফল এবং সবজি

বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং সিডস

সবুজ রঙের ফল বা শাক

কমলা রঙের সবজি ও ফল

ডালিম, ডিম, মাছ এবং মুরগির মাংস

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া

শেষ কথা 

ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে

ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে আমাদের জানা দরকার। বিশেষ করে যারা কিনা ত্বক সুন্দর রাখতে চান। বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ত্বক সুন্দর রাখতে পারেন। তার মধ্যে ছয় ধরনের খাবারের কথা এখানে বলবো যা  ত্বককে  উজ্জ্বল রাখতে,ব্রণ মুক্ত রাখতে, এবং রোদে পোড়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।আর এই গুলো পুরুষ এবং মহিলা সবার  ত্বকের জন্য প্রযোজ্য। 

লাল রংয়ের ফল এবং সবজি

টমেটো, তরমুজ, পাকা পেঁপে, লাল শাক, ডালিম এগুলোতে আছে লাইকোপিন নামে একটা উপাদান।যেটা ইন্টারনাল সান-ব্লকার হিসেবে কাজ করে। এটা স্কিনের উজ্জ্বলতা কমায়। আমাদের কোলাজেন ড্যামেজ করে স্কিনের ইলাস্ট্রি সিটি কমিয়ে দেয়। এতে করে ত্বকের বয়সের ছাপ বেড়ে যায়। 

আরও পরুনঃ ব্রণ কমান খুব সহজে নিয়মগুলো  ফলো করুন 

তাই সুন্দর এবং সুস্থ ত্বকের  জন্য স্কিনকে রোদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা খুব ইম্পর্টেন্ট। তাই লাল রঙের ফল ও সবজি যেটা যেই সিজনে পাওয়া যায়। সেগুলো রেগুলার খেলে আমাদের রোদের ক্ষতি প্রতিরোধ করার ইন্টারনাল ক্ষমতা বাড়বে। আর টমেটো যদি রান্না করে খাওয়া হয় তাহলে আমাদের উপকারটা বেশি হবে।তাই আমরা রান্নার সময় তরকারিতে বা ডালে  টমেটো দিয়ে খেলে উপকারটা আরো বেশি পাব।

বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং সিডস

যেমন কাঠ বাদাম,চিনা বাদাম, কাজু বাদাম,আর সিডসের মধ্যে হল চিয়া সিড, ফ্লাক্স সিড,পাম কিন সিড এগুলোতে আছে স্বাস্থ্য কর ফ্যাট আর ভিটামিন ই। প্রতিদিন এয়ার পলিউশন এবং ধুলো বালি থেকে স্কিনে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়। এবং ত্বকের অক্সিডেন্ট হয়।যার কারনে স্কিন ড্যামেজ হয়। 

এবং ত্বক  দেখতে  নিস্তেজ লাগে চামড়ায় ভাজ পরে। ভিটামিন ই এর ফ্রী রেডিক্যালস ধ্বংস করে ত্বককে অক্সিডেন্ট থেকে প্রটেক্ট করে।বাদাম এবং সিডসে আছে এমন প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যেগুলো ত্বকে অক্সিডেন্ট থেকে প্রোটেক্ট করে। বাদাম এবং সিডসে আরো আছে জিংক। 

যা আমাদের ত্বককে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সাথে ফাইট করতে সাহায্য করে। এই জন্য   ত্বকে ব্রণ, লাল দাগ মুক্ত করতে বাদাম এবং সিডস খাওয়া ভীষণ কার্যকারী। তবে বাদাম কিন্তু একসাথে অনেক গুলো খাওয়া ঠিক হবে না। কারণ বাদামে খুব হাই ক্যালোরি থাকে।

 তাই দিনে একমুঠো বা পাচঁ থেকে দশটার বেশি না খেলেই ভালো। আর চিয়া সিডস বা ফ্ল্যাক্স সিডস এক চামচ করে দুধের সাথে, জুসের সাথে, ওটস এর সাথে বা এটা সালাতের সাথেও খেতে পারেন। 

সবুজ রঙের ফল বা শাক

এর মধ্যে আছে পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম,এবং সব ধরনের সবুজ শাক। এগুলোতে আছে ভাল পরিমানে ভিটামিন সি।  যা আমাদের কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়াতে সাহায্য করে। কোলাজেন আমাদের শরীরের প্রোটিন। 

ত্বক-সুন্দর-রাখতে-কোন-ধরনের-খাবার-খেতে-হবে


কোলাজেন এসেছে গ্রিক শব্দ কোলা থেকে যার আক্ষরিক অর্থ হল আঠা। কোলাজেন অনেকটা আঠার মতই। আমাদের একটা টিস্যু আরেকটা মধ্যে আটকে রাখে। এতে করে স্কিন টাইট থাকে মানে চামড়া  ঝুলে পড়ে না। এক কথায় আমাদের স্কিন ইয়াং লুকিং কোলাজেন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 আর সবুজ ফল ও শাঁকেও আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এছাড়াও এগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ত্বককে দাগ মুক্ত করতে সাহায্য করে।এর সাথে পালং শাকের কথা না বললেই নয়। কারণ পালং শাকে কিন্তু প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেলস রয়েছে যা আমাদের স্কিন সুন্দরের জন্য খুব উপকারী।

কমলা রঙের সবজি ও ফল

যেমন গাজর, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, পাকা আম এগুলোতে আছে ভিটা ক্যারোটিন। যা দেয় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ আমাদের  একটা গ্লোয়িং স্কিন দেয়। এছাড়াও রোদের ক্ষতি থেকেও সুরক্ষা করতে আমাদের সাহায্য করে। 

আরও পরুনঃ সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রতিদিন ত্বকের যত্ন

আর ভিটামিন এ এর অভাব হলেও স্কিন ড্রাই হয়ে যায়। আর ত্বকে ব্রণ এবং একনির প্রবলেম দেখা দেয়।অনেক স্কিন ক্রিম কসমেটিকসের এংরিডিয়ানসের লিস্টে দেখবেন ভিটামিন এ ভিটামিন ই এই গুলো থাকে।

তবে লং টাইম ইফেক্ট এর জন্য আমাদের খাবারের মাধ্যমে ভেতর থেকে নরিস করতে হবে। এতে করে নতুন স্কিনের তৈরি সময় শরীরে ভেতরের বায়ু কেমেস্ট্রিতে পরিবর্তন আসবে। এতে লং টাইম ন্যাচারালি গ্লো স্কিন মেনটেন করা যাবে। 


ডালিম, ডিম, মাছ এবং মুরগির মাংস

এগুলোতে আছে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন যা সুস্থ এবং সুন্দর স্কিন গঠনে প্রয়োজন।এছাড়াও এগুলোতে আছে  কিছু অ্যামিনো এসিডস যা ভিটামিন সি এর পাশাপাশি কোলাজেন তৈরির জন্য খুবই ইম্পোর্টেন্ট। 

বয়সের সাথে সাথে আমাদের দেহে কোলাজেন প্রোডাকশন কমে যায়। তাই কোলাজেন তৈরির উপাদান গুলো খাবারের মাধ্যমে রেগুলারলি সাপলাই করা খুবই জরুরী।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া ভালো স্কিনের জন্য এসেন্সিয়াল। ডিহাইড্রেশন হলে ত্বকের কোমলতা কমে যায়, স্কিন ড্রাই হয়ে যায়,দেখতে নিস্তেজ  লাগে। এছাড়াও পানি খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান এ্যাডজার্ভ করতে সাহায্য করে।সেই সাথে অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যাল শরীর থেকে দূর করে। 

এবং ব্লাড সার্কুলেশন ঠিক রাখে। তাই আমাদের সবার উচিত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া। সুন্দর ত্বকের বিষয় একটা জিনিস নিশ্চিত সেটা হচ্ছে। আমরা যা খাই সেটার পুরোপুরি প্রভাব আমাদের ত্বকের উপরে পড়ে।

ত্বক-সুন্দর-রাখতে-কোন-ধরনের-খাবার-খেতে-হবে

তবে কোন খাবারি রাতা রাতি ত্বকের পরিবর্তন করবে না। আমাদের ত্বকের পুরান কোষ ঝরে নতুন কোষ তৈরি হয় এবং পুনরায় স্কিন থেকে নতুন স্কিনের লেয়ার বের হতে ছয় থেকে আট সপ্তাহের মতো সময় লাগে। 

তাই যেই খাবার গুলোর কথা এইখানে বলা হয়েছে। সেগুলো থেকে যেটা যখন এভেলেবেল থাকে সেগুলো রেগুলারলি খেলে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আর সাথে সেই টিপসগুলো খুব  হেল্প করবে তার মধ্যে।

প্রথমে হচ্ছে,

ফেস বারবার টাচ না করা।কারণ আমাদের হাতে অনেক রকম রোগ জীবাণু থাকে যা ত্বকের অনেক ক্ষতি করে। ফেস টাচ করতে হলেহাত আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। আর বাইরে থেকে আসার পর সোপ বা ফেসিয়াল ক্লিনজার দিয়ে ফেস ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যাতে স্কিনের ময়লা রোগ জীবাণু দূর হয়ে যায়। 

দ্বিতীয়তো হচ্ছে, 

রেগুলারলি এক্সারসাইজ করা কারণ এক্সারসাইজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে। যেটা স্কিনে অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেয়। 

তৃতীয়তো,

সব থেকে প্রয়োজনীয় হচ্ছে ঘুম।প্রতি রাতে ৭-৯ ঘন্টা ঘুম স্কিনের অনেক উপকার করে। ঘুমের সময় স্কিনে যে বিভিন্ন ধরনের ড্যামেজ গুলো হয় সেগুলো রিপ্রেয়ার হয়। স্কিনে কোলাজেন তৈরি হয়। স্কিনে গ্লো  বৃদ্ধি পায়। ঘুম কম হলে স্কিনের   ব্লাড ফ্লো কমে যায়। এতে ত্বক একদম মলিন এবং নিস্তেজ দেখায়।

শেষ কথা :তক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে 

উপরে উল্লেখিত শাকসবজি এবং বিভিন্ন প্রকারের কাঁচা এবং পাকা বিভিন্ন রঙের ফল আমাদের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে সিজনাল যে সকল ফল পাওয়া যায় যেমন আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ এগুলো বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

 আর ১২ মাস যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো তো খাবেনই। ত্বক সুন্দর রাখতে কোন ধরনের খাবার খেতে হবে আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এইরকম আরো নতুন নতুন তথ্য পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট কিছুক্ষণ ডট কম এ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url